শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ১৫:২১
প্রিন্ট করুন printer

সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে: প্রধানমন্ত্রী

শিমুল মাহমুদ, স্বর্ণদ্বীপ, হাতিয়া থেকে

সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)

আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে মুহুর্মুহু কামান-গোলার শব্দ। ট্যাংক বিধংসী রকেট লাঞ্চারের কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ। আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের হেলিকপ্টার থেকে নেমে আসে শত শত প্যারাট্রুপার। বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমানের সাপোর্ট এবং সমুদ্র পথেও আক্রমণ চালায় নৌবাহিনীর সদস্যরা। সমন্বিত হামলায় পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশের স্বর্ণদ্বীপ দখলকারী বিদেশি সৈন্যরা। দখলমুক্ত হয় স্বর্ণদ্বীপ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই অনবদ্য যুদ্ধ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশন সেনাবাহিনীতে নতুন সংযোজিত বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে রণকৌশল অনুশীলন পরিচালনা করে। মহড়া শেষে প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান। 

মহড়ায় মনুষ্যবিহীন আকাশযান, ওয়াপন লোকেটিং রাডার, অত্যাধুনিক উভচর এপিসিসহ সশস্ত্র বাহিনীর ১৪০০ সদস্য অংশ নেন। 

পরে দরবারে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের গৌরবময় নানা অর্জনের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের দেশে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রোগ্রামে গেলে তাদের প্রশংসা শুনতে পাই। সমরাস্ত্রের দিক থেকে তারা  যেন  বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে-সেভাবেই আমরা গড়ে তুলছি। সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সমন্বিত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আজকের মহড়া দেখে আপনাদের প্রতি আমার আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা স্বর্ণদ্বীপের সুপরিকল্পিত ব্যবহার দেখে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং স্বর্ণদ্বীপের প্রশিক্ষণ সুবিধা সেনাবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া স্বর্ণদ্বীপে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা তিনটি মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টার, পরিকল্পিত বনায়ন প্রকল্প, সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গৃহীত অন্যান্য জনবান্ধব প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের প্রদর্শিত এই প্রশিক্ষণ মহড়া সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন, যা একটি আধুনিক ও শক্তিশালী সেনাবাহিনীর উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাহাজ্জারচরকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সত্যিকার অর্থেই স্বর্ণদ্বীপে পরিণত করেছে।

মূলত ‘স্বর্ণদ্বীপ’ নামের এই দ্বীপ অঞ্চলটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখানে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণে অংশ নয়। এ পর্যন্ত স্বর্ণদ্বীপে ৩৫ হাজার সেনা সদস্য প্রশিক্ষণ সুবিধা পেয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার পূর্বে প্রাক মোতায়েন প্রশিক্ষণেও স্বর্ণদ্বীপ ব্যবহৃত হচ্ছে।   

 ১৯৭৮ সালে মেঘনা নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে উঠা বিশাল এই দ্বীপ অঞ্চলটি এক সময় জাহাজ্জার চর নামে পরিচিত ছিল। ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৪ কিলোমিটার প্রশস্থ স্বর্ণদ্বীপটি ২০১২ সালে সেনাবাহিনীকে বরাদ্দ দেয় সরকার।

এরপর থেকে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের জন্য স্বর্ণদ্বীপের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নদীর ঘাট থেকে স্বর্ণদ্বীপে স্থাপিত সেনাবাহিনীর ‘ময়নামতি ক্যাম্প’ পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক ও ৪টি স্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। রেডিও লিংকের মাধ্যমে এই দ্বীপে চালু করা হয়েছে টেলিফোন, ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সুবিধা। যতই দিন যাচ্ছে পরিকল্পিত উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে স্বর্ণদ্বীপ। বৃহস্পতিবার স্বর্ণদ্বীপে সাইক্লোন শেল্টার -৩ এবং ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।  

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই স্বর্ণদ্বীপে আমরা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গত বছর সাড়ে ৪ হাজার মণ ধান উৎপাদন করেছি। এখানকার গবাদিপশুর খামার দেশের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পৃরণ করছে।

এছাড়া মহড়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, সামরিক  ও অসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:৫৯
প্রিন্ট করুন printer

ভ্যাট ফাঁকিতে বেপরোয়া ইউএস বাংলা গ্রুপের ১২ প্রতিষ্ঠান

খতিয়ে দেখছে সরকার

রুহুল আমিন রাসেল

ভ্যাট ফাঁকিতে বেপরোয়া ইউএস বাংলা গ্রুপের ১২ প্রতিষ্ঠান

কালোবাজারি আর চোরাচালানের পাশাপাশি ভ্যাট ফাঁকিতেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইউএস-বাংলা গ্রুপের ১২ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এ তথ্য দিয়ে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাৎ করে মাত্র কয়েক বছরে ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’ হয়েছে ইউএস-বাংলা গ্রুপ। এ গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠানের একটির বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান ও আরেকটির বিরুদ্ধে বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের তথ্য রয়েছে। এ অবস্থায় ইউএস-বাংলা গ্রুপের ১২ অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ফাঁকি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভ্যাট বিভাগ সূত্র। এ প্রসঙ্গে জাতাীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) ড. আবদুল মান্নান শিকদার গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন চলমান প্রক্রিয়া। এ জন্য অডিট করা হয়। মাঠ পর্যায়ে ভ্যাট গোয়েন্দাও কাজ করছে।

জানা গেছে, মাত্র এক দশক আগে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএস-বাংলা গ্রুপের এখন ১২টির বেশি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো-

ইউএস-বাংলা অ্যঅসেটস্, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ইউএসবি এক্সপ্রেস, ইউএস-বাংলা লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউএস-বাংলা ফুটওয়্যার, ইউএস-বাংলা হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউএস-বাংলা অটোমোবাইলস্, ইউএস-বাংলা ফুডস্, ইউএস-বাংলা ফ্যাশনসসহ আরও নানাবিধ প্রতিষ্ঠান। সময়ের হিসাবে ইউএস-বাংলা গ্রুপের ব্যবসার পরিধি রহস্যজনকভাবে বেড়েছে, যা বাংলাদেশে অনেকটাই বিরল।
ভ্যাট প্রশাসন সূত্র জানান, ইউএস-বাংলা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেড ঢাকার অতিসন্নিকটে পূর্বাচলে যে ‘পূর্বাচল আমেরিকান সিটি’ প্রকল্প রয়েছে, তাতে ভ্যাট ফাঁকি চলছে ফ্রিস্টাইলে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের অন্য দুই আবাসন প্রকল্প হলো- ইস্ট আমেরিকান সিটি ও হলিডে হোমস কুয়াকাটা। এ তিন আবাসন প্রকল্পের ভ্যাট ফাঁকি দীর্ঘদিন যাবৎ ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ইউএস-বাংলা গ্রুপের কুরিয়ার সেবা প্রতিষ্ঠান ইউএসবি এক্সপ্রেস লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই ভ্যাট প্রশাসনে। প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য পরিবহন করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য পরিবহন করায় ইউএসবি এক্সপ্রেসকে জরিমানা করা হয় বলে তখন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের তৎকালীন কমিশনার ড. মইনুল খান। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রাপ্য ভ্যাটও আদায় করা হয় বলে তথ্য দিয়েছেন।

ইউএস-বাংলা গ্রুপের জুতা ও চামড়াজাত তিন প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকিও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইউএস-বাংলা লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের নামে থাকা বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা আমদানি পণ্য কালোবাজারিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইউএস-বাংলা ফুটওয়্যার লিমিটেড ও ভাইব্রেন্ট ফুটওয়্যার লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান দুটির উৎপাদন ও বিক্রির বিপরীতে সরকার প্রাপ্য ভ্যাট থেকে বঞ্চিত। শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত ইউএস-বাংলা লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানির বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার আড়ালে কালোবাজারিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সূত্র জানান, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহ অনিয়মে জড়িত ইউএস-বাংলা লেদার। প্রতিষ্ঠানটির বছরের পর বছর রপ্তানি নেই। তবু বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানি করছে। কালোবাজারিতে জড়িত থাকার অপরাধে ইউএস-বাংলা লেদারকে ইতিমধ্যে জরিমানা করা হয়েছে। ইউএস-বাংলা লেদারের শুল্ক ফাঁকি উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইউএস-বাংলা গ্রুপের দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়ছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে প্রাপ্য ভ্যাট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। ২০০৩ সালে যাত্রা করা গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে বর্তমানে ৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন।

ইউএস-বাংলা গ্রুপের আরেক বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উড়োজাহাজ সেবাদানকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেড। ১৭ জুলাই ২০১৪, সালে যাত্রার পর প্রতি বছর বিক্রি হওয়া লাখ লাখ টিকিটের বিপরীতে আদায় হওয়া প্রাপ্য ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি বলে মনে করেন ভ্যাট প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, প্রভাবশালী এ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সরকার কয়েক শ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেড সোনা চোরাচালানেও জড়িত। আকাশপথে যাত্রী পরিবহন ব্যবসায় নিয়োজিত সংস্থাটির উড়োজাহাজ থেকে দফায় দফায় চোরাচালানের সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এমনকি চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা আদালতেও স্বীকার করেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কর্মীরা।

জানা গেছে, ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনে জড়িত ইউএস-বাংলা হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ সঠিক প্রক্রিয়ায় ভ্যাটের রিটার্ন দাখিল না করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি। এ ছাড়া কোটি কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে ফ্রিস্টাইলে ব্যবসা পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন, ইউএস-বাংলা ফুড, ইউএস-বাংলা ভেভারেজ অ্যান্ড এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইউএস-বাংলা রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম ও ইউএস-বাংলা এগ্রো লিমিটেড।


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০৮:৪৮
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০৮:৫৬
প্রিন্ট করুন printer

সিইসির দেখা পেলেন না মওলানা ভাসানীর মেয়ে

অনলাইন ডেস্ক

সিইসির দেখা পেলেন না মওলানা ভাসানীর মেয়ে

পৌরসভায় সুষ্ঠু ভোটের দাবি নিয়ে এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার দেখা পাননি জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মেয়ে মাহমুদা খানম ভাসানী।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে দেখা করতে না পেরে তার একান্ত সচিবের কাছে দুইটি অভিযোগের কপি জমা দেন।

টাঙ্গাইল পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন করছেন মাহমুদা খানম ভাসানীর ছেলে মো. মাহমুদুল হক।  

টাঙ্গাইল পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এসএম সিরাজুল হক আলমগীর ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ছানোয়ার হোসেনের নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত দুইটি অভিযোগ সিইসির দপ্তরে জমা দিয়ে যান। অভিযোগের সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ড, স্থিরচিত্র এবং বিভিন্ন অভিযোগের কপি যুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ জমা দেওয়ার পর মাহমুদা খানম ভাসানী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আসছিলাম তার সাথে দেখা করতে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে দেখা না করাটা দুঃখজনক। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আসছিলাম। সুষ্ঠু নির্বাচন করা সিইসির দায়িত্ব।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে মাওলানা ভাসানীর যে অবদান সেসব বিবেচনা করে হলেও সিইসির দেখা করা উচিত ছিল।  

তৃতীয় ধাপে আগামী ৩০ জানুয়ারি এই পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৬
প্রিন্ট করুন printer

তুরস্ক সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করতে চায় বাংলাদেশে : রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক

তুরস্ক সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করতে চায় বাংলাদেশে : রাষ্ট্রদূত
তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান (ফাইল ছবি)

ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান মনে করেন বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করতে চায় তুরস্ক।  

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, ঢাকা সফরে এসে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভেলুত কাভাসোগলু সামরিক সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এ বিষয়ে মুস্তাফা ওসমান তুরান বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সামরিক খাত অন্যতম এজেন্ডা। গত ১০-১৫ বছর ধরে তুরস্ক নিজ দেশের সামরিক শিল্পখাত উন্নয়ন করেছে। আমাদের প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জামের ৭৫ ভাগ নিজেরাই তৈরি করছি। আমরা এসব সরঞ্জাম বাংলাদেশের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশে রপ্তানি করতে চাই। 

এ বিষয়ে আমরা সবেমাত্র আলোচনা শুরু করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, দুই দেশের মধ্যে আগের চেয়ে এই খাতে আরও বেশি সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান। তুরস্ক কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করে থাকে যা বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা ড্রোন, মিসাইল, সামরিক যোগাযোগ সরঞ্জাম, নৌ-বাহিনীর জন্য অফশোর পেট্রোল ভেসেলস ইত্যাদি তৈরি করে থাকি। এই তালিকা অনেক দীর্ঘ।

কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম প্রয়োজন তা ঠিক করবে বাংলাদেশ সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। তবে এটা শুধু কেনা-বেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, সেটা আমি বলতে চাচ্ছি না। আমি বলতে চাচ্ছি, এই খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাই। সেটা দীর্ঘ মেয়াদী জয়েন্ট ভেঞ্চারেও হতে পারে। আমরা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের কথা বলছি বলে এসময উল্লেখ করেন মুস্তাফা ওসমান তুরান। 

সূত্র : বাংলানিউজ।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:২৪
প্রিন্ট করুন printer

কানাডার বেগম পাড়ায় ২৮টির মধ্যে ২৪ বাড়ি সরকারি কর্মচারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

কানাডার বেগম পাড়ায় ২৮টির মধ্যে ২৪ বাড়ি সরকারি কর্মচারীর
এমপি মুজিবুল হক চুন্নু

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগ আসে শুধু রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে। কানাডার বেগম পাড়ায় ২৮টি বাড়ির মধ্যে ২৪টি বাড়ি সরকারি কর্মচারীদের। আমলারা কী সবকিছুর ঊর্ধ্বে? শুধু রাজনীতিবিদদের ছেলেমেয়েরাই কি বিদেশে পড়ে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার ছেলে-মেয়ে বিদেশে পড়ে না? ব্যাংক খাতের সব দুর্নীতির গুরু হলো বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের কারণে বিভিন্ন বাংক থেকে হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। 

সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারী হচ্ছেন জিয়াউর রহমান। আর তার হাতে তৈরি দল বিএনপি সবচেয়ে বড় স্বাধীনতাবিরোধী। যারা বঙ্গবন্ধুর খুনী, যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরের গণহত্যাকারীদের সঙ্গে দল করে, জোট করে, মন্ত্রী বানিয়ে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া তারা কখনোই স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি হতে পারে না। বিএনপির উচিত জাতির কাছে ক্ষমতা চেয়ে সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসা।

সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের একাদশ তথা শীতকালীন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে ‘স্বাধীনতার বিপক্ষ’ শক্তি বলে অবিহিত করলে সংসদের বৈঠকে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। 

এর আগে করোনা ভ্যাকসিনের প্রতি জনগণের বিভ্রান্তি দূর করে আস্থা বাড়াতে মুজিবুল হক চুন্ন বলেন, প্রথমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্য এবং সব সংসদ সদস্য সবাই একদিনে ভ্যাকসিন নিলে কারও মধ্যে আর ভ্রান্তি থাকবে না।

মুজিবুল হক চন্নু সরকারের আর্থিকখাতে দুর্নীতির সমালোচনা করে বলেন, ব্যাংকের টাকা নিয়ে কথা এসেছে। পি কে হালদার সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা মেরে দিলেন। তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। বাংলাদেশ ব্যাংক করেটা কী? হলমার্ক শত কোটি টাকা পাচার করেছে। বাংলাদেশে ব্যাংক কি দেখে না? 

তিনি বলেন, গুরু ছাড়া দুর্নীতি হয় না। ব্যাংক খাতের এসব দুর্নীতির গুরু হলো বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের কারণে বিভিন্ন বাংক থেকে হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। 

তিনি বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে আরো বলেন, রাস্তাঘাটে অনেক মোটরসাইকেল। কোনো ট্রেনিং নেই। স্বাস্থ্য বিভাগের কথা কী বলবো! কেনাকাটার কী যে অবস্থা! ১০০ টাকার জিনিস ৫০০ টাকা। প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২৬২ গাড়ির হিসাব নেই।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, স্বীকার করবো সরকার উন্নয়ন করেছে। অনেক উন্নয়ন করেছে। এরশাদ সাহেব যখন ক্ষমতায় ছিলেন তিনিও করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার বাইরেও অনেক কিছু আছে। কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য পাবে-এ বিষয়ে গাইডলাইন ভাষণে আশা করেছিলাম। সেটা নেই। আমার এলাকায় কৃষক সবজি উৎপাদন করে। খিরা এক টাকা কেজি, ফুলকপি দুই টাকা, কেউ নেয় না। সবজির মৌসুমে কৃষক মূল্য পায় না। পচে পড়ে থাকে।

জাতীয় পার্টির এমপি আরো নিজের উত্থাপিত একটি বেসরকারি বিলের কথা তুলে ধরে বলেন, হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগে আইন হয়নি। আমি প্রস্তাব এনেছিলাম। বেসরকারি বিল এনেছিলাম। তিন জন বিচারপতিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কী অভিযোগ জানি না। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রের বেতন পাচ্ছেন তিন বছর কোনো কাজ না করেই। জবাব কে দেবে? ইমপিচমেন্ট করার পর রিটে তা বাতিল। এখন রিভিউতে আছে। সরকার যাওয়ার পর হবে? কাজে সমন্বয় প্রয়োজন। বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক দেশে ইমপিচমেন্ট সংসদের হাতে।

জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তাব রেখে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটসহ অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্র থেমে নেই, তারা সুযোগ পেলেই ছোবল দিতে পারে। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবেই সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 

তিনি বলেন, দেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে, অনেক দূর এগিয়েছে। তবে ক্ষমতা এককেন্দ্রিক হওয়ায় ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট বেড়েছে। 

বিএনপির এমপি রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। এ সময় সরকারি দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ করেন। 

এ সময় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের সকল ব্যর্থতাকে ছাড়িয়ে গেছে করোনাকালীন ব্যর্থতা। শুরু থেকে করোনা পরীক্ষা, মাস্ক, পিপিই, হাসপাতাল শয্যা, অক্সিজেন সরবরাহ, আইসিইউ, প্রণোদনাসহ সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা এই কঠিন সময়কে কঠিনতর করেছে। 

তিনি অভিযোগ করেন, পৃথিবীতে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ যেখানে নকল করোনা সার্টিফিকেট বিক্রি হয়েছে। এই সবকিছুর পরে এখন যুক্ত হয়েছে করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে ব্যবসা। সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি না করে বেক্সিমকোর সঙ্গে চুক্তি করার কারণে বাংলাদেশকে ভারতের তুলনায় ৪৭ ভাগ বেশি দামে করোনা টিকা কিনতে হচ্ছে। তাতে ৩২৫ কোটি টাকা যাবে কোম্পানির পকেটে। 

তিনি দাবি করেন, মিথ্যা হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনকে কারাগারে পাঠানো, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনকে দেশে ফিরতে না দেওয়া এবং দলের মহাসচিবকে দফায় দফায় জেলে পাঠানো সবকিছুই হয়েছে বিএনপিকে ধ্বংস করে ফেলার উদ্দেশ্যে।
 
বিএনপির এই সংসদ সদস্যদের এসব অভিযোগের কড়া জবাব দেন সরকারি দলের এমপি ডা. হাবিবে মিল্লাত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারী হচ্ছেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কে? সেটি তো আপনারাই (বিএনপি)। যারা বঙ্গবন্ধুর খুনি, স্বাধীনতাবিরোধী, একাত্তরের গণহত্যাকারীদের নিয়ে জোট করে, মন্ত্রী করে তাদের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়-তারা কী স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি?।

তিনি বলেন, তারা (বিএনপির এমপি) আইএমএফসহ কতকগুলো ডাটা দেন এবং বিভিন্ন সংগঠনের কথা বলেন। এসব ভুঁইফোড় সংগঠন যেমন বাংলাদেশে আছে, তেমনি সারা পৃথিবীতে আছে। এদের ফান্ড করলে তারা যে কোন রিপোর্ট আপনাকে তৈরি করে দেবে। 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন করেন না কিন্তু সংসদে ঠিকই এসে বসেন, নির্বাচনের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এতোই যদি নির্বাচন খারাপ হয়ে থাকে তবে এমপি হিসেবে কেন সুযোগ-সুবিধাগুলো নিচ্ছেন? কেন ১০ কাঠা জমির আবেদন করেছিলেন? 

তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান কত হাজার মুক্তিযোদ্ধকে হত্যা করেছে, আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর কত অফিসারকে কোর্ট মার্শাল দিয়ে হত্যা করেছে, অপরারেশন ক্লিনহার্ট করে কত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে হত্যা ও নির্বাচন ঠেকানোর নামে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:০৫
প্রিন্ট করুন printer

আরো দক্ষ কর্মী নিয়োগে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ স্পিকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আরো দক্ষ কর্মী নিয়োগে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ স্পিকারের
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ হতে আরো অধিক সংখ্যক দক্ষ কর্মী সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের জন্য অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি মুজিববর্ষে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সৌদি শুরা কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সোমবার সংসদ ভবনস্থ স্পিকারের কার্যালয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত এসসা ইউসেফ এসসা আল দুহাইলান সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব অনুরোধ জানান। 

সংসদের গণসংযোগ বিভাগ জানায়, সাক্ষাতকালে উভয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কোভিডকালীন উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, অভিবাসন ইস্যু, সংসদীয় সম্পর্কের উন্নয়ন, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, দু’দেশের সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সংসদীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করা সম্ভব। তিনি দক্ষ কর্মী সৌদি আরবে পাঠাতে বাংলাদেশ যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে বলে উল্লেখ করেন। 

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের বুকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ‘মানবতার মা’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সকলের জন্য করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিতকরণেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে কোভিড পরিস্থিতিতেও দেশে খাদ্যাভাব পরিলক্ষিত হয়নি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রণোদনা ঘোষণার মাধ্যমে সময়োপযোগী কার্যক্রম প্রহণ করেছেন।

এ সময় রাষ্ট্রদূত এসসা ইউসেফ এসসা আল দুহাইলান কোভিডকালীন সময়ে সরকারের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। 

রাষ্ট্রদূত বলেন, একত্রে কাজ করার জন্য দু’দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ তৈরি করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দু’দেশের সংসদীয় সম্পর্কের অধিকতর উন্নয়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

রাষ্ট্রদূত এসসা ইউসেফ এসসা আল দুহাইলান বাংলাদেশকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর