১৩ অক্টোবর, ২০২১ ২৩:১০

বিতর্কিত পেনাল্টি নিয়ে মুখ খুললেন কোচ অস্কার ব্রুজন

অনলাইন ডেস্ক

বিতর্কিত পেনাল্টি নিয়ে মুখ খুললেন কোচ অস্কার ব্রুজন

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার সময় ফাইনালের খেলার আশাবাদ ব্যক্ত করে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে সেই লক্ষ্যের একদম কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল তারা। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে জিকোর লাল কার্ড ও বিতর্কিত পেনাল্টিতে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের।

বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ অস্কার ব্রুজন। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরিই বললেন, ‘রেফারি আমার খেলোয়াড়দের প্রতি অবিচার করেছে। তিনি আনফেয়ার ছিলেন। আমি ভারত ম্যাচের পর থেকেই রেফারিং নিয়ে বলে আসছিলাম। আজ এর চূড়ান্ত রূপ নিল।’

বাংলাদেশকে দেওয়া দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই পক্ষপাত মনে করেন অস্কার। তিনি বলেন, ‘জিকো বক্সের বাইরে প্রথমে পা দিয়ে স্পর্শ করেছে। এরপর বল তার হাতে লেগেছে, সেটি ইচ্ছেকৃত নয়। লাল কার্ড দেওয়ার মতো ছিল না। পেনাল্টির কথা আর কী বলব! এটি সম্পূর্ণ অর্থে ভুল সিদ্ধান্ত। আরো বেশি কিছু বললে আমি এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হব।’

বুধবার বাংলাদেশি দর্শকরা ভুভুজেলা আর ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সেই উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিয়েছিল বহুগুণে। চারদিকের গ্যালারিতে হাজারও বাংলাদেশি সমর্থক নেপালের জন্য ছিল ভীতির কারণ। বিশেষ করে সুমন রেজার গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার পর। ম্যাচের নবম মিনিটে সেট পিস থেকে গোল করে বাংলাদেশ। ডি বক্সের বাম দিকে রাকিবকে ফাউল করায় ফ্রি কিকের নির্দেশ দেন রেফারি। জামালের নেওয়া শটে নেপালের ডিফেন্ডারের মাথা ছুঁয়ে বল ডি বক্সে এলে অনেকটা লাফিয়ে হেডে গোল করেন সুমন রেজা। অনুশীলনে সেট-পিসে গোল করার জন্য বেশ জোর দিয়েছিলেন কোচ অস্কার। তারই সুফল ছিল এই গোল। বাংলাদেশ ১-০ গোলের এই ব্যবধান ম্যাচের ৮৭ মিনিট পর্যন্ত ধরে রাখে। এমনকি ৭৯ মিনিটে আনিসুর রহমান জিকোর লাল কার্ডের পরও ডিফেন্সে দুরন্ত ছিল বাংলাদেশ। ডি বক্সের বাইরে গিয়ে হ্যান্ডবল করায় লাল কার্ড দেখেন জিকো।

ম্যাচজুড়ে অনেক বিতর্কিত সিদ্ধান্তই দিয়েছেন রেফারি। কিন্তু ৮৮তম মিনিটে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেলেন। ডি বক্সের ভিতরে বিশ্বনাথের বিপক্ষে বিতর্কিত এক ফাউলের সিদ্ধান্ত দিয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। গোল করে নেপালকে সমতায় ফেরান অঞ্জন বিস্তা। এই একটা গোল ‘স্পিরিট অব ফুটবল’টাই শেষ করে দেয়। এমনকি ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নেপালের কোচ আবদুল্লাহ আল মুতাইরিও বললেন, ‘আমি ঠিক নিশ্চিত নই ওটা পেনাল্টি ছিল কি না। তবে রেফারির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই।’  নেপাল সম্মান জানাতেই পারে। সিদ্ধান্তটা তাদের অনুকূলেই ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ কীভাবে মেনে নিবে এসব! শত প্রতিবাদেও কাজ হয়নি। ম্যাচে কিংবা ম্যাচের পরও প্রতিবাদী ছিল ফুটবলার ও দর্শকরা। ড্রেসিং রুমে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফুটবলাররা।

বড় দুঃখ ছিল বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে। অভিমান ছিল ফুটবলারদের ওপর। ক্ষোভ ছিল ফুটবলের সঙ্গে জড়িত সবার প্রতি। এই দুঃখ, এই অভিমান, এই ক্ষোভ ছিল স্বতঃসিদ্ধ। কতদিন অপেক্ষা করা যায়! আজ হয়নি তো কাল হবে। কাল হয়নি তো পরশু হবে। কিন্তু এ যে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কেটে গেল! ফুটবলের মানুষরা গোমড়া মুখে বসে থাকেন। জনসমক্ষে প্রাণ খুলে হাসতে পারেন না। সফলতা নেই যে! কত এসএ গেমস গেল, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ গেল, দ্বিপক্ষীয় আর ট্রাই নেশন্স কাপ গেল! কই, ফুটবলের উঠোনে আনন্দের জোয়ার উঠেনি। ১৬ বছর ধরে সাফের ফাইনাল খেলার অপেক্ষায় থেকে গেল। নেপাল ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারতের বিপক্ষে। গতকাল রাতে ভারত ৩-১ গোলে মালদ্বীপকে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে যায়গা করে নিল। অথচ তারা শুরুটা করেছিল দুই ড্রয়ে। স্বাগতিকরা  ড্র করলেই ফাইনালে যেত। ভারত তা হতে দেয়নি। জয়ের নায়ক ছিলেন সুনিল ছেত্রি। তিনি জোড়া গোল করেন। মানবীর সিং আরও একটি। মালদ্বীপের আশফাক পেনাল্টি থেকে গোল করেন।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর