Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৯ ১৮:৩৯

কেরোসিন ঢেলে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয় জোবায়ের

রাঙ্গামাটি ও কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার দুই আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ

ফেনী প্রতিনিধি


কেরোসিন ঢেলে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয় জোবায়ের
আসামি জোবায়ের আহমেদ

ফেনীর মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় রিমান্ডে থাকা আসামি জোবায়ের আহমেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল এসপি মো. ইকবাল গণমমাধ্যমকে জানান, আসামি জোবায়ের আহমেদ হত্যার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত। ঘটনার সময় জোবায়ের নুসরাতের হাত-পা বাঁধতে সহযোগিতা এবং নুসরাতের গায়ে কেরসিন ঢেলে দেয় এবং মেসের কাঠির মাধ্যমে সে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এদিকে এ মামলায় গ্রেফতার ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুনকে একই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে রাঙ্গামাটির টিএনটি এলাকা থেকে রানা ও কুমিল্লার পদুয়া বাজার এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

আলোচিত এ মামলায় আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে এ পর্যন্ত ৮ আসামি জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন মামলার অন্যতম আসামী নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন ও জোবায়ের আহমেদ। 

আলোচিত এ মামলা এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। তারা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠি আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুন। এদের মধ্যে মামলার এজহারভুক্ত আটজন আসামিই গ্রেফতার রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যায় ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে বোরকা পরা কয়েকজন ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখান প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যায়।

বিডি-প্রতিদিন/২১ এপ্রিল, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য