শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ২১:৪৫

প্যাশন ফলে ভাগ্য বদল রানার

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্যাশন ফলে ভাগ্য বদল রানার

বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত জেলা নওগাঁ। জেলার পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের রূপগ্রাম এগ্রো ফার্মে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর বেগুনি রঙের বিদেশি ‘প্যাশন’ ফল চাষ শুরু করেছেন উচ্চশিক্ষিত তরুণ কৃষক  সোহেল রানা। পরিশ্রমী উদ্যোক্তার ক্যাটাগরিতে চলতি বছর ‘চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব’-এর পক্ষ থেকে রূপগ্রাম এগ্রো ফার্মকে ইউসুফ চৌধুরী সম্মাননা-২০১৮ প্রদান করা হয়। এই ফল থেকে ট্যাংয়ের মতো শরবত তৈরি হয় বলে দেশে ট্যাং ফল নামেও এর পরিচিতি আছে। পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক ড. মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘প্যাসিফ্লোরা ইডুলিস’ বৈজ্ঞানিক নামের বিদেশি এই ফলটি দেশে প্রথম চাষ শুরু হয়েছে সোহেল রানার হাত ধরেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফলের বীজ, চারা এবং সায়ন সংগ্রহ করে নিজের বাগানে চাষ করা সোহেল রানার শখ। অন্তত ১২ জাতের নতুন ফলের গাছ রয়েছে তার বাগানে, এর অধিকাংশ গাছে ফল আসতেও শুরু করেছে। আমাদের দেশে হলুদ প্যাশন ফলের চাষ হচ্ছে গত ৫০ বছর ধরে কিন্তু বেগুনি রঙের প্যাশন ফল এই প্রথম। ফলটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করলে কৃষক লাভবান হবেন কারণ হলুদ প্যাশন ফলের চেয়ে এর ফলন দ্বিগুণ হয়। গত বছরের ৭ এপ্রিল কুমিল্লার  মোহাম্মেদ বাহাদুর নামে একজন ইতালি প্রবাসী তাকে এই ফলের দুইটি চারা পাঠিয়েছিলেন। তার একটি তিনি উপহার দেন বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক এম এনামুল হককে। তিনি বলেন, ফলটি অত্যন্ত পুষ্টিকর। এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ রয়েছে। সোহেল রানা জানান, ২০০৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও কাজে তেমন মনোযোগ দিতে পারেননি। গ্রামের খেত-খামারই তাকে বেশি টানত। সোহেল রানার স্বপ্ন ছিল গ্রামে একটি কৃষি খামার করার,  যেখানে থাকবে দেশ-বিদেশের নানা রঙের, নানা স্বাদের ফল। ২০১৫ সালে সোহেল রানা গ্রামে ফিরে যান, উদ্যোগ নেন কিছু একটা করার। নিজের ছোট ভাই আবদুল বারীকে সঙ্গে নিয়ে পৈতৃক জমিতে শুরু করেন ‘রূপগ্রাম এগ্রো ফার্মের’ কাজ। এরপর থেকে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তার বার্ষিক আয় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। তিনি বলেন, প্যাশন ফলের চারাটি কিছুদিন টবে রেখে গত বছরের মে মাসে বাগানের একটি পুকুরপাড়ে রোপণ করি। এ বছর মার্চে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত গাছটিতে প্রায় দুই শতাধিক ফল ধরেছে।


আপনার মন্তব্য