শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ আগস্ট, ২০২১ ১২:৫৫
আপডেট : ৪ আগস্ট, ২০২১ ১৭:০৫
প্রিন্ট করুন printer

নওগাঁয় ৫০০ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বসুন্ধরা গ্রুপের

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

নওগাঁয় ৫০০ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বসুন্ধরা গ্রুপের
নওগাঁয় ৫০০ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।
Google News

দুই পায়ের একটি নেই দোলে বেগমের। চলাফেরা করেন লাঠিতে ভর দিয়ে। স্বামী বেঁচে নেই। হয়নি কোনো ছেলে সন্তান। তাই এক মেয়েকে নিয়েই অন্যের ভিটায় মাথার ঠাঁই গুজেছেন। সঙ্গে মেয়ের জামাইও থাকেন। রিকশা চালিয়ে সামান্য উপার্জন তার। কোনোভাবে দুই বেলা খেয়ে বেঁচে আছেন। চন্ডিপুর মাদ্রাসা মাঠে এসেছেন খাদ্য সামগ্রী নিতে।

আজ বুধবার নওগাঁ সদর উপজেলায় ৫০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। কালের কণ্ঠের শুভসংঘের সহযোগিতায় বিতরণ করা হয় এসব খাদ্য সামগ্রী। প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল, তিন কেজি ডাল ও তিন কেজি আটা দেওয়া হয়। বসুন্ধরা গ্রুপের দেয়া এ খাদ্য সামগ্রী পেয়ে বস্তা আঁকড়ে ধরে কেঁদে দিলেন দোলে বেগম।

তিনি বলেন, ‘কি কমু বা দুঃখের কথা। মেয়ের জামাই দিন আনে দিন খায় তা দিয়াই মোক কষ্টত চলে যায়। তোমাঘর খাবার পানু, দোয়া করি। আল্লাহ আরো দিবার তৌফিক থুক।’

খাদ্য সামগ্রী নিতে আসা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘মুই আগে ডেকোরেটর দোকানত কাম করতাম। এলা করোনায় দোকান বন্ধ। কাম করবা পারি না। খাওয়া কষ্ট হয়। এলা চাল-ডাল দিয়া খায়ে থাকপা পারুম। তোমাঘরক আল্লাহ সুস্থ থুক।’

আমেনা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘মোর স্বামী মারা গেছে। বেটা আর বেটার বউ ভিনো খায়। মোর এটা ১৪ বছরের বেটি আচে। ওর বিয়া দিচু নতুন। মানুষের বাইত কাম করে দিন চলে। নতুন বেটির বাইত অনেক কিচু দিবা হয় কিন্তু মুই নিজেই একন খাওয়া পাচোনা বেটিক কি দিমু? করোনা না হলে তাও মানষের বাইত কাম কিরে দিন চলত। একন তো খাওয়ার কষ্ট। তোমরা আজকা এলা না দিলে আজকাও না খায়ে থাকপা হলোহিনি। তোমরা যারা ত্রাণ দেচিন হামাঘরক আল্লাহ বেকের ভালো থুক।’

নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৩০০ এবং চন্ডিপুর বোর্ড মাদরাসা মাঠে ২০০ পরিবারকে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে বসুন্ধরা গ্রুপ। এছাড়া সকলের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও করোনা সুরক্ষায় সচেতনতামূলম কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. হারুণ-অর-রশীদ বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় কালের কণ্ঠ শুভসংঘের এমন একটি উদ্যোগের জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের জেলার অসংখ্য অতিদরিদ্র মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে এবং দিবে তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ জানাই। করোনা মোকাবেলায় আগামী ৭ তারিখ থেকে আপনাদের মাঝে গণটিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। আপনারা সবাই টিকা গ্রহণ করবেন। এছাড়া সবাই সঠিকভাবে মাস্ক পরে থাকবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

চন্ডিপুর বোর্ড মাদরাসা মাঠে উপস্থিত হয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, করোনার কারণে এখন খেটে খাওয়া মানুষের জন্য জীবিকা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সময়ে বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্য সামগ্রী পেয়ে কিছুদিন নিশ্চিন্তে খেতে পারবে তারা। আমি বসুন্ধরা গ্রুপ এবং শুভসংঘের সবার মঙ্গল কামনা করি। আগামীতেও আপনাদের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে সেই প্রত্যেশা করি।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফর রহমান, নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম খান, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, চন্ডিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম মুকুল, কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. মামুন অর রশিদ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসমত আলী, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ ২৪ এর জেলা প্রতিনিধি বাবুল আখতার রানা, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, নওগাঁ জেলার সভাপতি এড. বুলবুল আহমেদ, আতিক শাহরিয়ার, মুমিনুল ইসলাম, শাকিল হোসেন ও উত্তরা ইউনিভার্সিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন রনিসহ সেচ্ছাসেবী নিয়ন, নিশান, রূপক, সেতু, জয়, রায়হান, সাব্বির, মুন্না, সজল, রবিউল, রাজকুমার।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

এই বিভাগের আরও খবর