শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:২৯

প্রিয়জনদের মৃত্যুর শোক দমাতে পারেনি যাদের

প্রিয়জনদের মৃত্যুর শোক দমাতে পারেনি যাদের

দাদার মৃত্যু এবং অদম্য জকোভিচ

দাদার মৃত্যু সংবাদ শুনে ২০১২ সালের মন্টি কার্লো মাস্টার্সের তৃতীয় রাউন্ডে খেলতে নেমেছিলেন সার্বিয়ান তারকা নোভাক জকোভিচ। সেসময় বিশ্বসেরা জকোভিচ ছুটছিলেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে। কিন্তু প্রিয় দাদার মৃত্যুতে হতবাক হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এ কারণেই প্রথম সেটটা খুব বাজেভাবে হেরে যান জকোভিচ (২-৬ গেমে)। কিন্তু পরের দুই সেটেই অদম্য গতিতে ফিরে আসেন। প্রতিপক্ষ আলেক্সান্ডার ডলগোপোলভকে দাঁড়াতেই দেননি জকোভিচ। ম্যাচটা জিতে নেন ২-৬, ৬-১, ৬-৪ গেমে। শোক কাটিয়ে পরের রাউন্ডেই কেবল নয়, ফাইনালও খেলেছিলেন জকোভিচ।

 অবশ্য সেবার নাদালের কাছে ফাইনালে হেরে যান তিনি।

 

কষ্ট চেপে চ্যাম্পিয়ন টাইগার উডস

গলফ কিংবদন্তি টাইগার উডসকে কে না জানে। কিন্তু তিনি কী নিদারুণ কষ্ট বুকে চেপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তা কেবল তিনিই জানেন। ২০০৬ সালে পিজিএ ট্যুরের ব্রিটিশ ওপেন শুরুর মাত্র আগে বাবাকে হারান তিনি।  বাবার মৃত্যুর পর গলফ কোর্সে ফিরেই চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজেকে আর সামলাতে পারেননি উডস। ক্যাডিকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে ওঠেছিলেন সর্বকালের সেরা এ গলফার। 

 

 

শোকের পর সোনা জয় মারভেলোর

ইন্দোনেশিয়ার উশু তারকা এডগার জাভিয়ের মারভেলোর জীবনে দুঃখময় দিন ছিল ওটা। গত ডিসেম্বরে সাউথ ইস্ট এশিয়ান গেমস চলাকালীন বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন এডগার। অথচ কয়েক ঘণ্টা পরই নামতে হবে সোনার পদক জয়ের মিশনে। দেশের পতাকা সমুন্নত রাখতে হবে।

বাবার মৃত্যু শোক কাটিয়ে তিনি নেমে যান লড়াইয়ে। সেরা সেরা প্রতিযোগীদের হারিয়ে জয় করেন সোনার পদক।

 অথচ বাবার মৃত্যুর সংবাদ শুনে অফিশিয়ালরা এডগারকে দ্রুত বাড়ি ফেরার পরামর্শই দিয়েছিল। তবে লড়াই শেষে সোনার পদক নিয়েই বাড়ি ফিরেছিলেন এডগার।

 

মাকে হারিয়ে পদকজয়ী জোয়ানি

২০১০ সালে শীতকালীন অলিম্পিকে ফিগার স্কেটিংয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন জোয়ানি রচেত্তে। কানাডিয়ান এই অ্যাথলেট মাত্র দুদিন আগেই মাকে হারিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই হার্ট অ্যাটাকে চিরদিনের জন্য তার মা বিদায় নিয়েছিল। কিন্তু মায়ের সম্মানেই অনেকটা জেদ করে লড়াই করেন এই কানাডিয়ান মেয়ে। শোক কাটিয়ে ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে জয় করেন ব্রোঞ্জ পদক। পরবর্তীতে তিনি টেরি ফক্স পুরস্কারও জিতেন নিজের এই অদম্য মানসিকতার জন্য। মাকে সত্যিই বিশেষ সম্মাননা জানিয়েছিলেন জোয়ানি।

 

সোনা জিতে দাদুকে স্মরণ ফেলিক্সের

অলিম্পিক গেমস ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে। সেবার ৪০০ মিটার হার্ডলসে সোনা জেতেন ফেলিক্স সানচেজ। পরেরবারও তিনিই ছিলেন ফেবারিট। কিন্তু সেমিফাইনাল লড়াইয়ে নামার আগ মুহূর্তে তিনি প্রিয় দাদুর মৃত্যু সংবাদ পান। এতেই ভেঙে পড়েন আগেরবারের সোনাজয়ী। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে সোনা জিততে পারেননি ফেলিক্স। অবশ্য পরেরবার লন্ডন অলিম্পিকে দারুণভাবেই ৪০০ মিটার হার্ডলসে সোনা জয় করেন ফেলিক্স। সোনার পদক নিশ্চিত করার পর পরই দাদুর ছবি সবার সামনে তুলে ধরে তাতে চুমু খান ফেলিক্স।


আপনার মন্তব্য