শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২৩

সালথায় তান্ডব

পাঁচ মামলায় আসামি ১৭ হাজার, পুরুষশূন্য ৩০ গ্রাম

ফরিদপুর প্রতিনিধি

Google News

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ৫ এপ্রিলের সন্ত্রাসী তান্ডবের পর উপজেলা শহর ও সংলগ্ন বিভিন্ন হাটবাজার এখনো বন্ধ রয়েছে। দিনের বেলা কিছু লোক এলাকায় দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে রাতের বেলা পুরুষরা অনেকেই বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকছেন। সহিংসতার পর সালথা উপজেলার সালথা, সোনাপুর, রামকান্তপুর, গট্রি, ভাওয়াল, মাঝারদিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩০টি গ্রামের পুরুষরা এলাকাছাড়া। গতকাল সকালে সরেজমিন সোনাপুর, রামকান্তপুর ইউনিয়নে গিয়ে বিভিন্ন গ্রামে কোনো পুরুষ মানুষের দেখা মেলেনি। বাড়ির মহিলারা ভয়ে মুখ খোলেন না। তাদের চোখেমুখে রয়েছে আতঙ্কের ছাপ। এলাকা পুরুষশূন্য থাকায় মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ার পথে। এলাকাজুড়ে পুলিশ, ডিবি, বিজিবি টহল দিচ্ছে। এদিকে ৫ এপ্রিলের ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে পাঁচটি। এসব মামলায় ২৬১ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ জনকে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত আটক করা হয়েছে ৫১ জনকে। নিরীহদের পুলিশ আটক করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন যে চারটি মামলা হয়েছে তার একটি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বর। সালথা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনায় এ মামলা। এতে ২৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলা করেন ইউএনওর গাড়িচালক মো. হাশমত আলী। এ মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৪ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস করেছেন একটি মামলা। এ মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৪ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলাটি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানার গাড়িচালক মো. সাগর সিকদার। এ মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে বুধবার সালথা থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪ হাজার ব্যক্তিকে আসামি দেখিয়ে থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেন। উল্লেখ্য, লকডাউন না মানাকে কেন্দ্র করে ৫ এপ্রিল বিকালে সালথার ফুকরা বাজারে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এসি ল্যান্ডের সঙ্গে থাকা সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের। এর পরই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ সালথা উপজেলা পরিষদ, এসি ল্যান্ড অফিস ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

এই বিভাগের আরও খবর