শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুন, ২০১৯ ২১:৩৪

অটোরিকশা নির্মাণের গ্যারেজ থেকে আকাশের গাড়ি নির্মাণ

শনিবারের সকাল ডেস্ক

অটোরিকশা নির্মাণের গ্যারেজ থেকে আকাশের গাড়ি নির্মাণ

নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় পার্ক করা একটি ‘ল্যাম্বোরগিনি’ গাড়ি। হঠাৎ দেখে আঁতকে উঠতে পারেন ইতালির বিখ্যাত গাড়ি প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বোরগিনি মডেলের এই গাড়িটি এখানে কীভাবে এলো? আবার এও ভাবতে পারেন, বিদেশি গাড়ির পার্টস এনে হয়তো নতুন করে রিকন্ডিশন করা হয়েছে। আসলে এর কোনোটিই নয়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে অবস্থিত অটোরিকশা ওয়ার্কশপে হাতে তৈরি হয়েছে ল্যাম্বোরগিনির আদলে এই গাড়িটি। ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম গাড়িটি তৈরির অনুপ্রেরণাও এসেছিল ক্যালেন্ডারের পাতায় থাকা ছবি দেখে। অথচ আকাশ দেশীয় প্রযুক্তিতে নিজের হাতে প্রস্তুত করে দেখিয়েছেন অসাধারণ এই গাড়িটি। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার লামাপাড়ার মো. নবী হোসেনের ছেলে।

ছোট থেকেই আকাশ আহমেদের শখ ছিল নিজের তৈরি গাড়িতে চড়বেন তিনি। প্রথমদিকে মফস্বলের এক কিশোরের এমন স্বপ্নকে কেউ-ই গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু আকাশ আপনমনে একটু একটু করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। একসময় বাবাকে সব কথা খুলে বলেন। বাবার সমর্থন নিয়ে দেড় বছর আগে আকাশের শুরু হয় গাড়ি তৈরির মিশন। বাবার কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০-২০০ টাকা করে নিয়েই অল্প অল্প করে কাজ চালাতে থাকেন। ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়াল দেখে কাজের ধারণা নেন। জাহাজ কাটার অভিজ্ঞতা ছিল তার। আর তাই ইস্পাতের পাত কেটে কেটে গাড়ির বডির শেপ তৈরি করা তার জন্য সহজ হয়। এরপর গাড়ির নির্মাণ, জোড়াতালি সবই আকাশের নিজের হাতে সম্পন্ন হয়। তবে গাড়ির চাকা আর স্টিয়ারিং হুইলটা কিনে আনা হয়। এদিকে চাকার সাসপেনশন, হেডলাইট ব্যাকলাইট, গিয়ারÑ এসবও তিনি নিজের হাতে তৈরি করেন। প্রায় দেড় বছরের টানা প্রচেষ্টায় নিজের স্বপ্নের পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সক্ষম হন অদম্য কিশোর আকাশ।

গাড়িটিতে পাঁচটি ব্যাটারি লাগানো হয়েছে। এই ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে লাগবে পাঁচ ঘণ্টা। যেটি প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম। দুজন আরোহী নিয়ে গাড়িটি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারবে। গাড়িটি পূর্ণরূপে দাঁড় করাতে আকাশের ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে গাড়ির বডি কার্বন ফাইবারে নিয়ে আসলে খরচ আরও ৫০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব। গাড়ি বানানোর এই কাজটি আকাশের জন্য সহজ ছিল না। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় মাঝে মাঝেই বিপাকে পড়তে হয়েছে। তবে অনুমাননির্ভর করেই তার পাড়ি দিতে হয়েছে পুরো পথ। শেষমেশ শখের গাড়িটি বাস্তব রূপ দিয়ে ইচ্ছার পূর্ণতা ঘটিয়েছেন আকাশ আহমেদ।


আপনার মন্তব্য