শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:২৯

মাশরাফির প্রশ্ন

কেন মুস্তাফিজের সমালোচনা করি

মেজবাহ্-উল-হক

কেন মুস্তাফিজের সমালোচনা করি

‘ভালো খেললে দর্শকরা ভালো বলেন, খারাপ খেললে সমালোচনা করেন! আপনারাও (মিডিয়া) তাই। এটা আপনাদের কাজের অংশ। কিন্তু আমরা যারা ক্রিকেটারদের সঙ্গে ক্রিকেটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আমরা কেন সমালোচনা করি মুস্তাফিজের? আমরা তো মুস্তাফিজের সঙ্গে কাজ করি। আমরা মুস্তাফিজের অংশ।’

গতকাল রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা প্লাটুনের ম্যাচের পর প্রেস কনফারেন্সে যেন অভিমানে কথাগুলো বললেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের বলে নেই আগের মতো ধার। এ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। দর্শকরা সমালোচনা করেছেন, মিডিয়ায় আলোচনা হয়েছে। তবে যে ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেটারদের অভিভাবক সংস্থা সেই বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা মিডিয়ার সামনে মুস্তাফিজের দুঃসময়ে তার সমালোচনা করায় যেন কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

মাশরাফি মনে করেন, বাংলাদেশের পেসারদের যথাযথ যতœ নেওয়া হচ্ছে না। তাই কেউ অফ ফর্মে গেলে আর ফিরতে পারছেন না স্বরূপে। মাশরাফির দাবি, ‘মুস্তাফিজের যতœ নেওয়া উচিত। যদি শুধু সমালোচনা করি তাহলে তো হবে না। আপনারাও চান মুস্তাফিজ ভালো করুক, দর্শকরাও চায় মুস্তাফিজ ভালো করুক। ভালো না করলে সমালোচনা হবে। কিন্তু আমি যখন মুস্তাফিজের দায়িত্বে আছি তখন আমি কেন মুস্তাফিজকে আপনাদের সামনে এসে সমালোচনা করব! আমি তো মুস্তাফিজকে আগলে রাখার চেষ্টা করব।’

বিশ্বের অনেক দেশেই তারকা বোলাররা অফ ফর্মে চলে যাওয়ার পর আবার দুর্দান্ত দাপটের সঙ্গে ফেরেন। কিন্তু বাংলাদেশে এমনটা খুব একটা দেখা যায় না। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘দর্শকের ভাষায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা সমালোচনা করছেন। তাহলে তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা কোথায়? আমার মনে হয় মুস্তাফিজের মতো ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করার দরকার আছে; যা আমাদের দেশে নেই।’

বঙ্গবন্ধু বিপিএল শুরুর দিকে নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন মুস্তাফিজের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘মুস্তাফিজ এক বছর ধরে হারিয়ে যাচ্ছে। মুস্তাফিজের বোলিংয়ে এখন ইয়র্কার নেই। আগে একটা দারুণ ইয়র্কার ছিল। স্লোয়ার বল এখনো আছে। পেসও আস্তে আস্তে বাড়ছে। এখন মোটামুটি ভালো পেসেই বল করছে। কিন্তু সে একটু বেশি প্রেডিকটেবল হয়ে যাচ্ছে। এটাই আমার কনসার্ন, মনে হচ্ছে আমার কাছে। ব্যাটসম্যানরা ওকে পড়ে ফেলছে যে ও কী করতে যাচ্ছে।’

মাশরাফি মনে করেন, দায়িত্বপ্রাপ্তরা মিডিয়ার সামনে ক্রিকেটারদের সমালোচনা করায় পরিস্থিতি দিন দিন অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। মুস্তাফিজের মতো তারকারা নিজের অফ ফর্ম থেকে বের হয়ে আসতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আগের দিন মিডিয়ার সামনে সমালোচনা করে পরদিন গিয়ে মুস্তাফিজের সঙ্গে যদি কাজ করেন, মুস্তাফিজ কি আর ওই ব্যক্তিকে তার মনের কথা খুলে বলতে পারবে? কোথায় সমস্যা হচ্ছে সে কথা কি আর তাকে পরিষ্কার করে বলতে পারবে? মুস্তাফিজও রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ।’

গত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানসহ ব্যাটসম্যানরা দারুণ ব্যাটিং করার পরও বোলাররা ভালো করতে না পারায় কাক্সিক্ষত সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পেসাররা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। তবে মুস্তাফিজ বিশ্বকাপে ২১টি উইকেট নিয়েছিলেন। তার পরও মুস্তাফিজের ঢালাও সমালোচনায় বিরক্ত মাশরাফি, ‘মুস্তাফিজ বিশ্বকাপে ২১ উইকেট পেয়েছে। হয়তো ইকোনমি রেট নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে পেসাররা অফ ফর্মে গিয়েও আবার দারুণভাবে ফিরেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে তা কেন হচ্ছে না?’

মাশরাফি বলেন, ‘আমার যদি হাতে এমন অপশন থাকত যে মুস্তাফিজের অর্ধেক পারফরম্যান্স করতে পারে এমন কেউ আছে তাহলে খুবই ভালো হতো। আমাকে একটা হাফ অফ মুস্তাফিজ দেখান? তা কিন্তু নেই।’

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে এখন শীর্ষ উইকেট শিকারি বোলার মুস্তাফিজ। রংপুর রেঞ্জার্সের হয়ে ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ২০ উইকেট। শীর্ষ তিনে রয়েছেন বাংলাদেশের তিন বোলার। এটা খুবই ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন মাশরাফি। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। বাদ যায়নি তাঁর অবসরের প্রসঙ্গও। সামনে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশে আসছে, এ সিরিজেই আপনি এবার মাঠ থেকে বিদায় নিতে চান, নাকি অভিমান করেছেন? এমন প্রশ্নে মাশরাফি বলেন, ‘অভিমান আমার মধ্যে নেই। অবসর তো আমাকে সবাই করিয়েই দিয়েছে। আমি নিজেও হয়তো সে জায়গায় অবস্থান করছি। আমি আসলে এখনো খেলছি, এনজয় করছি। কিন্তু মাঠ থেকে এখনো অবসর নেব কি নেব না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিইনি। বোর্ড এ নিয়ে চিন্তা করলে হয়তো আমিও ভাবব।

আমি নিজেকে অতটা গুরুত্ব দিই না যে, মাঠ থেকে বিদায় নিতেই হবে। সবাই আমার জন্য ফুলের তোড়া নিয়ে আসবে। আমি যেমন আছি ভালো আছি। খেলছি। সব সময় যে জাতীয় দলেই খেলতে হবে এমন কোনো কথা নেই।’

 

রংপুর : ১৪৯/৯ (২০ ওভার)

ঢাকা : ১৩৮/৯ (২০ ওভার)

ফল : রংপুর ১১ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : লুইস গ্রেগোরি।

খুলনা : ২১৮/২ (২০ ওভার)

কুমিল্লা : ১২৬/৯ (২০ ওভার)

ফল : খুলনা ৯২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : মুশফিকুর রহিম।


আপনার মন্তব্য