শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০২১ ২৩:৩৭

এনবিআর অনলাইনের কাজ দেরি হচ্ছে কেন

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

এনবিআর অনলাইনের কাজ দেরি হচ্ছে কেন

আসছে ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের চলমান অর্থনৈতিক স্থবিরতার মধ্যেই রাজস্ব খাতের সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এনবিআরের অনলাইন বা অটোমেশনের কাজে দেরি হচ্ছে কেন? ২০১২ সালের ভ্যাট আইন চালু হলো ২০১৯ সালে। তবু ভ্যাট অনলাইনের কাজ শেষ হয়নি। আর গত শতাব্দীতে শুরু হওয়া আয়কর আইন এখনো আলোর মুখ দেখেনি। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, ‘মহামারী করোনাভাইরাসে গত বছর থেকে আমরা জরুরি অবস্থায় আছি। তবে গতবার আমরা স্বাভাবিক বাজেট তৈরি করেছিলাম। ফলে বাজেটে করোনাভাইরাসে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের পদক্ষেপ ছিল না। এমনকি স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতগুলোতে বরাদ্দ বাড়েনি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার কোনো কোনো দেশে করোনা মোকাবিলায় যে সাফল্য দেখা যাচ্ছে বা দাবি করা হচ্ছে, তাতে সেসব দেশের অর্থনীতির বিপর্যস্ততাকে আড়াল করা যাচ্ছে না। বা এটা করা হলেও তা হবে আত্মঘাতী। কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে থাকা যাবে না। আগামী বাজেটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অচল অর্থনীতিকে প্রকৃত প্রস্তাবে সচল করা। করোনা-উত্তরকালে আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যেসব উটকো ঝামেলার উদ্ভব হবে সেগুলো মোকাবিলায় আরও বেশি মনোযোগের প্রয়োজন পড়বে। চলতি বাজেটে করোনাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। আগামী বাজেটে এটি বিবেচনায় রাখার কোনো বিকল্প থাকবে না। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, আসছে বাজেট প্রস্তাবে প্রত্যক্ষ করকে এবং পরোক্ষ কর বা ভ্যাটকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হবে আবশ্যক। ভ্যাটের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে গিয়ে প্রত্যক্ষ করের (আয়কর) প্রতি মনোযোগ হ্রাস পাওয়া উচিত নয়। কেননা প্রত্যক্ষ করই কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায়। আয়কর সংস্কার ও আহরণে কার্যকর জোর পদক্ষেপ গ্রহণে গুরুত্ব আরোপের দৃষ্টিভঙ্গি নড়বড়ে হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং সম্পদের বণ্টনবৈষম্য দূরীকরণে ভ্যাটের ওপর ভরসা করা যাবে না। পরোক্ষ করের ওপর চাপ বাড়ছে। এটা যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ নয়। ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ তামাকে কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘এনবিআর কেবল কর বাড়ালেই জনগণের মধ্যে তামাকের ব্যবহার কমানো যাবে বলে আমি মনে করি। বরং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাটাও জরুরি। আবার তামাকের কর বাড়ালেও অনেক সময় দেখা যায় তামাক কোম্পানি কর ফাঁকি দেয়। এতে সরকার রাজস্ববঞ্চিত হয়। তাই কেবল কর বৃদ্ধি করাই নয়, বরং সেই কর যথাযথভাবে তামাক কোম্পানিগুলো দিচ্ছে কি না সেটিও দেখার দরকার আছে।’