শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩০

রোহিঙ্গা এনআইডি জালিয়াতি ১৫ মাসেও শেষ হয়নি তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গাদের এনআইডি জালিয়াতির তদন্ত ১৫ মাসেও শেষ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কারিগরি তদন্ত কমিটি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এ সংক্রান্ত দুটি তদন্ত কমিটি করা হলেও এখনো একটি কমিটির তদন্ত কাজ শেষ হয়নি। ফলে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছে না। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর দুটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করা হয়। এর মধ্যে একটি প্রশাসনিক ও আরেকটি কারিগরি কমিটি। এদিকে গত মঙ্গলবার কারিগরি তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির আহ্বায়ককে তাগাদা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক সরওয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়- রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, একটি হলো প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি এবং অন্যটি কারিগরি তদন্ত কমিটি। প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও কারিগরি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়ায় এ সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। চিঠিতে বলা হয়েছে- নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত  হোসেন চৌধুরী কারিগরি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনসহ নথি উপস্থাপন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কারিগরি তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকাভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি বন্ধে কারিগরি ও প্রশাসনিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় দুটি কমিটি করে নির্বাচন কমিশন। ওই সময়ে বলা হয়- জালিয়াত চক্র কোন প্রক্রিয়ায় কাজটি করে তা খতিয়ে দেখা হবে কারিগরি তদন্ত দলের দায়িত্ব। ইসির সিস্টেম ম্যানেজার মো. আশরাফ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয় এই কমিটি। ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর গঠন করা আট সদস্যের এ কমিটিতে ইসির আইটি শাখা ছাড়াও আইডিইএ প্রকল্প, বুয়েট, কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

জালিয়াত চক্রের সঙ্গে ইসি বা প্রশাসনের কারা সম্পৃক্ত তা তদন্ত করে দেখার জন্য ইসির একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে গঠিত হয় সাত সদস্যের আরেকটি প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি। ওই সময় এনআইডি উইং জানায়, কারা, কীভাবে দুর্নীতি করছে- তা খুঁজে বের করবে প্রশাসনিক তদন্ত দল। দুর্নীতি রোধে কঠোর নজরদারি থাকবে। যাদের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আসবে, তা আরও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার মতামত দেবে এ কমিটি।

২০১৯ সালের আগস্ট মাসে এক রোহিঙ্গা নারী ভুয়া এনআইডি নিয়ে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর জালিয়াত চক্রের খোঁজে নামে নির্বাচন কমিশন। রোহিঙ্গা সন্দেহে আটকে দেওয়া হয় অর্ধশত এনআইডি বিতরণ। এনআইডি জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নির্বাচন কার্যালয়ের এক অফিস সহায়ককে দুই সহযোগীসহ আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ইসির চুরি যাওয়া একটি পুরনো ল্যাপটপ জব্দ করে পুলিশে দেন কর্মকর্তারা। ওই ঘটনায় চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তে নেমে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ইসির ‘কিছু’ কর্মচারী-কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পায়। এই তদন্তে নির্বাচন কমিশনের স্থায়ী চারজন ও প্রকল্পের অধীনে কর্মরত সাত কর্মচারীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। জালিয়াত চক্র ধরা পড়ার পর নির্বাচন কমিশনের দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি এ নিয়ে মাঠে নামে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর