শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৩৯

অনুপ্রেরণীয়

৯০ বছর বয়সে উদ্যোক্তা

সুজন খান

৯০ বছর বয়সে উদ্যোক্তা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হরভজনসের অর্ডারের পরিমাণও বাড়ছে আর তাই হরভজন কৌরের  মেয়ে রাবিনা ভাবছেন কিছু মানুষ নিয়োগ করবেন এই প্রতিষ্ঠানে। ৯৪ বছর বয়সী বৃদ্ধার অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ হয়েছে এবং প্রমাণ করেছেন ‘বার্ধক্য শরীরে নয় মনে’  

৯০ বছর বয়সের এক বৃদ্ধা পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নারী ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা হিসেবে। নাম হরভজন কৌর, থাকেন পাঞ্জাবের চন্ডীগরের একটি শহরে তার মেয়ে জামাই ও নাতনির সঙ্গে।  শুরু থেকেই হরভজন কৌরের রান্নার প্রশংসা ছিল। যখনই বাসায় কোনো অনুষ্ঠান হতো খাবার তৈরির দায়িত্ব অর্পিত হতো তার উপরই। প্রতি বারই মেহমানরা তার রান্নার বহুমুখী প্রশংসায় মুখরিত হতেন। লাজুক প্রকৃতির হরভজন কোনো দিনও এই প্রশংসা পেয়েও মেহমানদের সামনে আসতেন না। নীরবে ও নিভৃতে করে গিয়েছেন সংসার।  পালন করে গিয়েছেন তার দায়িত্ব। কোনো দিনও মুখ ফুটে বলেননি মনের গভীরের সুপ্ত বাসনা। সে কালের মা-খালাদের মতোই তার বেশিরভাগ সময়ই কাটত রান্নাঘরে।  বিভিন্ন রান্নার পাশাপাশি তিনি পারদর্শী ছিলেন হরেক প্রকার মিষ্টি তৈরিতে এবং অনেক প্রকার সুস্বাদু আচার বানাতে। হরভজন কৌরের মেয়ে রাবিনা বলেছেন, উনি রান্নায় এতো পারদর্শী ও গুণী যে ছোট বেলায় আমরা কখন কী খাব এ নিয়ে কোনোদিনই ভাবতে হয়নি, সব সময় কিছু না কিছু উনি আমাদের জন্য বানিয়ে রাখতেন। যেমন- মিষ্টি, চকলেট, শরবত ইত্যাদি। রাবিনা আরও জানান, প্রতি শীতে মা-পুরো পরিবারের জন্য বেসনের বরফি বানাতেন যা পুরো টেবিলজুড়ে থাকত। আর এই বেসনের বরফিই ছিল মায়ের বিখ্যাত ও পরিচিত বিশেষ মিষ্টি যা নিজস্বতায় পরিপূর্ণ। মেয়েজামাই ও নাতনির সঙ্গে বসবাস করা এই বৃদ্ধা মাকে রাবিনা একদিন জিজ্ঞেস করলেন মা তোমার জীবনে কি কোন অপরিপূর্ণ ইচ্ছে আছে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, কোনোদিন নিজে উপার্জন করতে পারিনি। যদি পারতাম তাহলে এই অপূর্ণ ইচ্ছেটা পূর্ণ হতো। মায়ের এই কথায় মেয়ে দারুণভাবে প্রভাবিত হয় এবং ভাবতে থাকেন কিছু করা যায় কিনা, খুব বেশি ভাবতে হয়নি পেয়ে গেলেন মায়ের বিশেষ অস্ত্র, মায়ের হাতের রান্না যাচাই করার জন্য কিছু খাবার বানিয়ে নিয়ে গেলেন পাশের বাজারে এবং সেই দিনেই উপার্জন করলেন দুই হাজার রুপি, এই দুই হাজার রুপি হরভজন কৌরের জীবনের প্রথম উপার্জন। শুরু হলো এক নতুন যাত্রা, প্রদর্শিত হলো এক উন্মুক্ত পথ।  তখন থেকেই এই ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা একজন উদ্যোক্তা শুরু করলেন টুকটাক করে মিষ্টি ও আচার বানানো যা আস্তে আস্তে জনপ্রিয় হতে থাকে। প্রতি সপ্তাহেই ১৫-২০ কেজি মিষ্টি বানানো অর্ডার পান, যা হরভজন কৌর নিজ হাতে বানিয়ে সময়মতো প্রদানে সক্ষম। নিজের নামে একটি প্রতিষ্ঠান করেছেন যার নাম ‘হরভজনস’ এবং এই প্রতিষ্ঠানের ট্যাগ লাইন হলো ‘ছোট বেলা মনে পড়বেই’। এখন হরভজন কৌরের বয়স ৯৪ বছর। এখনো এই বৃদ্ধা উদ্যমী হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। গত ৪ বছরে অর্জন করেছেন বিপুল জনপ্রিয়তা। বানিয়েছেন প্রায় ৫০০ কেজি মিষ্টি। নিজের নাতনির বিয়েতে নাতনির আবদার ছিল বিয়ের সব মিষ্টি নানী বানিয়ে দেবেন, প্রায় ২০০ কেজি মিষ্টি নানী একাই বানিয়ে দিয়েছিলেন এবং আবারও সবাই অবাক হয়েছিল এই ৯৪ বছর বয়সী বৃদ্ধার এমন অদম্য ইচ্ছে শক্তি দেখে। ‘হরভজনস’ এর প্রসার তখন আরও ব্যাপকভাবে ঘটে যখন মাহিন্দ্রা গুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রা তার মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে হরভজন কৌরকে বছরের সেরা উদ্যোক্তা বলেন। এ ছাড়াও ড. মাধু টিচকানদানি হরভজন কৌরের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হরভজনসের অর্ডারের পরিমাণও বাড়ছে আর তাই হরভজন কৌরের মেয়ে রাবিনা ভাবছেন কিছু মানুষ নিয়োগ করবেন এই প্রতিষ্ঠানে। ৯৪ বছর বয়সী বৃদ্ধার অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ হয়েছে এবং প্রমাণ করেছেন ‘বার্ধক্য শরীরে নয় মনে’। 

 


আপনার মন্তব্য