শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৫ ০১:২৬

নেপালের ঘটনায় শঙ্কিত বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নেপালের ঘটনায় শঙ্কিত বাফুফে

বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দেশের তারকা ক্রিকেটার মো. আশরাফুল নিষিদ্ধ হয়েছেন। ক্রীড়ামোদীদের এখন সন্দেহ বাংলাদেশের কোনো ফুটবলার এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কিনা? সন্দেহটা আসলে সৃষ্টি হয়েছে পাশের দেশ নেপালকে ঘিরে। পাতানো খেলার অভিযোগে অধিনায়ক সাগর থাপাসহ পাঁচ ফুটবলারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নেপাল পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে, এদের মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বাজিকরদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। পাঁচ ফুটবলারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। নেপালের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা থানাল বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় তদন্ত চলছে। যদি পাঁচ ফুটবলারের পাতানো ম্যাচের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তাহলে তারা কয়েক বছরের জেলসহ সব রকম ফুটবল থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারেন। এর সঙ্গে নেপাল ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক ও বর্তমান কোনো কর্মকর্তা জড়িত কিনা এ ব্যাপারে পুলিশ মুখ খুলছে না। থানাল জানিয়েছেন, সব বিষয়ে এখন তদন্ত করা হবে। তবে এর মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে, নেপাল ফুটবলে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি গণেশ থাপাও গ্রেফতার হতে পারেন। ২০০৮ সালে যে ম্যাচকে ঘিরে পাতানোর অভিযোগ উঠেছে এর পেছনে গণেশ থাপার নাকি ইন্ধন ছিল।

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানোর দায়ে ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার, উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন। তাদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো দেশের ফেডারেশন সভাপতি জড়িত কিনা তাও তদন্ত করে দেখছে ফিফার নৈতিক কমিটি। ইতিমধ্যে থাইল্যান্ডের মাকুতিও নিষিদ্ধ হয়েছেন। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন অবশ্য বলেছেন, ফিফা ও এএফসির সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তার চমৎকার সম্পর্ক। কিন্তু লেনদেন বা অনৈতিক কাজের সঙ্গ তার জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। এ ব্যাপারে তিনি পুরোপুরি দুশ্চিন্তামুক্ত। নেপালের মতো বাংলাদেশের ফুটবলারদের বাজিকরদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি? এ ব্যাপারে সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল বলেন, আমি দীর্ঘদিন ফুটবলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকও ছিলাম। কিন্তু আগে বা এখনো আমাদের ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাতানো ম্যাচ খেলেনি। নেপালে এ ধরনের ঘটনা ঘটার পর বাংলাদেশের প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসছে। দেখেন, নেপাল ফুটবল ফেডারেশন সন্দেহ করেছিল বলে তদন্ত করে পাঁচ ফুটবলারকে গ্রেফতার করেছে। সামনে হয়তো আরও কিছু ঘটতে পারে। এটা নিঃসন্দেহে নেপাল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দুসংবাদ। আমি এখন বাফুফের সঙ্গে জড়িত নয়। তারপরও কোনো ফুটবলারকে সন্দেহ করছে এমন যদি হতো আমি কেন, সাংবাদিকরাও খবর পেয়ে যেতেন। আসলে বাংলাদেশের যে মান সে অনুযায়ী খেলছে। এখানে বাজিকরের সঙ্গে কেউ জড়িত কিনা এ সন্দেহ থাকার প্রশ্নই ওঠে না। সুতরাং নেপালের ঘটনায় বাংলাদেশে প্রভাব পড়ার কোনো শঙ্কা নেই। হেলাল যতই নিশ্চিত থাকুক না কেন আসলে নেপালের ঘটনায় বাফুফেও দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। কেননা, গ্রেফতারের পর নেপালের ৫ ফুটবলার পুলিশকে জানিয়েছে, এই অঞ্চলের অনেক দেশই আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাতানোর সঙ্গে জড়িত। আর এ অঞ্চল মানে বাংলাদেশের নামও এসে পড়তে পারে। এ ব্যাপারে গতকাল বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের ফুটবলাররা কখনো পাতানো খেলা বা বাজিকরদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেনি। তারপরও এ অঞ্চলের প্রসঙ্গ যখন এসেছে, তখন নেপাল ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলাপ করব। সোহাগের কথায় বোঝা যায়, নেপালের ঘটনায় বাফুফে কিছুটা হলেও শঙ্কিত ফেডারেশন দুশ্চিন্তামুক্ত নয়। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ফুটবলে ফলাফল যাই হোক না কেন, আগে বা এখন কোনো ফুটবলার পাতানো ম্যাচের সঙ্গে জড়িত নয়Ñ তার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি।


আপনার মন্তব্য