শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০২১ ২৩:৩৯

এমসি কলেজে গণধর্ষণ

অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারকে বরখাস্তের নির্দেশ হাই কোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারকে বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল আংশিক গ্রহণ করে গতকাল বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। পরে নওরোজ রাসেল চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিলেটের এমসি কলেজে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, কিছু দৃষ্কৃতকারী একজন গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে, এ বিষয়টি হাই কোর্টের নজরে আনলে আদালত রুল জারি করে এবং ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘ওই কমিটির তদন্তে কলেজের অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের বিরুদ্ধেই দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া যায়। এ দায়িত্বে অবহেলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।’ শিক্ষা সচিব, আইন সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং রেজিস্ট্রারকে এ নির্দেশ প্রতিপালন করতে বলা হয়েছে বলে জানান নওরোজ। গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। পাশাপাশি ঘটনার অনুসন্ধানে যৌথ কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। চার সদস্যের অনুসন্ধান কমিটিতে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো. বজলুর রহমান, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মমিনুন নেসা, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেম ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন সুলতানা ছিলেন। পরে অনুসন্ধান কমিটি হাই কোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ষণের ঘটনায় হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। তাই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এমসি কলেজের অধ্যক্ষও কোনোভাবেই ওই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। ধর্ষণের পেছনে মূলত হোস্টেলের বর্তমান তত্ত্বাবধায়করা, হোস্টেলের মূল গেটের ডে গার্ড, ৫ নম্বর ব্লকের ডে গার্ড ও নাইট গার্ড (নৈশপ্রহরী) এবং ৭ নম্বর ব্লকের ডে গার্ড ও নাইট গার্ডের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এমসি কলেজে বেড়াতে যান এক নারী। এ সময় ক্যাম্পাস থেকে কয়েকজন ছাত্র ওই নারীকে স্বামীসহ কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা স্বামীকে বেঁধে মারধর করে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।