শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ মে, ২০২০ ১৪:৪৩
প্রিন্ট করুন printer

সময় টিভির প্রতিবেদন

করোনার টিকা আবিষ্কার হলে প্রথমদিকেই পাবে বাংলাদেশ: ড. ফেরদৌসী

অনলাইন ডেস্ক

করোনার টিকা আবিষ্কার হলে প্রথমদিকেই পাবে বাংলাদেশ: ড. ফেরদৌসী

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই করোনার টিকা আবিষ্কারের সম্ভাবনা দেখছেন টিকা বিজ্ঞানীরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ১৩৫টি ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলায় বাড়ছে আশা। টিকা আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে দেশে তা সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে আইসিডিডিআরবি ট্রায়ালে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান টিকা বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর অতীত অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি। তবে বাংলাদেশে কোন ভ্যাকসিন অধিক কার্যকরী হবে সেটি বুঝতে মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে সেটি বিশ্লেষণ করা জরুরি।

করোনার কার্যকর টিকার জন্য মুখিয়ে আছে থমকে যাওয়া পৃথিবীর প্রতিটি নাগরিক। তাইতো এই প্রথমবার বিশ্বের বড় বড় দাতা সংস্থার পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোও এগিয়ে এসেছে একে অপরকে সহযোগিতার জন্য।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের মোট ৮টি ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই ট্রায়ালের আওতায় এসেছে এবং ট্রায়ালের উপযোগী হয়েছে আরো ৭টি ভ্যাকসিন। ট্রায়ালে আসা ভ্যাকসিনগুলোর কোনো কোনোটি দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত বেশি সংখ্যক মানুষের ওপর পরীক্ষা করে  দেখা হচ্ছে। এর পরের ধাপ তথা তৃতীয় ধাপে কয়েকটি দেশের মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে এর কার্যকারিতা দেখা হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বোচ্চ সহায়তার ও অনেকগুলো দেশ একসঙ্গে এগিয়ে আসায় দ্রুততম সময়ে টিকা আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কলেরা টাইফয়েড টিকার গবেষণার সঙ্গে জড়িত দেশের শীর্ষ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড.  ফেরদৌসী কাদরী।

অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী কাদরী বলেন, এই ৮টা ভ্যাকসিনের মধ্যেই যদি  কোনো একটা অগ্রসর বেশি হয়, ফলাফল ভালো থাকে সেই ভ্যাকসিন আগে চলে আসতে পারে। আশা করা হচ্ছে ডিসেম্বর নাগাদ একটা ভ্যাকসিন আসতে পারে।

মূল ভ্যাকসিনের উপাদান ও প্রযুক্তি থেকে স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক ভ্যাকসিন ডোজ তৈরির অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। ফলে টিকা আবিষ্কার হলে তা প্রথমদিকেই বাংলাদেশ হাতে পাবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানী ও টিকা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী কাদরী।

তিনি বলেন, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান এগুলোতে আমাদের থেকে ভ্যাকসিন  দেরিতে আসে। একটা ভ্যাকসিন তৈরির পর পূর্ণতা পেতে সময় লাগে। তবে কোভিডের ক্ষেত্রে দেশে মানুষের শরীরে কি ধরনের এন্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে সেটি এখন থেকেই যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।

অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী কাদরী বলেন, কি ধরনের এন্টিবডি তৈরি আছে,  কোন কোষের সাথে জড়িত সেটা আমার জানা দরকার। এটা না জানলে ভ্যাকসিন কার্যকরী হবে কিনা তা বুঝতে পারবো না।

বিশ্বের সব দেশ সমান ঝুঁকিতে থাকায় টিকা আবিষ্কারের অংশীদার হতে আগ্রহী সবাই। পুরো বিশ্ব এক হবার এই নজির দ্রুততম সময়ে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:১৬
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:১৫
প্রিন্ট করুন printer

চট্টগ্রামের নতুন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী

চসিক নির্বাচন: নৌকা ৩৬৯২৪৮, ধানের শীষ ৫২৪৮৯

গোলাম রাব্বানী ও সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম থেকে

চসিক নির্বাচন: নৌকা ৩৬৯২৪৮, ধানের শীষ ৫২৪৮৯
রেজাউল করিম চৌধুরী ও ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বহুপ্রতীক্ষিত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৩,৬৯,২৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ৫২,৪৮৯ ভোট। 

বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৩৪ মিনিটে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম থেকে এ ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার মো. হাসানুজ্জামান। এ নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ। 

মোট ৭৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩৩টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে বাকি দুটি কেন্দ্রের ফল স্থগিত রয়েছে।

ভোট শেষে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা জনগণের রায়ে বিশ্বাস  করি, আস্থা রাখি। তবে নির্বিঘ্নে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন।’ অন্যদিকে দুপুরে এজেন্ট বের করে দেওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন বিএনপির প্রার্থী। ভোট গ্রহণ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘চট্টগ্রামে কোনো নির্বাচনই হয়নি। নির্বাচনের নামে হামলা, খুন ও সহিংসতা হয়েছে। নির্বাচনই যখন হয়নি সেখানে ভোট বর্জন কিংবা প্রত্যাখ্যানের প্রশ্নই আসে না।’ অন্যদিকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মো. জান্নাতুল ইসলাম।

গতকাল দফায় দফায় সংঘর্ষ-সহিংসতা, গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, প্রাণহানি ও ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ৫টি ইভিএম ও পুলিশ-নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ৩টি মিনিবাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আমবাগান এলাকায় ভোট কেন্দ্রের বাইরে গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচন চলাকালে পাহাড়তলীতে আরও একজনের মৃত্যু হলেও পুলিশ বলছে, এটা পারিবারিক সংঘাতের মৃত্যু। সংঘর্ষের কারণে পাথরঘাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আটক করা হয়েছে আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী এবং বিএনপি সমর্থিত একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে।

এ সিটির নির্বাচনে মূল লড়াইয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। তবে মেয়র পদে প্রধান দুই দলের দুই প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সাতজন। ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৭২ জন ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৫৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। এবার নগরীর ৭৩৫টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ৮৮৬টি বুথে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হয়েছে। ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন এবং নারী ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন।

জানা গেছে, ২০১০ সালের চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দেন ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের ভোটাররা। ২০১৫ সালের নির্দলীয় ভোটে একটি ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এবার সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ হয়। গত বছর ২৯ মার্চ ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে ২১ মার্চ নির্বাচন স্থগিত করা হয়। সব শেষ আবারও ১৪ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিত হওয়া নির্বাচনে ভোট নেওয়ার নতুন তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

মেয়র প্রার্থীরা : চসিক নির্বাচনে এবার মেয়র পদে সাতজন অংশ নেন। এদের মধ্যে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের মো. রেজাউল করিম চৌধুরী (নৌকা) ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন (ধানের শীষ)। অন্যদিকে ছোট ৪টি দলের মধ্যে প্রার্থী রয়েছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (মোমবাতি) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আবুল মনজুর (আম)। অন্যজন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী খোকন চৌধুরী (হাতি)। এবার নগরীর ১৪টি সংরক্ষিত এবং ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ছোট দলগুলোর কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী নেই। চসিকের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীসহ ২৩৬ জন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এ ছাড়া একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর মৃত্যুতে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট স্থগিত রয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এ ওয়ার্ডে ভোট হবে।

চসিকের ষষ্ঠ ভোটের ফল : ব্রিটিশ আমলে গঠিত চট্টগ্রাম পৌর করপোরেশন সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত হয় ১৯৮৯ সালে। এরপর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। ১৯৯১-১৯৯৩ মেয়াদে বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এই পদে ছিলেন। ১৯৯৪ সালে প্রথম সিটি ভোটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। টানা তিনবার তিনি ভোটে লড়ে জয়ী হয়ে মেয়রের চেয়ারে বসেন। তবে মহিউদ্দিন ২০১০ সালে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলমের কাছে প্রায় ১ লাখ ভোটে পরাজিত হন। মনজুর এক মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর আবার প্রার্থী হন। তবে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের কাছে তিনি হেরে যান। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এ সিটি নির্বাচনে ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মধ্যে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী মনজুর। ওই নির্বাচনে মোট ৭১৯ কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী হাতি প্রতীকের আ জ ম নাছির পেয়েছিলেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মন্জুর আলম কমলা লেবু প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৭ ভোট।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 

 


 


 
  


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৪৫
প্রিন্ট করুন printer

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

আমার যৌবনের ২৫ বছর ফিরিয়ে দেবে কে?

অনলাইন ডেস্ক

আমার যৌবনের ২৫ বছর ফিরিয়ে দেবে কে?
প্রতীকী ছবি

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এক মামলার তদন্তে মূল আসামির নাম ও বাবার নামের সাথে মিল থাকায় অভিযুক্ত করা হয় আরেক ব্যক্তিকে। পরে সেই ব্যক্তি উচ্চ আদালতে আবেদন করলে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত নিয়ে ওই ব্যক্তির অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারতো। তবে ওই ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত কারাভোগ করতে না হলেও অনেকেই এরকম ক্ষেত্রে ভাগ্য তেমন সুপসন্ন হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে এরকম একটি আলোচিত মামলা ছিল জাহালমের ঘটনাটি, যিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের ভুল তদন্ত এবং এক ব্যাংক কর্মকর্তার ভুল সাক্ষ্যের কারণে তিন বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন। পরে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে জাহালম নিরপরাধ। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সব মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্তি পান জাহালম।

কোনো অপরাধ না করেও জীবনের একটা লম্বা সময় কেটেছে কারাগারে - সিনেমার কাহিনীর মত শোনালেও এরকম ঘটনা কিন্তু মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে আমাদের আশেপাশে। তদন্তে অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত ভুল, মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়া - এরকম নানা কারণে আদালত অনেকসময় ভুল রায় দিয়ে থাকেন, যার ফল ভোগ করতে হয় নিরপরাধ কোন ব্যক্তিকে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিনা অপরাধে কারাভোগ করার কয়েকটি আলোচিত ঘটনা তুলে ধরে বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বিনা অপরাধে ১৩ বছর কারাভোগ, অতঃপর মৃত্যু
দু’হাজার তিন সালে সাতক্ষীরায় দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন ওবায়দুর রহমান, যিনি আবেদ আলী হিসেবে বেশি পরিচিত। ২০০৬ সালে আদালত ওই মামলায় আবেদ আলীসহ আরো দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর ২০১১ সালে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে এবং আবেদ আলীকে খালাস দেয়। কিন্তু উচ্চ আদালত খালাস দিলেও রাষ্ট্র পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন এবং পরবর্তী চার বছর ধরে শুনানি চলে মামলার।

দু’হাজার আঠারো সালের এপ্রিলে আদালত খালাস বিভাগের রায় বহাল রেখে সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্তের পরও মুক্তি পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি আবেদ আলীর। সেই বছরের অক্টোবর মাসের যে দিন আবেদ আলীকে কারাগার থেকে খালাস করার রায়ের কপি কারাগারে গিয়ে পৌঁছায়, ওই দিন তার কিছুক্ষণ আগে মারা যান আবেদ আলী। তিনি যে নির্দোষ, মৃত্যুর আগে সেই স্বীকৃতিটা পেলেও মুক্ত অবস্থায় একদিনও তিনি পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারেননি।

১৯৯২ সালে বাসে ডাকাতির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাবুল মিয়া যখন গ্রেফতার হন, তার বয়স তখন ১৮ বছর। এরপর ২০১৭ সালে তিনি যখন বেকসুর প্রমাণিত হন এবং তাকে খালাস দেয়া হয়, সেসময় তার বয়স ৪৩। অর্থাৎ, নিজের জীবনের কৈশোরের একাংশ, তারুণ্য এবং যৌবনের একটা বড় অংশ কাটিয়েছেন জেলে। মজার ব্যাপার হলো, যে মামলায় ২৫ বছর কারাভোগ করেছেন বাবুল মিয়া, সেই মামলায় দোষী প্রমাণিত হলেও তার সর্বোচ্চ শাস্তি হত ১০ বছর।

বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই মূলত এই দীর্ঘসময় কারাগারে থাকতে হয় বাবুল মিয়াকে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উঠে আসে যে, ১৯৯৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরে বিচার চলাকালীন সময়ে মামলার সাক্ষীদের অধিকাংশই সাক্ষ্য দিতে আসেননি। মামলার বাদী এবং তদন্ত কর্মকর্তাও কখনো আদালতে উপস্থিত হননি বলেও উঠে আসে প্রকাশিত খবরে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জেল থেকে বের হয়ে বাবুল মিয়া সাংবাদিকদের সামনে একটি প্রশ্ন রেখেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সামর্থ্য ছিল না কারো। প্রশ্নটি ছিল: ‘আমার যৌবনের ২৫ বছর ফিরিয়ে দেবে কে?’

স্ত্রী-কন্যা হত্যার মিথ্যা অভিযোগে ২০ বছর জেলে
নিজের স্ত্রী ও দেড় বছরের কন্যা হত্যার অভিযোগে দুই হাজার সালে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয় বাগেরহাটের শেখ জাহিদকে। ওই বছর শেখ জাহিদ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন, যেটির শুনানি শেষে ২০০৪ সালে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের আদেশ জারি রাখেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিপরীতে আসামি জাহিদ আবারো আবেদন করেন, যেই আবেদনের সুরাহা হয় ২০২০ সালের অগাস্টে। আদালত শেখ জাহিদকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় কারাবাসের পুরোটা সময়ই ফাঁসির আসামির জন্য নির্ধারিত ‘কনডেমড সেল’-এ দিনযাপন করতে হয় শেখ জাহিদকে। ৩০ বছর বয়সে শাস্তির মেয়াদ শুরু করা ওই ব্যক্তি যখন খুলনা কারাগার থেকে মুক্তি পান, তখন তার বয়স ৫০ বছর।

আসামির বাবার নামের সাথে মিল, ৫ বছর কারাগারে
গত সপ্তাহে কাশিমপুর কারাগার থেকে আরমান নামের এক ব্যক্তিকে খালাস করা হয়, যিনি ২০১৬ সাল থেকে কারাগারে ছিলেন। দু‌’হাজার পাঁচ সালে বিস্ফোরক আইনে করা একটি মামলায় একজন আসামির বাবার নাম আর মিরপুরের বাসিন্দা আরমানের বাবার নাম একই।

ওই মামলায় একজন আসামিকে ২০১২ সালে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। ওই আসামি সে সময় পলাতক ছিলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো অনুযায়ী, শুধুমাত্র বাবার নাম এক থাকার কারণে ২০১৬ সালে মিরপুর থেকে আরমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

পরে এই বিষয়ে আরমানের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে রিট করা হয় এবং চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত আরমানকে খালাস করার রায় দেন। এই ঘটনায় আরমানকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার এবং আরমানকে আটকের ঘটনার দায় নিরূপণে নতুন করে তদন্তের সিদ্ধান্ত দেন আদালত।

বহুল আলোচিত জাহালমের কারাভোগ
দু’হাজার ষোল সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যখন জাহালমকে গ্রেফতার করা হয়, তখন তিনি নরসিংদীতে এক পাটকলে কাজ করছিলেন। এরপর ঠিক তিন বছর পূর্ণ হবার দু'দিন আগে হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে প্রমাণিত হয় যে তিনি নির্দোষ হয়েও জেল খাটছিলেন। একটি ব্যাংক থেকে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জাহালমকেই আবু সালেক বলে চিহ্নিত করে সাক্ষ্য দিলে জাহালমকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।

কার দোষে জাহালমের কারাভোগ করতে হলো - তা নির্ণয় করতে পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই তদন্তের ফলাফল আজো দিনের আরো দেখেনি।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৩৬
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০৩
প্রিন্ট করুন printer

বিচারকদের আর্থিক বিচারিক এখতিয়ার বাড়িয়ে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচারকদের আর্থিক বিচারিক এখতিয়ার বাড়িয়ে বিল পাস
ফাইল ছবি

দেওয়ানি মামলা বিচারের ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের বিচারকদের আর্থিক বিচারিক এখতিয়ার পাঁচ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা নির্ধারণ করে ‘দ্য সিভিল কোর্টস (সংশোধন), ২০২১’ বিল সংসদে পাস হয়েছে। ২০১৬ সালে আইন করে সিভিল কোর্টগুলোর বিচারিক এখতিয়ার বাড়ানো হলেও হাইকোর্ট তা স্থগিত করে দেয়। ফলে নতুন করে আইন সংশোধন করা হচ্ছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের একাদশ তথা শীতকালীন অধিবেশনে আজ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর আনীত জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। গত ১৯ জানুয়ারি বিলটি সংসদে উত্থাপিত হয়। 

বিলে পাঁচ কোটি টাকার কম মূল্যমানের কোনও মামলায় যুগ্ম-জেলা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কোনও আপিল বা কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন থাকলে তা জেলা জজ আদালতে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে পাঁচ কোটি টাকার কোনও আপিল হলে হাইকোর্টে যাওয়া লাগতো। আইন সংশোধনের ফলে জেলা জজ সেই আপিল শুনানি করতে পারবেন।

আগে বিকল্প বিরোধের ক্ষেত্রে একজন সহকারী জজ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের (সম্পত্তি বা অর্থে যে অংকের টাকা নিয়ে বিরোধ) মামলা নিষ্পত্তি করতে পারতেন। এখন সেই এখতিয়ার বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজের বিচারিক এখতিয়ার চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা এবং আপিল শুনানির ক্ষেত্রে জেলা জজের এখতিয়ার পাঁচ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে।

বিলে ২০১৬ সালের ওই সংশোধন রহিত করে একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। সরকার ২০১৬ সালেও টাকার অংকে বিচারিক এখতিয়ার একই পরিমাণ বাড়িয়ে আইন সংশোধন করেছিল। কিন্তু তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন হলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সরকারের ওই গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়। 

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালের বিলটি নিয়ে উচ্চ আদালতের সঙ্গে সরকারের ‘আউট অব কোর্ট’ সেটেলমেন্ট হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, তারা নতুন করে আইন প্রণয়ন করবে। তখন হাইকোর্ট জানিয়েছে তারা নতুন আইন দেখে আগের বিষয়টির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের সংশোধনী উচ্চ আদালতে বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট প্রশাসনিক জটিলতাসহ বিচারপ্রার্থী জনগণের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে সরকার আইনটি সংশোধন আবশ্যক মনে করছে।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:৪৪
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:২৯
প্রিন্ট করুন printer

দেশ উন্নত হওয়ায় মানুষ ভোটে আগ্রহ হারিয়েছে : ইসি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশ উন্নত হওয়ায় মানুষ ভোটে আগ্রহ হারিয়েছে : ইসি সচিব
ইসি সচিব মো. আলমগীর। ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ভোটদানের প্রতি নাগরিকদের অনীহা রয়েছে। হয়তো দেশ উন্নত হ‌ওয়ার সাথে সাথে মানুষও ভোটদানে আগ্রহ হারিয়েছে। বুধবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, ভালো নির্বাচন হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে নির্বাচন হয়েছে। তবে দুটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হয়েছে, সে দুটি স্থগিত রয়েছে। অভিযোগ পেলে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। তবে আগের তুলনায় এই নির্বাচনে কম সহিংসতা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি‌ও কম। 

তিনি বলেন, কোনো কোনো কেন্দ্র ৫০ থেকে ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কোনো কেন্দ্রে আবার ৫ ভাগ ভোটও পড়তে পারে।

বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে মো. আলমগীর বলেন, বিএনপির অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। উপযুক্ত প্রমাণসহ অভিযোগ করা হলে বিষয়টা ভেবে দেখা হবে, ভিডিও থাকলে ভালো হয়।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:২৭
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০৬
প্রিন্ট করুন printer

৪৩তম বিসিএসে আবেদনের সময় বাড়ল

অনলাইন ডেস্ক

৪৩তম বিসিএসে আবেদনের সময় বাড়ল
ফাইল ছবি

৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার অনলাইন আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে পেছানো হয়েছে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ।

বুধবার পিএসসির কমিশনের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন গণমাধ্যমকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘৪৩তম বিসিএসের আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি আবেদন কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পরবর্তী দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। ইউজিসির পাঠানো আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

পিএসসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আবেদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এটি আগামী ৬ আগস্ট নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও এ সময়ে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুরু করা হবে।’

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর