শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৭

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে কৃত্রিমভাবে ফুটল উটপাখির ছানা

গাজীপুর প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে কৃত্রিমভাবে ফুটল উটপাখির ছানা

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে এত দিন প্রাকৃতিক পরিবেশে উটপাখি ডিম দিয়ে তাতে তা না দেওয়ায় নষ্ট হয়ে যেত। উটপাখির ডিম থেকে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ১টা, ৬ জানুয়ারি ২টা, ৭ জানুয়ারি ১টাসহ ৪টি ছানা পাওয়া গেছে। ডিম দেওয়ার পর এ মৌসুমেই নজরদারি করায় প্রাকৃতিকভাবে আরও ৬টি ছানা পাওয়ার পর মোট ১০টি ছানার জন্ম হয়েছে। এতে দুশ্চিন্তার অবসান ঘটল পার্ক কর্মকর্তাদের। এ ছানাগুলোর বয়স এক মাস হলেও আরও কয়েক মাস এদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখার পর তা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিকভাবে বেশ কয়েকবার উটপাখি ডিম দিয়েছিল। পরে উটপাখিগুলো ডিমে পর্যাপ্ত তা না দেওয়ায় ডিম ফুটে বাচ্চার জন্ম হচ্ছিল না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন কর্মকর্তারা। পরে নিজ উদ্যোগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নোয়াখালীর সাইফুল ইসলামের তৈরি একটি ইনকিউবেটর ১৩ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। ওই ইনকিউবেটরটি পার্কে স্থাপন করে চলতি মৌসুমে উটপাখির কিছু ডিম সংগ্রহ করে ইনকিউবেটরে দেন। সেখান থেকে ৪টি ছানা ডিম ফুটে বের হয়। কৃত্রিমতার এই সফলতার সঙ্গে পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশে এ বছর আরও ৬টি ছানার জন্ম হয়েছে। চলতি বছর জন্ম হওয়া নতুন ১০টি ছানা নিয়ে সাফারি পার্কে উটপাখির সংখ্যা দাঁড়াল ১৬টিতে। তিনি জানান, একজন জুনিয়র ওয়াইল্ড স্কাউট সমীর সুর চৌধুরী সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে থেকে বাচ্চাগুলোর দেখাশোনা করছেন এবং সুপারভাইজার আনিসুর রহমান দিনে সাত থেকে দশবার খাবার দিচ্ছেন। একজন চিকিৎসক দিনে কয়েকবার বাচ্চাগুলোকে দেখভাল করছেন। তিনি আরও জানান, ইনকিউবেটরে ফোটা বাচ্চাগুলোকে প্রথমে উটপাখি বেষ্টনীতে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক উটপাখিগুলো নতুন বাচ্চাগুলোকে মেনে নিতে পারছিল না। বাচ্চাগুলোকে তাপ না দেওয়ায় তীব্র শীতে বাচ্চাগুলোর ক্ষতি হতে পারে এ চিন্তায় পার্কের একটি কক্ষে হাতে তৈরি ব্রোডারের বৈদ্যুতিক বাতির মাধ্যমে তাপ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

কিন্তু পর্যাপ্ত তাপের অভাবে বাচ্চাগুলোর শীতে জবুথবু অবস্থা হয়। মধ্যরাতে পার্কের ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে অপর একটি ব্রোডার কিনে এনে বাচ্চাগুলোকে বৈদ্যুতিক বাতির সাহায্যে তাপের ব্যবস্থা করা হয়।

সাফারি পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার আনিসুর রহমান বলেন, উটপাখি এক প্রকারের বৃহৎ, উড্ডয়নে অক্ষম আফ্রিকান পাখি। এদের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৩ মিটার ও ওজন ১৫০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরা দৌড়বাজ হিসেবে পরিচিত। ঘণ্টায় দৌড়াতে পারে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত। একটি উটপাখি অর্ধশতাধিক ডিম দিয়ে থাকে। একটি ডিমের ওজন হয়ে থাকে দেড় কেজি পর্যন্ত। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৬টি উটপাখি আনা হয়েছিল।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর