শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৫০

ট্রেন থেকে নামিয়ে কিশোরী গণধর্ষণের আসামি গ্রেফতার

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় এক কিশোরীকে (১৫) ট্রেন থেকে নামিয়ে গণধর্ষণের প্রধান আসামি নুরু মিয়াকে (৪০) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। নুর মোহাম্মদ নুরু মিয়া কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের তালুক বানিনগর এলাকার মজিবর রহমান মজির ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা এলাকার ওই কিশোরী গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় লালমনিরহাটগামী আন্তনগর করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনে কাউনিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। ট্রেন কালীগঞ্জের কাকিনা স্টেশনে দাঁড়ালে কিশোরী নাস্তা করতে নামে। এ সময় রকি (২২) নামে পরিচয় দিয়ে অটোরিকশা চালক কিশোরীর কাছে জানতে চায়- সে কোথায় যাবে। তখন মেয়েটি তাকে কাউনিয়া যাবে বলে জানায়। রকিও নিজেকে কাউনিয়ার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। এরই মধ্যে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেলে রকি অটোরিকশায় করে মেয়েটিকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর রকি ওই কিশোরীকে নিয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মধ্যরাতে একটি সেচপাম্পের নির্জন ঘরে যায়। সেখানে রকি ও তার তিন বন্ধু মিলে কিশোরীকে গণধর্ষণ করে। বিষয়টি দেখে ফেলে অপর একটি গ্রুপের তিন যুবকও কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পরে অসুস্থ অবস্থায় কিশোরী পথ ভুলে চলার পথে স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মেয়েটি তাদের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। তারপর স্থানীয়দের সহায়তায় এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয় মেয়েটি। ৮ অক্টোবর রাতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতব্বররা বৈঠকে বসে ধর্ষণকারী যুবকদের শনাক্ত করে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা আদায় করেন। তবে কিশোরীর অভিযোগ, টাকাগুলো তাকে না দিয়ে নিজেদের পকেটেই রাখেন মাতব্বররা।

পরে ৯ অক্টোবর রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে কিশোরী কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আশ্রয় নেয়। প্রেস ক্লাবে ঘটনার রোমহর্ষক এ বর্ণনা শুনে সাংবাদিকরা থানায় জানান। এর পরপরই কিশোরীকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এবং পরে মেয়েটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত করে ওই দিন রাতেই মূল হোতা অটোচালক রকিকে আটক করে। রকির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই কিশোরী বাদী হয়ে সাতজন ধর্ষক, ইউপি সদস্যসহ ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও চার/পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা নেয় পুলিশ। এর পরেই বাকি আসামিরা গা-ঢাকা দেয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর