মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪ ০০:০০ টা

সফটওয়্যারে চাই প্রণোদনা

রাসেল টি আহমেদ, সভাপতি, বেসিস

রাশেদ হোসাইন

সফটওয়্যারে চাই প্রণোদনা

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেছেন, ‘রূপকল্প ২০৪১’ অনুযায়ী স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় আনতে হবে। এ খাতের কাক্সিক্ষত উন্নয়নে সফটওয়্যার এবং তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা রপ্তানি খাতে উৎসাহ প্রদানে নগদ আর্থিক প্রণোদনা ৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ করতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

বেসিস সভাপতি বলেন, সফটওয়্যার ও আইটিইএস খাতের কর অব্যাহতির সুবিধা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখতে হবে। এই সফটওয়্যার ও আইটি পরিষেবা খাতের পেশাজীবীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়ের ওপর আয়কর রেয়াত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সফটওয়্যারের উৎপাদন পর্যায়ে ও কাস্টমাইজেশন সেবার ওপর ৫ শতাংশ মূসক কমিয়ে শূন্য করতে হবে। সরকারি এবং বেসরকারি ক্রয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যেসব বিষয়ে আমরা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল, সে ক্ষেত্রে একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে লোকাল পার্টনার হিসেবে বাধ্যতামূলক রাখা উচিত। এতে আমাদের দক্ষ জনবল তৈরিতে সাহায্য করবে। রাসেল টি আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে স্থানীয় পর্যায়ে সফটওয়্যার তৈরি করতে যেসব বিদেশি সফটওয়্যার অর্থাৎ অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেজ, ডেভেলপমেন্ট টুলস, সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর ওপর থেকে সম্পূর্ণরূপে কর ও মূসক প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। এসব সফটওয়্যার দেশে তৈরি করার সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। এগুলোর ডেটাবেজ এবং ডেভেলপমেন্ট টুলস ব্যবহার করেই সব ধরনের সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়। অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেজ, ডেভেলপমেন্ট টুলস, সিকিউরিটি সফটওয়্যার ছাড়া অন্যান্য সফটওয়্যার যা দেশেই তৈরি হয় বা তৈরি করা সম্ভব সেগুলো আমদানির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আমদানি শুল্ক ও মূসক বহাল রাখা যেতে পারে। এতে দেশীয় সফটওয়্যার শিল্প রক্ষা পাবে। তিনি বলেন, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। বর্তমান কর অব্যাহতির মেয়াদ এ বছরের ৩০ জুন শেষ হবে। যার ফলে নতুন বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি কোনো বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না। এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এ অব্যাহতির সময়সীমা বাড়াতে হবে। বেসিস সভাপতি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১৮২ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে আইসিটি খাতের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৯৫ শতাংশ। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে দেখা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে এখনকার রাজস্ব নীতি সুবিধার পাশাপাশি এই সেক্টরের জন্য সরকারের উন্নয়নমূলক কিছু প্যাকেজ নিয়ে আসতে হবে। বেসিসের গবেষণা অনুযায়ী, এ খাতের রপ্তানি আয় ২০২৯ সাল নাগাদ ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৩১ নাগাদ ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য সরকারের যথাযথ নীতিসহায়তা প্রয়োজন। রাসেল টি আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশীয় সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা তৈরি করছে। আমরা এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মধ্যে বাস করছি। এই শিল্পবিপ্লবের কথা মাথায় রেখেই আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এজন্য বাজেটে সরকারি থোক বরাদ্দের মাধ্যমে বেসিসকে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হোক। বেসিস তার অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে কাজ করবে।

সর্বশেষ খবর