Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মার্চ, ২০১৯ ২২:৪৮

‘প্রাণহীন’ ম্যাচে আবাহনীর জয়

মেজবাহ্-উল-হক

‘প্রাণহীন’ ম্যাচে আবাহনীর জয়

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসবক্স ছিল সরগরম। দেশের ঐতিহ্যবাহী দুই দল আবাহনী ও মোহামেডানের লড়াই বলে কথা! সংবাদকর্মীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের খেলা নিয়ে মিডিয়াকর্মীদের যতটা আগ্রহ গতকাল তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি গ্যালারিতে। ২৫ হাজার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামে মাঠে বসে খেলা দেখলেন হাতে গোনা কয়েকজন দর্শক। গতকাল ম্যাচ চলাকালীন এক সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক রসিকতা করে বললেন, ‘হায়রে আবাহনী-মোহামেডান লড়াই! দর্শকের চেয়ে সাংবাদিকের সংখ্যাই বেশি!’ গ্যালারির মতো মাঠের লড়াইয়েও নেই প্রাণ! খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচও যেন লক্ষ্য করা যায়নি। ১৫ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় আবাহনী।

নিরুত্তাপ ম্যাচে আকর্ষণ সৃষ্টি করেছিলেন আবাহনীর ওপেনার জহুরুল ইসলাম অমি। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। ১২ বাউন্ডারিতে করেছেন ৯৬ রান। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতেই। তবে মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপেও পুড়ছেন রাজশাহীর এই তারকা ক্রিকেটার।

গতকাল প্রথমে ব্যাট করে মোহামেডান করেছে ২৪৮ রান। মোহামেডানের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেছেন ইরফান শুকুর। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক রকিবুল হাসানও (৫১)। আবাহনীর হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন পেসার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দীন ও স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। সাইফউদ্দিন ৩১ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। অপুও নিয়েছেন ৩ উইকেট। রান দিয়েছেন ২৯।

গতকাল ২৪৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে আবাহনীর শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। অমির সঙ্গে ১০৫ রানের জুটি গড়েন সৌম্য সরকার। মোহামেডানের পেসার শাহাদত হোসেনের বলে আউট হওয়ার আগে জাতীয় দলের এই ওপেনার করেছেন ৪৩ রান। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা আবাহনীয় ভারতীয় তারকা ওয়াসিম জাফর করেছেন ৩৮ রান। গতকাল একটা সময় আবাহনীর স্কোর ছিল ১৭৪/১। এরপর জাফর, নাজমুল হোসেন শান্ত ও অমি দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় ম্যাচে ফেরার সামান্য সম্ভাবনা তৈরি করেছিল মোহামেডান। কিন্তু অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন ও সাব্বির রহমান মিলে আবাহনীকে বিপদে পড়তে দেননি।

একটা সময় আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ মানেই ছিল বাড়তি আকর্ষণ। ম্যাচের দিন সকাল থেকেই টিকিটের জন্য হাহাকার পড়ে যেত। ঐতিহ্যবাহী দুই দলও তাদের ম্যাচের আকর্ষণ বাড়াতে বিশ্বমানের তারকাদের এনেছেন। যেমন- পাকিস্তানের কিংবদন্তি তারকা ওয়াসিম আকরাম ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে খেলেছেন আবাহনীতে। তার আগে নেইল ফেয়ার ব্রাদার, অরুণ লাল, স্যালেসবুরী, দীলিপ মেন্ডিসের মতো তারকারাও খেলেছেন ধানমন্ডির দলটির হয়ে। এই দলটির হয়ে ৯০-এর দশকের শেষের দিকে খেলেছেন ভারত জাতীয় দলের সাবেক সহঅধিনায়ক অজয় জাদেজার মতো বড় তারকা ক্রিকেটার।

মোহামেডানও পিছিয়ে ছিল না তারকা আনার দিক দিয়ে। মতিঝিলের দলটির হয়ে শ্রীলঙ্কার  বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা খেলে গেছেন। সনাৎ জয়াসুরিয়ার মতো মারকুটে ব্যাটসম্যানও। কুমার ধর্মসেনা, আমির মালিক, হাসান তিলকারতেœও খেলেছেন। ৯০-এর দশকের দিকে এই দলে নিয়মিত তারকা ছিলেন কেনিয়ার বড় তারকা স্টিভ টিকোলো ও মরিচ ওদম্বে।

তারকাদের খেলা দেখার জন্য দর্শকের আগ্রহও ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু এখন প্রিমিয়ার লিগ থেকেই যেন দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। অবশ্য দর্শকের এই অনাগ্রহকে ‘নেতিবাচক’ হিসেবেও দেখার কিছু নেই। কেন না বাংলাদেশ জাতীয় দল নিয়মিত বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলে। ঘরের মাঠে সহজেই বড় বড় তারকাদের দেখতে পান দর্শকরা। হয়তো সে কারণেই ঘরোয়া ম্যাচ নিয়ে তাদের কোনো উত্তেজনা নেই।

প্রিমিয়ার লিগ দর্শক হারাতে শুরু করে মূলত: বাংলাদেশ ‘ওয়ানডে স্ট্যাটাস’ পাওয়ার পর থেকে। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপেও খেলার সুযোগ পায়। দেশের ক্রিকেট যেন অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে যায়। তখন থেকেই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় ‘জাতীয়’ ক্রিকেট, আর আকর্ষণ হারাতে থাকে ‘ঘরোয়া’ ক্রিকেট!

তাই বলে আবাহনী-মোহামেডানের মতো বড় ম্যাচে গ্যালারি কয়েকশ দর্শকও হবে না তা কি করে হয়!


আপনার মন্তব্য