সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২ ০০:০০ টা

জীবন চৌধুরী হত্যায় কিশোর গ্যাং লিডার ঘোড়া জনি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে দুই কিশোর গ্যাংয়ের হাতে নিহত জীবন চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কিশোর গ্যাং লিডার জনি ওরফে ঘোড়া জনিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০। রবিবার রাতে চকবাজারের হরনাথ ঘোষ রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব বলছে, কিশোর জীবনকে হত্যার পর থেকে পলাতক ছিল জনি। জনি কামরাঙ্গীরচরের মধ্যবয়সী ও স্বল্পবয়সী কিশোরদের নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলছে। তাদের মাধ্যমে জনি কামরাঙ্গীরচরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মারামারি, হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। জনির বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় মাদক, হত্যাচেষ্টা, চুরিসহ আটটি মামলা রয়েছে।

এর আগে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জীবন চৌধুরী, রাফি ও বিজয়ের সঙ্গে জনি ওরফে ঘোড়া জনি, দ্বীন ইসলাম ওরফে বাবু ও হৃদয়সহ আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনি ওরফে ঘোড়া জনি, দ্বীন ইসলাম ওরফে বাবু ও তাদের সহযোগীরা মিলে জীবন, রাফি ও বিজয়দের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবন চৌধুরী, রাফি ও বিজয় কামরাঙ্গীরচরের ১ নম্বর কলেজ রোড এলাকায় অবস্থান করছিল। এমন সময় জনি ওরফে ঘোড়া জনি ও দ্বীন ইসলাম ওরফে বাবু তাদের সহযোগীদের নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি কিল, ঘুসি ও লাঠি দিয়ে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে জনি ও তার সহযোগীরা তাদের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে জীবন চৌধুরী, রাফি ও বিজয়ের শরীরে ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন, রাফি ও বিজয়কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পরদিন সকাল ৯টায় ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন চৌধুরী মারা যান। রাফি চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকলেও বিজয় চিকিৎসা নিয়ে ঢামেক হাসপাতাল ছেড়েছে। ওই ঘটনায় জীবনের বাবা আবদুল হান্নান বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় জনি ওরফে ঘোড়া জনি, দ্বীন ইসলাম ওরফে বাবুসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। নিহত জীবন চৌধুরীর বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম থানার পশ্চিমঘরে। সে কামরাঙ্গীরচর আলিনগর এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত।

জীবন চৌধুরীর বাবা আবদুল হান্নান বলেন, আমার ছেলে মৌলভীবাজারের একটি কার্টন ফ্যাক্টরিতে চাকরি করত। শুক্রবার কারখানা বন্ধ থাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। এলাকার বাবুসহ আরও কয়েকজন মিলে আমার ছেলের কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ওদের বন্ধুসহ সবাই বাধা দিলে তিনজনকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় জীবনকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে সে মারা যায়।

সর্বশেষ খবর