Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৫

সিরিজে টিকে থাকার লড়াই

মেজবাহ্-উল-হক

সিরিজে টিকে থাকার লড়াই
নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরির পর মোহাম্মদ মিথুন। ক্রাইস্টচার্চেও তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ -এএফপি

নেপিয়ার থেকে ক্রাইস্টচার্চের দূরত্ব সাড়ে সাতশ কিলোমিটার। সড়কপথে ১২ ঘণ্টার ভ্রমণ, বিমানে যেতে লাগে মাত্র দেড় ঘণ্টার একটু বেশি সময়। নেপিয়ার থেকে ক্রাইস্টচার্চে গিয়ে কী বদলে যাবে টাইগারদের পারফরম্যান্স?

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের পেছনে প্রধান কারণ নিউজিল্যান্ডের বোলারদের গতিময় বোলিং! মাশরাফিরা যেখানে ১৩০ কিংবা ১৩৫ কিলোমিটার গতির বলে খেলে অভ্যস্ত সেখানে কিউই পেসারদের গতি ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরেই টাইগাররা বাইশগজে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছিলেন। নেপিয়ারে ৬২ রানের ইনিংস খেলা মোহাম্মদ মিথুন সে কথাই জানিয়েছেন, ‘যদি বলি তাদের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে সহজে খেলেছি তাহলে মিথ্যা বলা হবে। ১৪০-১৫০ কিলোমিটার গতির বল খেলতে গেলে সমস্যায় পড়া স্বাভাবিক।’

মাশরাফিদের ব্যাটিংয়ে ভালো করতে না পারার পেছনে আরেকটি কারণ ছিল কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা! কারণ নিউজিল্যান্ডে গিয়ে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময়ও পাননি ক্রিকেটাররা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অনুশীলনের অভাব।

প্রতিটি টুর্নামেন্টের জন্যই আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের জন্য বলতে গেলে কোনো প্রস্তুতিই নেওয়ার সুযোগ পাননি ক্রিকেটাররা। বিপিএলে খেলে ক্লান্ত হওয়ার পর সরাসরি চলে গেছেন নিউজিল্যান্ডে। এখন একটি প্রশ্ন উঠতেই পারে, নিউজিল্যান্ডের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে বিপিএল আয়োজন করাটা কি খুবই জরুরি ছিল? উত্তরটা মহাকালের হাতেই তোলা থাক!

প্রস্তুতি যে আদর্শ হয়নি তা স্বীকার করেছেন স্বয়ং টাইগার কোচ স্টিভ রোডসই। ক্রিকেটাররা খেলার মধ্যে থাকলেও টি-২০ ফরম্যাটে খেলে গিয়ে ওয়ানডের ব্যাটিং করা মোটেও সহজ কাজ নয়। অবশ্য নেপিয়ারে সেটা হাড়ে হাড়েই বুঝতে পেরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

প্রথম ম্যাচে ভরাডুবির পর রাতে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামছেন মাশরাফিরা। এটি সিরিজে টিকে থাকার লড়াই। হারলেই সব শেষ। তবে জিতলে সিরিজে সমতা আসবে। তখন শেষের ম্যাচটি হয়ে যাবে অঘোষিত ফাইনাল।

নেপিয়ারের ছন্নছড়া বাংলাদেশ দলকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য মাত্র দুই দিন সময় পেয়েছেন স্টিভ রোডস। এর মধ্যে জার্নিও করতে হবে। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যেই কি ব্যাটসম্যানদের মন থেকে গতির ভয় দূর করতে পারবেন রোডস?

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে এর আগে মাত্র একটি ম্যাচই খেলেছে বাংলাদেশ। ব্যাটসম্যানদের জন্য সুখবর হচ্ছে, ২০১০ সালে খেলা ওই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২৪১ রান করেছিল টাইগাররা। কিন্তু দুঃসংবাদ হচ্ছে, ওই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি করা ইমরুল কায়েস এবার দলের সঙ্গে নেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলা সাকিব আল হাসানও ইনজুরির কারণে খেলছেন না। যে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমদুল্লাহ রিয়াদের ক্রাইস্টচার্চে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের তিনজনের কেউ আবার সেই ম্যাচে ব্যক্তিগত স্কোরকে ডাবল ফিগারেও নিয়ে যেতে পারেননি।

বাংলাদেশের পেসাররা সুবিধা করতে না পারলেও ক্রাইস্টচার্চে বল হাতে দাপট দেখিয়েছিলন সাকিব। মাত্র ৩৩ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অভাবটা পূরণ করতে হবে মেহেদী হাসান মিরাজকে। যদিও দুজনের স্টাইল সম্পূর্ণ আলাদা।

নেপিয়ারে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ছিল লম্বা। বলতে গেলে নয় নম্বর পর্যন্ত সবাই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান। তারপরও ইনিংস বড় করা সম্ভব হয়নি। আসলে টপ অর্ডারের কোনো ব্যাটসম্যান বাইশগজে টিকতে না পারলে ইনিংস বড় করা কঠিন। লোয়ার অর্ডারের লড়াইয়ে কেবল ইনিংসটা সম্মানজনক হতে পারে এই যা।

আগে একটা কথা প্রবাদবাক্যের মতো শোনাত, ‘উপমহাদেশের ক্রিকেটাররা নিউজিল্যান্ডে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন!’ কিন্তু মাসখানেক আগেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা কথাটা মিথ্যা প্রমাণ করেছেন। তারা নিউজিল্যান্ডে গিয়ে স্বাগতিকদের ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছে ৪-১ ব্যবধানে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোহলিদের পারফরম্যান্স দেখেই তো অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা টাইগারদের, তাই নয় কি?

বিপিএল চলাকালীন ক্যাপ্টেন মাশরাফি খুব দামি একটা কথা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের স্কিলে কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে মানসিকতায়।’ প্রশ্নটা ছিল এমন যে, বিদেশিরা বড় ইনিংস খেলছে স্থানীয় ব্যাটসম্যানরা পাচ্ছে না কেন? তারপর বিপিএলের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল মাত্র ৬১ বলে ১৪১ রানের সাইক্লোন ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছেন বিদেশিদের মতো স্থানীয়রাও পারে!

ক্রাইস্টচার্চে মাশরাফি কি পারবেন তার কথার ভাবার্থ সতীর্থদের বোঝাতে! ‘ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যদি নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ছড়ি ঘোরাতে পারেন, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও পারবেন!’ হয়তো এই ম্যাচেই দেখা যেতে পারে অন্য বাংলাদেশকে!


আপনার মন্তব্য