শিরোনাম
৯ জানুয়ারি, ২০২৪ ১০:৪৩

সমঝোতায় জাতীয় পার্টির সর্বনাশ

২০০ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

সমঝোতায় জাতীয় পার্টির সর্বনাশ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে একাদশ সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা)। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে তার ছোট ভাই জি এম কাদেরের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র ১১ আসনে জয়লাভ করেছে দলটি। অন্তত ২০০ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তাদের প্রার্থীদের। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতাই ডেকে এনেছে জাতীয় পার্টির সর্বনাশ। ১৯৯১ সালে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতা হস্তান্তর বা পতনের পর জাতীয় পার্টির নির্বাচনি ইতিহাসে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপর অনুষ্ঠিত ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ২২১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৫টিতে জয় পেয়েছিল দলটি। ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটি যথাক্রমে ৩২ এবং ১৪টি আসন পেয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অধীনে অংশ নেয় এবং ২৭টি আসনে জয় পায় জাতীয় পার্টি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাপার ৩৪ জন প্রার্থী বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অধীনে নির্বাচনে দলটি জয় পায় ২২টি আসনে।

জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮৩ আসনে মনোনয়ন দেয় জাতীয় পার্টি। মনোনয়ন বৈধ হয় ২৬৫ প্রার্থীর। এদের মধ্যে ২৩০ জনই নির্বাচনি প্রচারণায় খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকের পর ক্ষমতাসীন দল ২৬টি আসন থেকে নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহার করে জাতীয় পার্টির জন্য ছেড়ে দেয়। নৌকার ছেড়ে দেওয়া ২৬ আসনের মধ্যে ১১টিতে বিজয়ী হন লাঙল প্রার্থীরা। পটুয়াখালী-১ আসনে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও বরিশাল-২ আসনে আশরাফুজ্জামান ছাড়া জাতীয় পার্টির বিজয়ীরা সবাই বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদেরও সদস্য। একাদশ সংসদের ২৩ জন সদস্যের মধ্যে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হতে পারেননি। বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ও তাঁর ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ এবার নির্বাচন করেননি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় আসন না পেয়ে কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এর বাইরে দল থেকে বাদ পড়া সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা রংপুরে ও ডা. রুস্তম আলী ফরাজি পিরোজপুরে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে হেরে গেছেন। রওশনপন্থি বলে পরিচিত রংপুর-১ আসনে মসিউর রহমান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জিয়াউল হক মৃধাকে জেতানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা জিততে পারেননি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় এবার ঢাকায় একটি মাত্র আসন (ঢাকা-১৮) পায় জাতীয় পার্টি। সেটি জি এম কাদেরের স্ত্রী ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এ আসনে শেরীফা কাদের জামানত হারিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও শীর্ষ নেতাদের একতরফা ও বিতর্কিত কাজের নীরব প্রতিবাদস্বরূপ পর্যায়ক্রমে ভোট বর্জন করেন অনেক প্রার্থী। অনেকেরই অভিযোগ, নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে নেতারা প্রার্থীদের বিভ্রান্তিতে রাখায় তারা ভোটের মাঠ গোছাতে সময় পাননি। বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে অন্তত ১০০ আসনে নৌকা ছাড়ের বিষয়ে জাতীয় পার্টির অনড় থাকা প্রয়োজন ছিল। নইলে জনদাবি মেনে ভোট প্রত্যাহার করা দরকার ছিল। মাত্র ২৬ আসনে ছাড় নিয়ে অন্যসব আসনে লাঙলের প্রার্থীদের মাঠে নামিয়ে দলটির অনেক সিনিয়র নেতাকে রাজনৈতিক বলি দেওয়া হয়েছে। একাধিক প্রার্থী জানান, নির্বাচনি প্রচারণায় পার্টি থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, সরকার সমর্থকদের হামলা এবং প্রশাসনের হুমকি-ধমকি নিয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য একাধিকবার ফোন করলেও দায়িত্বশীলদের কেউ কল রিসিভ করেননি। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থীকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হলেও সেখানেও মুখ দেখে ‘আস্থাভাজন’ কয়েকজনের মাঝে তা সীমাবদ্ধ ছিল।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর