শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর, ২০২০ ১২:৫৯
প্রিন্ট করুন printer

হিমেল দিনে শাল-পঞ্চ...

ফেরদৌস আরা

হিমেল দিনে শাল-পঞ্চ...

সময়ে সময়ে বদলায় ফ্যাশন ট্রেন্ড। মূলত ফ্যাশনিয়েস্তাদের হাত ধরেই বদলটা বেশি হয়। আর তাই সময়ের ফ্যাশন হিসেবে শীত-পোশাকের বাজারে এসেছে নান্দনিক কাট ও ডিজাইনের শাল এবং পঞ্চ। শীত ফ্যাশনে স্বস্তির জন্য এ পোশাকগুলো না হলে যেন ঠিক জমে ওঠে না। তাই এবার শীত তাড়ান শাল-পঞ্চেই!

শিশিরভেজা ভোর, দিনভর হিমেল পরশ জানান দেয় ফ্যাশনের মৌসুম শীতের। যদিও শীত আসতে এখনো বেশ কয়েক সপ্তাহ বাকি। তবুও এবার একটু আগেই শীত হানা দিয়েছে নগর, বন্দর এবং গ্রামে। এমন দিনে পোশাক-অনুষঙ্গ বেছে নেওয়া হয় শীতের কথা মাথায় রেখেই। নিত্যদিনের ব্যবহারে তো বটেই, এমনকি রাতের অনুষ্ঠানেও শীতের কথাই থাকে চিন্তায়।

বাঙালি নারী শীতে শাল পরবেন- এ আর নতুন কী! পাশাপাশি তাদের ফ্যাশনে ভীষণভাবে ইন হয়েছে পাশ্চাত্যের স্টাইলিশ পোশাক পঞ্চ। দিনভর ঘরের কাজেই হোক আর অফিস যাওয়ার সময়; শাল এবং পঞ্চ আজকালের তরুণীদের প্রচলিত শীত-পোশাক। তবে ফ্যাশন যেহেতু সময়ে সময়ে বদলায়। তাই এসব পোশাকেও আসে নতুনত্ব, ফ্যাশনে আনে বৈচিত্র্য। আজকাল পোশাকগুলো এতটাই জনপ্রিয় যে, উৎসব-আয়োজনেও পরা যায় অনায়াসে।

শাল-চাদরের আভিজাত্য
আগের দিনে দাদা-দাদিরা শীতের উষ্ণতায় বেছে নিতেন শাল-চাদর। মা-খালারা শাড়ির আঁচলের সঙ্গে জুড়ে নিতেন শাল-চাদরের আঁচল। আরেকটু আগে তাকালেই মিলবে সাম্রাজ্যে রাজা-মহারাজারা আভিজাত্যের উপঢৌকন হিসেবে কাঁধে ঝুলিয়ে নিতেন বাহারি কারুকার্যের শাল-চাদর। আগেকার দিনে বণিকরা এমনকি গ্রামের মাতবররাও কাঁধে শাল বা চাদর ঝুলিয়ে নিতেন আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে। হালকা বুননের পশমি শাল-চাদরে সহজেই কাবু করা যেতে পারে শীতকে। শুধু শীত-পোশাক হিসেবে নয়, ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবেও এর রয়েছে আলাদা কদর।

তার ধারাবাহিকতায় এবারের আগমনী শীতে শাল-চাদরের কদর বাড়তে শুরু করেছে। দেশি-বিদেশি শাল-চাদর ফ্যাশনপ্রিয়দের কাছে বেশ জনপ্রিয়। প্রথমত. শীত নিবারণ করা যায় আবার ফ্যাশন ট্রেন্ডও বজায় থাকে। এ ছাড়া যে কোনো বয়সের মানুষই শাল-চাদর ব্যবহার করতে পারেন। তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধাসহ সব বয়সের মানুষই শাল ব্যবহার করতে পারেন। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, জিন্স, ফতুয়া, স্কার্ট সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে যায় শাল-চাদর। নানা রং, নকশা, কাটিং আর ডিজাইন সব বয়সী নারীদের আকৃষ্ট করে রাখে শীতের এ পোশাকটি। শীতে শাল-চাদর গায়ে জড়িয়ে চলাফেরা করায় যে আরাম তা আর অন্য শীত-পোশাকে নেই বললেই চলে। তাই শীতে তরুণ-তরুণীদের কাছে শাল-চাদরের গুরুত্বই আলাদা। শাল এবং চাদরের প্রচলন এই উপমহাদেশে অনেক আগে থেকেই ছিল। এখনো এর কদর কমেনি, বরং শীতের ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে শাল ও চাদরের রং ও নকশায় এসেছে বৈচিত্র্য।

তবে ঢাকা শহরে শীতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গত কয়েক বছর হালকা বা পাতলা শাল-চাদর ফ্যাশনে জায়গা করে নিয়েছে বেশ ভালোভাবেই। হালকা শীতে এই শালগুলো যেমন আরাম দেয়, তেমনি বহন করতেও সুবিধা। অনেকে ওড়নার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন নানা রং আর ডিজাইনে তৈরি এসব শাল এবং চাদর। দেশি শালের মধ্যে বাঙালি মেয়েদের প্রথম পছন্দ খাদি শাল। শীতকে বশ করতে খদ্দর বা মোটা উলের চাদরেরও চল আছে বেশ। সিল্ক, খাদি, পশমি সুতা, মোটা সুতি ইত্যাদি কাপড়ের ওপর নির্মিত হচ্ছে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর শাল-চাদর।

হিমেল দিনে পঞ্চের ওম
পঞ্চ এমনই এক পোশাক, যা ফ্যাশনে আনে বৈচিত্র্য। পাশাপাাশি মেটায় প্রয়োজনও। পঞ্চ পোশাকটি জিন্স-টপস বা ফতুয়া-স্কার্ট যে কোনো ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গেও অনায়াসে মানিয়ে যায়। এই শীত-পোশাকটির নাম পঞ্চ হওয়ার কারণ হলো- এটি চাদর ও সোয়েটারের ফিউশনে তৈরি। এর পাঁচদিকে পাঁচটি কোণা থাকে। গলার কাটিং কখনো গোল, কখনো তিনকোণা, কখনো বা চারকোণা আকৃতির। আবার অনেক পঞ্চের কাঁধের দুদিকের কাপড় মাফলারের মতো করে পেঁচিয়ে নেওয়া যায়। আজকাল এটি কিছুটা সোয়েটারের আদলে করা হয় কিন্তু ঢিলেঢালা ভাবটা ঠিক আগের মতোই রয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চ আদতে শালের মতো হলেও এটি পরা যাবে টপসের মতো। পঞ্চ যেহেতু একটু ফ্যাশনেবল পোশাক, তাই শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে এটা পুরোপুরি বেমানান। জেগিংস, লেগিংস বা জিন্সের ওপর পরতে হয়।

অনেকে পঞ্চ পোশাকটিকে ইদানীংকালের ফ্যাশন ট্রেন্ড বললেও, ইতিহাস কিন্তু বলে অন্য কথা। স্টাইলে বৈচিত্র্যতার কারণে তরুণীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে পোশাকটি। উপমহাদেশে বহুকাল আগে থেকেই ব্যবহৃত হতো পঞ্চ? তবে তা বেশি প্রচলিত ছিল না। ফ্যাশনের সঙ্গেও এর সম্পর্ক ছিল না বললেই চলে। পুরনো ফ্যাশন নতুন করে ফেরত আসে আরও আধুনিক রূপে। একসময়ের কাপ্তানই এখন ফিরে এসে হয়েছে পঞ্চ। আশির দশকে কাপ্তান ড্রেসটি ফ্যাশনের তুঙ্গে ছিল। তবে সেই কাপ্তান এই কাপ্তান থেকে একটু ভিন্ন। তখনকার কাপ্তান কোমরের কাছে ফিতা দিয়ে ডিজাইন করা ছিল এবং নিচের অংশটা ছিল ঘাগরার মতো। তবে এখন তরুণীদের হরহামেশাই পঞ্চ পরিধান করতে দেখা যায়। এর মূল কারণ হচ্ছে স্টাইলিশ লুক, কিছুটা টিউনিক কাটের ব্যতিক্রমী ডিজাইন।
 
দেশি ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙ, কে ক্রাফট, অঞ্জনস, রং বাংলাদেশ, দেশাল, নিত্য উপহার, আড়ং, দেশি দশ, বাংলার মেলাসহ সব হাউসে পেয়ে যাবেন শাল-চাদর এবং পঞ্চ।


আপনার মন্তব্য