বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

বসন্ত ও ভালোবাসার উচ্ছ্বাস

মোস্তফা মতিহার

বসন্ত ও ভালোবাসার উচ্ছ্বাস

আজ ভালোবাসা দিবস এবং পয়লা ফাল্গুন। তবে গতকালই অমর একুশে বইমেলায় এ দুই দিনের প্রভাব পড়ে। বাসন্তী রঙা পোশাকে উজ্জ্বল তরুণী তার প্রিয়তমের হাত ধরে মেলায় আসেন। আর প্রিয় লেখকের পছন্দের বইটি কেনেন। এদিন বিকালে কথা হয় রাজধানীর উত্তরা থেকে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, মেলায় এসে খুবই ভালো লাগছে। তবে ধুলোর অত্যাচার ও স্টলের কোনো বিন্যাস না থাকায় খুব ঝামেলায় পড়লাম। কী বই কিনলেন- এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সায়েন্সফিকশনের কিছু বই কিনলাম। এদিন প্রায় স্টলেই ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১১০টি।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রকাশকদের আন্দোলন : প্রকাশকদের প্রতিবাদী আন্দোলন ও মানববন্ধনে উত্তাল স্বাধীনতার স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সেই উত্তাল ঢেউয়ে প্রকাশকরা তুলে ধরেছেন বাংলা একাডেমির স্বেচ্ছাচারিতা ও বিমাতাসুলভ আচরণের নানা চিত্র। তারা বলেন, মূল মেলার বাইরে একটি বিচ্ছিন্ন অংশে স্টল বরাদ্দ দিয়ে ৬৩ জন প্রকাশকের কপাল পুড়েছে বাংলা একাডেমি। মেট্রোরেল স্টেশনের পাশের গেটটিকে প্রবেশদ্বার হিসেবে চালু করলে মূল মেলার বাইরের বিচ্ছিন্ন এই অংশে কিছুটা হলেও পাঠক ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটত। এতে প্রকাশকরা ক্ষতির কবল থেকে রক্ষা পেতেন। আন্দোলনকারী প্রকাশকদের পক্ষে জোনাকী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন বলেন, মেলার কাঠামো তৈরির আগে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। নিজেদের খেয়াল খুশি মতো তারা মেলার কাঠামো বণ্টন করেছে। মূল মেলার বাইরে বিচ্ছিন্ন একটা অংশে আমাদেরকে ফেলা হয়েছে। তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে একই দাবি জানান কথামেলা প্রকাশনীর আবদুর রউফ বকুল, মুক্তদেশ-এর ইমন মজুমদার, ইলমার মাহবুবুর রহমান সুমন।

মূল মঞ্চ : বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

আলোচকরা বলেন, জনজীবনের ভাষাকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ তাঁর সাহিত্যের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সমাজের ক্ষমতা ও ক্ষমতা-কাঠামোর সঙ্গে জনগণের মনোজগতের পারস্পরিক সম্পর্ক বা দ্বন্দ্বটি তাঁর সাহিত্যে বিশেষ রূপ লাভ করেছে। সমাজের গভীরে দৃষ্টিপাত করে প্রান্তিক মানুষের সংকটকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। সমাজ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আকস্মিক ছন্দপতন তাঁর গল্পের উপজীব্য হয়েছে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রাসঙ্গিকতা এখানেই যে, তিনি অতীতের চরিত্রগুলোর সঙ্গে আমাদের একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করে দেন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, সাহিত্যের ভিতর দিয়ে জীবনের বাস্তবতাকে তুলে ধরার নিপুণ কারিগর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্। তাঁর সাহিত্যে তিনি সমকালীন জনগোষ্ঠীর অনুভূতির কাঠামোকে ধারণ করেছেন। ফলে কেবল আমাদের সময়েই নয় ভবিষ্যতেও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ও তাঁর সাহিত্যকর্ম অনিবার্য এবং প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি জাহিদ হায়দার, হেনরী স্বপন, শিহাব শাহরিয়ার, মতিন রায়হান, জুনান নাশিত এবং মু. আহসান উল্লাহ ইমাম খান তমাল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন নাসিমা খান বকুল, ফয়জুল্লাহ সাঈদ এবং চন্দ্রিমা দেয়া। এ ছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গীতিকবি আনিসুল হক স্মৃতি পরিষদ’, ‘হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমি’ এবং নৃত্য সংগঠন ‘প্রিয়দর্শিনী’র পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মো. হারুনুর রশিদ, মিতা চক্রবর্তী, শ্রাবন্তী সরকার, আফরোজা খান মিতা প্রমুখ।

সর্বশেষ খবর