শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ আগস্ট, ২০২১ ২৩:৪৮

রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি

২৮ দিন পর স্বজনদের কাছে ২৪ লাশ হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সেজান জুস কারখানার ভয়াবহ আগুনে নিহতদের মধ্যে ২৪ জনের লাশ তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে উপস্থিত স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে শুরু হয় শোকের মাতম। ২৮ দিন পর প্রিয়জনের লাশ বুঝে পেয়ে স্বজনরা আহাজারি করতে থাকেন। এ সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

লাশ হস্তান্তরের সময় দাফনের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে স্বজনদের ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মীরা এবং পুলিশ মিলে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ তুলে দিয়েছেন। এর আগে, গত ৮ জুলাই সেজান জুস কারখানায় আগুনের ঘটনায় অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়। মৃত প্রত্যেক  পরিবারকে কারখানার পক্ষ থেকে আগেই ২ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, সেজান জুস কারখানা থেকে পোড়া যে ৪৮টি লাশ আনা হয়েছিল, ডিএনএ পরীক্ষায় তার মধ্যে ৪৫ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বাকি তিনটি লাশের ডিএনএ পরীক্ষার কাজ চলছে। শনাক্ত ৪৫টির মধ্যে ২৪ জনের লাশ তাদের পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২১টি শনিবার হস্তান্তর করা হবে।

৫১টির মধ্যে তিনজনের লাশ ওই সময়ই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি লাশগুলো এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে চোখে দেখে সেগুলো শনাক্ত করার উপায় ছিল না। ফলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের জন্য লাশগুলো ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়। ৪৮টি লাশ শনাক্ত করার জন্য ৬৮ জন স্বজনের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি।

টোকেন নম্বরই মৃতের পরিচয় : নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে খবর পেয়ে দুপুরের আগেই প্রিয়জনের লাশ বুঝে নিতে ঢামেক মর্গের সামনে হাজির হয়েছিলেন নিহত ২৪ জনের স্বজনরা। হস্তান্তরকৃত ২৪ লাশের মধ্যে ১৩ জনই ছিল শিশু শ্রমিক। প্রত্যেক লাশের একটি করে টোকেন নম্বর ছিল। সেই টোকেন নম্বরই মৃতের পরিচয় ছিল। বেলা দেড়টার দিকে নোয়াখালীর মো. আয়াত হোসেনের (১৯) লাশ বুঝে নেন তার বাবা এনায়েত হোসেন। এরপর বাকি ২৩ জনের লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই ২৩ জনের মধ্যে আছে কিশোরগঞ্জের তাহের উদ্দিনের ছেলে নাঈম ইসলাম (১৬), গাইবান্ধার হাসানুজ্জামানের মেয়ে নুসরাত জাহান টুকটুকি, নেত্রকোনার কবির মিয়ার মেয়ে হিমা আক্তার, পাবনার শাহাদত খানের ছেলে মোহাম্মদ আলী, নেত্রকোনার আজমত আলীর মেয়ে তাকিয়া আক্তার, কিশোরগঞ্জের নিজাম উদ্দিনের মেয়ে সাহানা আক্তার (১৮), একই জেলার খোকনের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৮) ও ঝর্না আক্তারের মেয়ে ফারজানা (১৪), একই জেলার সুজনের মেয়ে ফাতেমা আক্তার (১৫), গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মুন্না (১৬), স্বপন মিয়ার মেয়ে সাগরিকা সায়লা, একই জেলার আবদুল কাইয়ুমের মেয়ে খাদিজা আক্তার (১৬), নারায়ণগঞ্জের বেলাল হোসেনের মেয়ে মিতু আক্তার, একই জেলার সুমাইয়া আক্তারের মা ফিরোজা (৩৬), বগুড়ার নয়ন মিয়ার মেয়ে নাজমা খাতুন, হবিগঞ্জের আবদুল মান্নানের মেয়ে ইসরাত জাহান তুলী, ঢাকার ডেমরার নাজমুল হোসেনের মা নাজমা বেগম (৩৫), নোয়াখালীর আবুল কাসেমের ছেলে রাশেদ (২৫), একই জেলার বাশারের ছেলে তারেক জিয়া (১৫), ভোলার কবির হোসেনের ছেলে রাকিব হোসেন (২১), গাজীপুরের লিলি বেগমের ছেলে রিপন মিয়া (১৮), কিশোরগঞ্জের মাহতাব উদ্দিনের স্ত্রী সাহানা আক্তার (৪৪) ও নরসিংদীর জসিম উদ্দিনের মেয়ে রিয়া আক্তারের (৩০) লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয় সিআইডি। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মাহফুজুর রহমান বলেন, গতকাল সেজান জুস কারখানার ২৪ শ্রমিকের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়া বাকি লাশগুলো আগামী শনিবার হস্তান্তর করা হবে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২৪টি লাশের দাফন-কাফনের জন্য পরিবারের কাছে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, সেজান জুস কারখানায় আগুনের ঘটনায় করা মামলার অনেক অগ্রগতি আছে। আগুন কীভাবে লেগেছে আমরা তার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। খুব শিগগির চার্জশিট দেব।