শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মার্চ, ২০১৭ ২২:৩১

সেই গলেই আজ টেস্ট শুরু

মেজবাহ্-উল-হক

সেই গলেই আজ টেস্ট শুরু

আবার গল টেস্ট। ঘুরে ফিরে স্মৃতির জানালায় উঁকি দিচ্ছে সেই রেকর্ডগুলো— প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি, ইনিংসে সর্বোচ্চ রান (৬৩৮ রান), এক ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি! শুধু তাই নয়, একটি হাফ সেঞ্চুরিও ছিল সেই ইনিংসে। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ ছিল ২০১৩ সালের গল টেস্টটি। রেকর্ডে ভরপুর এক ম্যাচ। সেই ঐতিহাসিক টেস্টের স্মৃতি স্মরণ করেই আজ সেই গলেই লঙ্কানদের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে বাংলাদেশ।

মুশফিকুর রহিমের সেই ডাবল সেঞ্চুরি যেন এখনো ক্রিকেটামোদীদের রোমাঞ্চিত করে। তবে মোহাম্মদ আশরাফুলের ১০ রানের জন্য মিস হওয়া ডাবল সেঞ্চুরি নিশ্চয়ই কাঁটা হয়ে বিঁধে! ১৯০ রান করার পর মনোসংযোগ বিচ্ছিন্ন না হলে অ্যাশ হয়ে যেতেন বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। ব্যাটিং অর্ডারের সাত নম্বরে নেমে নাসির হোসেনের করা সেঞ্চুরিও রোমাঞ্চের রসদ জোগায়।

ঠিক চার বছর পর আজ আবার সেই পয়মন্ত ভেন্যুতে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এই দলে নেই মোহাম্মদ আশরাফুল। নেই নাসির হোসেন। বিপিএলে ফিক্সিং কাণ্ডের পর ক্রিকেটে ফেরা অ্যাশের জন্য এই ম্যাচে না থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু নাসির হোসেন কী কারণে দলে নেই তার উত্তর কারও জানা নেই! এক সময় সাত নম্বরে অঘোষিত বিশ্ব সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন রংপুরের এই তারকা ক্রিকেটার। ফর্মহীনতার কারণে দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া লিগে রানের ফোয়ারা বইয়ে দিয়েও নির্বাচকদের মন গলাতে পারেননি। কিছু দিন আগে ডাবল সেঞ্চুরিও করেছেন। তবুও লঙ্কা সফরে উপেক্ষিত এই তারকা ব্যাটসম্যান।

তবে আশরাফুল-নাসির না থাকলেও নির্ভরতার প্রতীক মুশফিক ও মুমিনুল রয়েছেন। রয়েছেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তাই স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

গলের উইকেট কেমন হবে! ২০১৩ সালের উইকেটের মতো ব্যাটিং স্বর্গ, নাকি পেসারদের কথা চিন্তা করে পিচে রাখা হবে সবুজ ঘাস? তবে ম্যাচের নিয়ন্তা হয়ে যেতে পারেন স্পিনাররা! উইকেট দেখে গতকাল টাইগার দলপতি মিডিয়াকে বলেছেন, ‘এখানে ব্যাটিং করা সহজ। প্রথম দুই দিন পেসাররা কিছুটা সহায়তা পেতে পারেন। সব কিছু মিলিয়ে বলব, এই উইকেটে স্পিনারদের বিপক্ষেই লড়তে হবে ব্যাটসম্যানদের। আমরা যদি আমাদের পরিকল্পনা মতো খেলতে পারি তাহলে ফলাফল নিজেদের দিকে আনা সম্ভব হবে।’

দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সফরকারী দলের জন্য বড় সমস্যা হচ্ছে— উইকেট! স্বাগতিকরা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো উইকেট বানায়। নিজেদের শক্তিমত্তা ও প্রতিপক্ষের দুর্বলতা বিবেচনা করেই উইকেট তৈরি করা হয়। লঙ্কানরাও হয়তো এমন উইকেট বানিয়ে রেখেছে, যাতে বাংলাদেশকে ফাঁদে ফেলানো যায়! সব শেষ সিরিজে এই শ্রীলঙ্কায় গিয়ে টেস্টের শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়া হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই খেলতে নামবেন টাইগাররা।

সফরকারী দল সব সময় ম্যাচের দিন সকালে উইকেটের অবস্থা দেখে একাদশ নির্বাচন করেন। মুশফিকুর রহিমও একই কাজ করবেন। তবে উইকেট যেমনই হোক না কেন তা নিয়ে চিন্তিত নন বাংলাদেশের অধিনায়ক। গতকাল তিনি বলেন, ‘উইকেট যেমনই হোক না কেন, আমরা যে কোনো উইকেটে খেলতে প্রস্তুত। দুই দিন আগেও উইকেটে ঘাস ছিল। কিন্তু এখন...। সকালে উইকেট দেখে আমরা আমাদের সেরা একাদশ নির্বাচন করব। কোন কোন পেসারকে দলে নেব, কয়জন পেসার খেলবেন তা সকালেই ঠিক করব। শুধু এটুকু বলতে পারি, যে কোনো ধরনের উইকেটে খেলার প্রস্তুতি আমাদের আছে।’

বাংলাদেশ পর পর দুটি সিরিজ খেলেছে বিদেশের মাটিতে। নিউজিল্যান্ডের পর ভারতের মাটিতে, দুটি ভিন্ন কন্ডিশন ও ভিন্ন উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তাই শ্রীলঙ্কার উইকেট টাইগারদের ভাবাচ্ছে না। তবে শ্রীলঙ্কার উত্তপ্ত আবহাওয়াকে ভয় পাচ্ছেন টাইগার দলপতি। মুশফিক বলেন, ‘উইকেটের চেয়েও কঠিন হবে এখানকার গরম। গরমটা অনেক বেশি। আমরা ২০১৩ সালে এখানে এসেছিলাম। এবার গরমটা সেবারের চেয়েও বেশি মনে হচ্ছে। যদিও এই সমস্যা দুই দলের জন্যই। আশা করছি সব কিছু সামলে নিতে পারব।’

মুশফিক একাই তিনটি দায়িত্ব পালন করেন—অধিনায়কত্ব, ব্যাটিং ও কিপিং। তবে গলেতে উইকেটের পেছনে দেখা যাবে না মুশফিককে। টিম ম্যানেজমেন্টের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভালোও হতে পারে আবার খারাপও হতে পারে! তবে মুশফিক চেষ্টা করবেন, দলের সব সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে!


আপনার মন্তব্য