Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০১৯ ২৩:০৯

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ

রাশেদুর রহমান

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজক বাংলাদেশ। ভারত ও শ্রীলঙ্কাও আছে আয়োজকের তালিকায়। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্মানটা বাংলাদেশই পায়। ‘ও পৃথিবী, এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে’ গানের সুরে মাতাল হয় গোটা দুনিয়া। চোখ ধাঁধানো আতশবাজি, শিল্পীর নৃত্য, দৃষ্টিনন্দন প্রদর্শনীতে পুরো দুনিয়া অবাক হয়ে যায়। বিস্ফারিত চোখে বাংলাদেশের আয়োজনের দিকে তাকিয়ে অনেকেই বলতে থাকে ‘ওয়েল ডান, বাংলাদেশ’।

২০১১ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অন্যতম মাইলফলক হয়ে আছে। ক্রিকেটপাগল জাতি বিশ্বকাপের সেই সময়টাকে ধারণ করতে নানা আয়োজনে মেতে ওঠেছিল। বিশ্বকাপের নগরী ঢাকা আর চট্টগ্রাম সেজেছিল নববধূর সাজে। বিশ্বকাপের মতো আসর আয়োজনের সেটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম সুযোগ। নিজেদেরকে বিশ্ব দরবারে মেলে ধরার সেরা সুযোগও বটে। সেদিক থেকে কোনো কার্পণ্য করেনি আয়োজকরা। এ কারণেই ২৫ মার্চ নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের পর বাংলাদেশ বিদায়ী সালামি দিলে সারা দুনিয়া আরও একবার প্রশংসা করেছিল। অতিথি পরায়ণ জাতির স্বীকৃতি মিলেছিল।

নিজ দেশের সেই বিশ্বকাপটা সুখে-দুখে কেটেছিল টাইগারদের। দর্শকদের প্রবল প্রত্যাশার চাপে নুয়ে পড়ে দু দুটি ম্যাচে বিধ্বস্ত হয়েছিল টাইগাররা। ৫৮ রানে অলআউট হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। ৭৮ রানে অলআউট হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। তবে অর্জনের পাল্লাও কম ছিল না। ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল টাইগাররা ২ রানে। ছয় ম্যাচের তিনটাতে জিতেছিল। রানরেটের হেরফেরে পাঁচে থেকে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। অথচ তিনটা করে ম্যাচ জিতেই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও প্রশংসিত হয়েছিলেন সাকিবরা। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসার অদম্য বাসনার প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।

নকআউট বিশ্বকাপ আয়োজনের অভিজ্ঞতা ছিল বাংলাদেশের। সেটা ১৯৯৮ সালের কথা। কিন্তু তখন বাংলাদেশে ক্রিকেটের এতটা কদর ছিল কোথায়! ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর জোয়ার দেখা দিয়েছিল বটে। কিন্তু তা ছিল ক্ষণিকের আনন্দ। ২০১১’র মতো এতটা পাকাপোক্ত ক্রিকেট দর্শক তখনো হয়ে ওঠেনি বাংলাদেশ। তাছাড়া নকআউট বিশ্বকাপ তো আর বিশ্বকাপ নয়! সবমিলিয়ে ২০১১’র আসর পুরো বাংলাদেশকে অন্যরূপে তুলে ধরেছিল। রাজনৈতিক মত-পথ ভুলে এক ছাতার নিচে এসে ‘আমার সোনার বাংলা’ গেয়ে ওঠেছিল কোটি কোটি কণ্ঠ।

 

মাশরাফির কান্না

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। কিন্তু দলে নেই মাশরাফি। সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ল। কান্নায় ভেঙে পড়লেন মাশরাফি। হরতাল হলো কোথাও কোথাও। কিন্তু মাশরাফিকে খেলতে দেয়নি ইনজুরি। ২০১০’র অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজেই ইনজুরিতে পড়েছিলেন। ডিসেম্বর প্রিমিয়ার লিগ খেলতে নেমে আবার আঘাত পান পায়ে। সেই আঘাতে বিশ্বকাপটাই শেষ হয়ে যায় মাশরাফির।

 

৫৮ ও ৭৮-এর দুঃখ

নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ। দর্শকদের সামনে দারুণ কিছু করার আকুতি টাইগারদের মনে। কিন্তু ৪ মার্চ এক ভয়াবহ ধ্বংসের মুখোমুখি হয় তারা। মিরপুর স্টেডিয়ামে দর্শকরা দেখল ৫৮ রানে অলআউট বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় বোলিংয়ের সামনে গুটিয়ে যান সাকিবরা। এর ঠিক পনের দিন পর মিরপুরেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। ৭৮ রান করে টাইগাররা।

 

ইংল্যান্ডকে হারাল টাইগাররা

ঢাকায় ৫৮ রানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দর্শকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দারুণ কিছু করা প্রয়োজন ছিল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সেই কাজটাই করেন সাকিবরা। ইংল্যান্ডকে ২ উইকেটে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেন। ম্যাচসেরা ইনিংস খেলেন ইমরুল কায়েস (৬০)। ইংল্যান্ডের ২২৫ রান বাংলাদেশ টপকে যায় ১ ওভার ও দুই উইকেট হাতে রেখেই।

 

২৮ বছর পর ভারত

আন্ডার ডগ হিসেবে ১৯৮৩ সালে কপিল দেবের ভারত ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে চমকে দিয়েছিল। এরপর থেকেই প্রতীক্ষা। ২০০৩ সালে সৌরভের দল ফাইনালে উঠলে স্বপ্ন দেখে ভারতীয়রা। তবে রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া সেই স্বপ্ন শেষ করে দেয়। অবশেষে ধোনির দল ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে জয় করে বিশ্বকাপ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর আরও একবার বিশ্বজয়ীর হাসি হাসে ভারত।


আপনার মন্তব্য