শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৫

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে হত্যা মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

ফরিদপুর প্রতিনিধি

হত্যা মামলার আসামি ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মো. সাজিদুল ইসলাম সজিদকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের ঝিলটুলী মহল্লার জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ কে আজাদের বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ছোটন বিশ্বাস (২৮) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাজিদুল ইসলাম সজিদ। গতকাল ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে তাকে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড শুনানির দিন পরে ধার্য করার আদেশ দিয়ে সজিদকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই রাত ৯টার দিকে ৪০-৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে অবস্থিত ঢাকা বাস কাউন্টারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে ও কুপিয়ে ওই

কাউন্টারের চার কর্মী অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. কামাল শেখ (২৭), ছোটন বিশ্বাস (৩২), লাবলু শেখ (২৫) ও নয়ন শেখকে (২০) জখম করে। আহত ছোটনকে পরদিন দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুলাই দিবাগত রাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান। ছোটন বিশ্বাস যুবলীগ কর্মী ছিলেন। তিনি ফরিদপুর সদরের রঘুনন্দনপুর খ্রিস্টান মিশন মহল্লার মৃত বিরেন বিশ্বাসের ছেলে। এ ঘটনায় ওই কাউন্টারের মালিক অম্বিকাপুর ইউনিয়নের উত্তর শোভারামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ছিল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহরের অম্বিকা হলে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে নেতারা শহরের ঝিলটুলীতে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ কে আজাদের বাড়িতে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই বাড়ির দক্ষিণ পাশের গেট থেকে সাজিদকে আটক করে পুলিশ। এ খবর শুনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এ কে আজাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে গেটের কাছে আসেন। তখন সাজিদকে পুলিশের গাড়িতে ওঠানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে টানাহেঁচড়া চলছিল। একপর্যায়ে পুলিশ সাজিদকে ছেড়ে দেয়। তবে পুলিশ সাজিদকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নেতাদের তাগিদ দিতে থাকে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাজিদের বাবা শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া খান এসে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শহীদুল ইসলাম বলেন, ছোটন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাজিদ। তবে তিনি ভাড়াবাড়িতে থাকায় এবং এজাহারে তার বাবার নাম না থাকায় এত দিন তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক নাভিদ আল হাসান বলেন, ‘সাজিদের নামে মামলা আছে তা এত দিন আমরা জানতাম না।’

 সে এত দিন দিব্যি শহর দিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু নবগঠিত জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পরই সাজিদকে গ্রেফতার করা হলো। এ গ্রেফতারের পেছনে কারও ইন্ধন থাকতে পারে। ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে পত্রিকায় বিবৃতি দেওয়ায় হয়রানি করার জন্য সাজিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ আরেক বিবৃতিদাতা সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ ইমতিয়াজ সজল বলেন, আসিফের গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি নিজেও শঙ্কিত। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তাকেও কোনো মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হতে পারে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর