শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৫

মোহামেডানের নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মোহামেডানের নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা

২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। কথা ছিল আমিন উদ্দিন ৬ মাসের মধ্যে ক্লাবে নির্বাচন দেবেন

ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার পর প্রথম কমিটি গঠন হয় ২০১১ সালে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালকরা নির্বাচিত হন। কমিটির মেয়াদ দুই বছর হলেও তা তিন বছর করেন পরিচালকরা। গঠনতন্ত্রকে এখানে গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। যাক তিন বছর হলেও এরপর আর নির্বাচন বা নতুন কমিটি গঠন হয়নি। ক্লাবকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে লিমিটেডে রূপান্তরিত করা হয়। অথচ এরপরই যেন ক্লাবে ধস নামে।

নির্বাচনের মাধ্যমে ক্লাব পরিচালিত করতে কোর্টের নির্দেশনায় ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। কথা ছিল আমিন উদ্দিন ৬ মাসের মধ্যে ক্লাবে নির্বাচন দেবেন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তা আর সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ক্লাবের সদস্যসচিব লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ক্যাসিনো কান্ডে গ্রেফতার হওয়ায় ক্লাবের পরিবেশ আরও ঘোলাটে হয়ে পড়ে। ক্যাসিনো থেকে কোটি কোটি টাকা পাওয়ার কথা লোকমান রিমান্ডে স্বীকার করেছেন। অথচ ক্লাবের ফান্ড ছিল প্রায় শূন্য। পরবর্তীতে সাবেক নন্দিত ফুটবলার বাদল রায়ের নেতৃত্বে ফান্ড সংগ্রহ করে ফুটবল দল গঠন হয়।

সংকট কাটাতে স্থায়ী সদস্য এমনকি অনেক পরিচালকও নির্বাচন দেওয়ার জন্য আমিন উদ্দিনকে অনুরোধ রাখেন। তিনি তিনবার পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। সর্বশেষ বৈঠকে ঘোষণা আসে ৮ ডিসেম্বর যে বৈঠকটি হবে সেখানেই নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনে সম্ভাব্য তারিখ ছিল ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি। কিন্তু নির্বাচন হচ্ছে না। ক্লাবের অচলাবস্থা ঝুলেই আছে। নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এ প্রসঙ্গে জানতে গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেলকে ফোন করা হয়। তিনি প্রথমে ব্যস্ততায় কথা বলতে চাচ্ছিলেন না। পরে বললেন, ওরা মিটিং না ডাকলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করব কিভাবে? তিনি এটাও বলেন, ‘আমি আর পারছি না। হয়তো দায়িত্ব ছেড়েই দেব।

আমিন উদ্দিনের এমন মন্তব্য ক্লাবের পরিচালক মো. আবদুর রব মাহাবুব বলেন, ‘স্যারকে আমরা সব কাজেই সহযোগিতা করছি। আমি যতটুকু জানি সামনে বৈঠকে নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।’ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে মোহামেডানের সঙ্গে জড়িত স্থায়ী সদস্য ফজলুর রহমান বাবুল বলেন, নির্বাচন যেন না হয় একটি চক্র ষড়যন্ত্রের চাল ছাড়ছে। ওরা চাচ্ছে যত দেরি ততই তাদের লাভ। লোকমানের নাম উচ্চারণ করে তিনি বলেন, উনি স্থায়ী সদস্য বানাতে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নাকি নিয়েছেন। ওদের সদস্য করা মানে তাদের ভোট বেড়ে যাওয়া এবং এমন কেলেঙ্কারির পরও লোকমানের নির্বাচনে অংশ নেওয়া। এমন নোংরা পরিবেশ দেখে হয়তো বা আমিন উদ্দিন স্যার ক্ষুব্ধ।


আপনার মন্তব্য