শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩২

বড় সংগ্রহের পথে টাইগাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বড় সংগ্রহের পথে টাইগাররা
একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে দিন শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরছেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস। তাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ

টাইগার কোচ রাসেল ডমিঙ্গো প্রতিপক্ষের দুই পেসার কেমার রোচ ও শ্যান গ্যাব্রিয়েলকে নিয়ে তার শিষ্যদের ভালোই দীক্ষা দিয়েছেন। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন বলতে- ‘রাকিম কর্নওয়াল’কে নিয়ে একটা শর্ট সিলেবাস তৈরি করে দিয়েছিলেন।

কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ফিল সিমন্স বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রশ্নপত্রে যোগ করে দিলেন সেন্ট ভিনসেন্টের ২৯ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানকে। আর এতেই বাজিমাত।

যেখানে কেমার রোচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের মতো বিশ্বমানের পেসাররা কিছু করতে পারলেন না। কর্নওয়াল চ্যাপ্টারও ছিল টাইগারদের মুখস্থ। কিন্তু অখ্যাত ওয়ারিক্যানই চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে নায়ক হয়ে গেলেন। ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে খানিকটা অস্বস্তিতেও ফেললেন।

শেষ বিকালে বাইশগজে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বাংলাদেশকে। দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪২ রান। ১৯৩ রানে পঞ্চম উইকেট পতনের পর দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন দুই ব্যাটসম্যান। সাকিব ৯২ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। লিটন দাস ৫৮ বলে নট আউট ৩৪।

ওয়ানডের মতো টেস্টেও আস্থার পরিচয় মিলছে সাকিবের ব্যাটে। নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন যে টেস্ট খেলাই হয়নি তা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় ছিল না। যদিও লিটন বাইশগজে গিয়েই ব্যাট করতে থাকেন ওয়ানডে স্টাইলে। কিন্তু উইকেটে সেট হয়ে দিয়েছেন আস্থার পরিচয়।

কাল প্রথম সেশনে দুই ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হয়ে যান। দ্বিতীয় সেশনে সাদমান ইসলাম ও অধিনায়ক মুমিনুল হক মিলে অসাধারণ ব্যাটিং করছিলেন। তাদের জুটিতে আসে ১৬৭ বলে ৫৩ রান। সাদমান-মুমিনুল যেন ক্যারিবীয় বোলারদের কোনো সুযোগই তৈরি করতে দিচ্ছিলেন না। কিন্তু অসাধারণ ব্যাটিং করার পরও দুই ব্যাটসম্যানই ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন নিজেদের বোকামির কারণে।

শর্ট মিড উইকেটে ফিল্ডার নিয়ে আসার পরও কেন মুমিনুল এমন একটি বাজে শট খেলতে গেলেন? ওয়ারিক্যানের বলে ক্যাম্পবেলের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটতে শুরু করেন। ক্যাম্পবেলের অঙ্গভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, যেন তার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না তিনি এমন শট খেলেছেন!

মুমিনুলের আউটের পরও দারুণ ব্যাটিং করছিলেন সাদমান ইসলাম। টেস্টের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন দৃষ্টিনন্দন এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। কিন্তু ৫৯ রানের মাথায় গিয়ে তিনিও বোকামি করলেন।

লেগ-স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বলে লেগ-বিফোর দেন আম্পায়ার। অপর প্রান্তে থাকা অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটতে থাকেন। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় রিভিউ নিলেই বেঁচে যেতেন সাদমান। কারণ বল লেগ-স্ট্যাম্পের বেশ বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত এবং নিজের বোকামির জন্য আক্ষেপ হয়েছে সাদমানের। দিন শেষে বলেন, ‘আমার কাছে তখন মনে হয়েছিল, বলটি স্ট্যাম্পেই আঘাত করবে। সে কারণে রিভিউ নিইনি। তবে দেখে খারাপ লেগেছে। এমন আউটের পর খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। তবে এটাও খেলার অংশ। তাই মেনে নিতেই হবে।’

দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে হাফ সেঞ্চুরি করতে পারায় স্বস্তিও কাজ করছে সাদমানের। টাইগার ওপেনার বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে অনেক দিন পর খেলতে নেমে হাফ সেঞ্চুরি করেছি। অনেক পরিশ্রম করেছি। দলের প্রয়োজনে ভালো ব্যাট করতে পেরে ভালোই লাগছে। তবে ইনিংসটা বড় হলে আরও ভালো লাগত।’

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আজ সাকিব-লিটনের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। দুই ব্যাটসম্যানের ওপরই নির্ভর করছে টাইগারদের ইনিংসটা কত বড় হচ্ছে!

 


আপনার মন্তব্য