মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

বাংলাদেশের সঙ্গে টিফা চুক্তিতে অনুমোদন অস্ট্রেলিয়ার

এ মাসেই স্বাক্ষর করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট’ (টিফা) চুক্তি করার বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এরই মধ্যে দেশটির একজন মন্ত্রী চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এর অনুলিপি বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। এখন বাংলাদেশ স্বাক্ষর করলেই দ্বিপক্ষীয় ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো ব্যবস্থাপনা’ চুক্তিটি কার্যকর হবে।

বাণিজ্য সচিব তপনকান্তি ঘোষ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, করোনা মহামারীর কারণে ডিজিটাল মাধ্যমে চুক্তিটি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উভয় দেশ। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ মন্ত্রী মি. ডেন টেহান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এখন বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি স্বাক্ষর করার পর এর অনুলিপি এ মাসেই অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়াল মাধ্যমে দুই দেশের মন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো (টিফা) চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির শিরোনামে কো-অপারেশন এবং অ্যাগ্রিমেন্ট শব্দ দুটি থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাবিত চুক্তিতে কো-অপারেশন শব্দটি নেই। উপরন্তু ‘অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর পরিবর্তে ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট’ শব্দটি রয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চূড়ান্ত হওয়া চুক্তিটির কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো শর্তও নেই। প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর। এরপর উভয় পক্ষ চাইলে এটি নবায়ন করতে পারবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যা হয়েছে তা মূলত ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্ট’। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হচ্ছে ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’। ‘অ্যাগ্রিমেন্ট’ মানার বাধ্যবাধ্যকতা আছে। ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট’ মানার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত এ কাঠামোটি নিয়ে চুক্তি হলেও দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ইস্যুতে সিদ্ধান্ত হবে মূলত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতি অনুযায়ী। এ ছাড়া চুক্তিতে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

কী আছে টিফায় : ২ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার অনুমোদিত টিফা চুক্তিতে বাংলাদেশের সব খাতে বিনিয়োগ সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তির ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, টিফা কাঠামোর মাধ্যমে তৈরি পোশাক, কৃষি, কৃষিবাণিজ্য, মৎস্য, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ম্যানুফ্যাকচারিং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা সেবা ছাড়াও উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সব ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকবে।

চুক্তির শুরুতে যে মৌলিক নীতির কথা বলা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে : (১) উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা এবং স্ব স্ব দেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি করা; (২) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা; (৩) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দ্রুততর করার জন্য স্বচ্ছ ও মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা; (৪) উভয় দেশ একে অন্যকে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করবে যা প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে; এবং (৫) উভয় দেশই বেসরকারি খাতের যোগাযোগকে উৎসাহিত করবে। চুক্তির ১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, অংশীদ্বয় সেবা এবং পণ্য উভয় খাতেই বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। একে অন্যের কোম্পানি বা সংস্থার বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে একে অন্যের সংস্থা বা কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার সুবিধা প্রদান করবে। ২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হবে, যারা সময় সময় আলোচনায় বসবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারের কিছু কম। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি করেছে ৮৩৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, অন্যদিকে আমদানি করেছে ৮৮৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিরামিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উল্লেখযোগ্য।