শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০২১ ১০:০৭
প্রিন্ট করুন printer

জর্জ ফ্লয়েড হত্যার রায় ; স্বস্তির শ্বাস গোটা আমেরিকায়

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

জর্জ ফ্লয়েড হত্যার রায় ; স্বস্তির শ্বাস গোটা আমেরিকায়

শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক চৌভিনের দোষী সাব্যস্ত হবার মধ্য দিয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেললেন আমেরিকানরা। জর্জ ফ্লয়েডকে নিষ্ঠুর ও নৃশংসভাবে হত্যার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে গোটাবিশ্বে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটিয়েছিল। যে ক্ষোভের মাত্রা বেড়ে যায় পদ্ধতিগত বর্ণবিদ্বেষী আচরণের ঘটনাবলি অব্যাহত থাকায়। মিনেসোটার আদালতে ২০ এপ্রিল ডেরেককে জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হত্যার তিনটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করার পর সেই ক্ষোভের পরিসমাপ্তি ঘটলো।

ডেরেকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ছিল দ্বিতীয়-ডিগ্রি অনিচ্ছাকৃত হত্যা, তৃতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং দ্বিতীয়-ডিগ্রি নরহত্যা। ৮ সপ্তাহ পর একটি আদালত ডেরেকের কারাবাসের মেয়াদ ঘোষণা করবেন। এই মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীরা মনে করছেন কমপক্ষে ৪০ বছর তাকে কারাগারে কাটাতে হবে। অর্থাৎ কারাবাসের সাথে সাথে ডেরেকের (৪৫) বেঁচে থাকার মেয়াদও প্রায় ফুরিয়ে যাবে। দোষী সাব্যস্ত করার রায় ঘোষণার পরই ডেরেকের জামিন বাতিল হয়ে যায় এবং তাকে হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে নেয়ার দৃশ্যও সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

উল্লেখ্য, এই মামলার বাদী ও বিবাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের দীর্ঘ ১৪ দিনই টিভিতে তা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। জুরিবোর্ডেও ১০ ঘণ্টার পর্যালোচনার বিষয়টিও টিভিতে সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন আমেরিকানরা।

করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে জর্জ ফ্লয়েডকে হাতকড়া পরিয়ে মিনেসোটার ওই পুলিশ অফিসার একবার গাড়িতে উঠান জর্জ ফ্লয়েডকে, তারপরই টেনে-হিচড়ে গাড়ি থেকে বের করেই পেছনের চাকার সাথে ফেলে দিয়ে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চাপ দেন ডেরেক। ৯ মিনিট ২৯ সেকেন্ড পর্যন্ত চেপে রেখেছিলেন তিনি। সেই দৃশ্য ধারণ করে এক স্কুলছাত্রী। 

ঐতিহাসিক এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকায় ন্যায়ের শাসন পুনপ্রতিষ্ঠিত হলো। তবে এটাই শেষ নয়। নানা প্রক্রিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বিদ্বেষ প্রদর্শনের ঘটনাবলি এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে, তাকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন। সকল বর্ণ-ধর্ম-গোত্রের মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিতে আরও অনেককিছু করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ওবামা।

ফ্লয়েডের হত্যা-মামলায় ডেরেককে দোষী সাব্যস্ত করার  রায় প্রদানের ঘণ্টাখানেক আগে ওহাইও স্টেটের কলম্বাস সিটির পুলিশের গুলিতে ১৬ বছর বয়েসী এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণীর প্রাণ ঝরেছে। তার নাম মাখিয়া ব্রায়ান্ট। মিনিয়াপলিস সিটির নিকটে ব্রুকলীন সেন্টারে কয়েকদিন আগে আরেক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আন্দোলন চলছে লাগাতারভাবে।

৪৬ বছর বয়েসী ফ্লয়েডের স্বজনেরা এই রায়ের পর গণমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, ‘এখন আমরা শ্বাস নিতে পারছি বাধাহীনভাবে।’

ফ্লয়েডের বড়ভাই ফিলোনিস ফ্লয়েড বলেন, ‘আমাদের শোভাযাত্রা করতে হবে। সারাটি জীবনই আন্দোলনে থাকতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে। কারণ, এমন বর্ণবিদ্বেষী আচরণ কখনোই থামবে না। কারণ, আমরা তো শুধু ফ্লয়েডের হত্যার বিচারের জন্যে লড়িনি। এ বিশ্বের সকল মানুষের সমঅধিকারের জন্যে লড়ছি।’


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর