শিরোনাম
শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

ছুটির দিনে জমজমাট চিড়িয়াখানা

আলী রিয়াজ

ছুটির দিনে জমজমাট চিড়িয়াখানা

দর্শনার্থীদের পদচারণে জমে ওঠে গতকাল মিরপুর চিড়িয়াখানা -জয়ীতা রায়

ছুটির দিনে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। গতকাল দর্শনার্থীদের টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকতেই এক ঘণ্টার বেশি লেগেছে। সকাল ৯টায় গেট খোলার আগেই প্রতিটি লাইনে টিকিট প্রত্যাশিত দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল কয়েক শ। আগের শুক্রবারের মতো গতকালও ২০ থেকে ২২ হাজার দর্শনার্থী এসেছেন বলে জানিয়েছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, হাজার হাজার বয়স্ক নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী ও শিশুর পদচারণায় মুখরিত চিড়িয়াখানা। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একইভাবে দর্শনার্থী চোখে পড়েছে। তীব্র গরম সত্ত্বেও তারা এসেছেন দেশি-বিদেশি পশুপাখি দেখতে। দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অনেকে রাজধানীর বাইরে থেকেও এসেছেন। এসেছেন গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ থেকে। সাভারের গৃহিণী হালিমা বেগম বলেন, ‘প্রায় দুই বছর বাসায় সময় কেটেছে। অনেক আগে থেকেই চিড়িয়াখানা আসার জন্য পীড়াপীড়ি করছে সন্তানরা। কিন্তু সময় হয়নি। এ ছাড়া করোনার মধ্যে বন্ধ ছিল। গত সপ্তায় চিড়িয়াখানা খুলছে শুনে এসেছি। কোথায় যাব। এসে অনেক ভোগান্তি হয়েছে। বাইরে টিকিট কাটতে সকালে প্রায় দেড় ঘণ্টা লেগেছে। গরম থাকুক। প্রতিদিন তো আর আসি না। তবু ভালো লাগছে।’ একই কথা বললেন বেশির ভাগ দর্শনার্থী। গরমে ক্লান্ত হয়ে সড়কদ্বীপে বসে সময় কাটাতে দেখা গেছে অনেককে। চিড়িয়াখানার  প্রতিটি প্রাণীর খাঁচার বাইরে শত শত দর্শনার্থী। প্রধান ফটক থেকে ঢুকে বানরের খাঁচায় যেমন দেখা গেছে পুরো রেলিং ধরে দাঁড়ানো দর্শনার্থী, বাঁ দিকে হরিণ, ডান দিকে বাঘ, সিংহের খাঁচার সামনেও একই চিত্র। অধিকাংশ খাঁচার সামনের রেলিং ধরে দাঁড়ানো ছিল শত শত মানুষ। করোনার আশঙ্কা উপেক্ষা করে আসা দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে তেমন দেখা যায়নি। বেশির ভাগ দর্শনার্থীর মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। যদিও মাইকে কর্তৃপক্ষ কিছুক্ষণ পরপর ঘোষণা দিচ্ছেন, সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। সবাই মুখে মাস্ক ব্যবহার করবেন। তবে ওই ঘোষণায় কারও কর্ণপাত দেখা যায়নি। এদিকে গরমের প্রভাব পড়েছে খাঁচার প্রাণীদের মধ্যে। বাঘের খাঁচার ভিতরে দুটি বাঘের একটিকে দেখা গেছে গাছের ছায়ায় ঘুমুতে। আরেকটি পানিতে নেমে খেলছিল। হরিণগুলো অন্য সময় ছোটাছুটি করলেও গতকাল গরমের কারণে গাছের ছায়ায় বসেই বেশি সময় পার করছে। একই রকম দেখা গেছে সিংহ, জেব্রা, জিরাফসহ অন্য প্রাণীদের।

চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. আবদুল লতিফ বলেন, ‘মাসের শুরুর দিকে সাধারণত দর্শনার্থী বেশি থাকে। শুরুর দিকে শুক্রবার এ সংখ্যা কয়েক গুণ হয়ে যায়। আগের সপ্তার শুক্রবার সর্বোচ্চসংখ্যক ২০ হাজারের বেশি দর্শনার্থী হয়েছেন। আজও (গতকাল) ২০ হাজার বেশি দর্শনার্থী এসেছেন।’ তিনি বলেন, ‘এখনো আমাদের ধারণক্ষমতা অনেক রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিবেশ দূষণের দিকে সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হচ্ছে। দর্শনার্থীর কারণে কোনো প্রাণী যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে এসেছি। আমাদের কর্মীরা প্রতিটি খাঁচার সামনে থাকেন। তারা নজরদারি করেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধির জন্য ১৩টি স্থানে সাবানপানি রাখা আছে। রয়েছে দুটি রিফ্রেশ জোন। সেখানে দর্শনার্থীরা বিশ্রাম নিতে পারেন। প্রতি মাসের প্রথম রবিবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ আছে। আগামীকাল বিনামূল্যে সবাই চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করতে পারবেন।’