শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪১

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
মিরপুরে গতকাল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে -বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজধানীর পল্লবীতে সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সময় দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

গতকাল সকাল ১০টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) অভিযানের শুরুতে হামলা করেন অবৈধ দখলদাররা। এ অবস্থায় প্রথমে  ডিএনসিসির উচ্ছেদ টিম পিছু হটলেও পরে ঘুরে দাঁড়ায়। শতাধিক পুলিশ, স্থানীয় কাউন্সিলর এলাকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পিছু হটতে শুরু করে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর অবৈধ দখলরা পিছু হটেন। দখলদারদের হটিয়ে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ৩ নম্বর এভিনিউয়ের ৪ নম্বর সড়কের কয়েক শতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে ডিএনসিসি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। দুই পক্ষের এ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ওই এলাকার সড়ক পরিদর্শন করেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। অবৈধ দখলদার হটাতে জীবনবাজি রেখে দখলদারদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মী ও এলাকাবাসীকে নিয়ে রুখে দাঁড়ান ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুর রউফ নান্নু। জানা গেছে, সকাল ১০টায় পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ৩ নম্বর এভিনিউয়ের ৪ নম্বর সড়কের নান্নু মার্কেট সংলগ্ন চার রাস্তার মোড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযান শুরুর পরপরই দখলদাররা সংঘবদ্ধভাবে ডিএনসিসি উচ্ছেদ টিমের ওপর হামলা করে।

দখলদারদের প্রতিরোধ করার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ না থাকায় পিছু হটেন তারা। এ সময় দখলদাররা ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিক্ষেপ করে। এ সময় হামলাকারীরা বুলডোজারের গ্লাস ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 ১০টার পর থেকে বেলা প্রায় ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় দখলদার ও ডিএনসিসির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বেলা ১১টার দিকে ডিএনসিসির স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুর রউফ নান্নু ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দখলদারদের ধাওয়া করেন। পুলিশ, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক কর্মীসহ স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে বেলা ১১টার পরপর দখলদাররা পিছু হটেন।

সরেজমিন এবং ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দখলদারদের হটিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার পর পুনরায় অভিযান শুরু হয়। এ সময় মোহাম্মদীয়া ও নিউ সোসাইটি মার্কেট, একটি দুই তলা বাড়িসহ শতাধিক দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। বিরতিহীনভাবে বেলা ৫টা পর্যন্ত পল্লবীর ১১ নম্বরের তালতলা বস্তি সড়কের সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে ডিএনসিসি পল্লবীর সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে। কিন্তু কিছু মানুষ নিজেদের কথা চিন্তা করে উচ্ছেদে বাধা দিচ্ছে। এভাবে বাধা দিয়ে কেউ জনগণের সড়ক দখলে রাখতে পারবে না। দখলদার যেই হোক না কেন, জনস্বার্থে তাদের অপসারণ করা হবে।


আপনার মন্তব্য