Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুন, ২০১৮ ২৩:১২

সুপার তারকাদের সঙ্গিনী

রণক ইকরাম

সুপার তারকাদের সঙ্গিনী

নানা অঘটনের জন্ম দিয়ে চলছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ- ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল ২০১৮। এই আসরে বিশ্বসেরা সব ফুটবলারের ব্যক্তিগত আর দলগত নৈপুণ্যে বুঁদ হয়ে থাকে গোটা বিশ্ব। সমর্থকদের মধ্যেও চলে দারুণ উন্মাদনা। এতসবের ভিড়ে মিডিয়ার দৃষ্টি এড়ায় না বিখ্যাত ফুটবলারদের ব্যক্তিগত জীবনও। রোনালদো, মেসি আর নেইমারদের মাঠের বাইরের জীবনও তাই সমানভাবে আলোচিত হয়। তাদের স্ত্রী কিংবা বান্ধবীদের কথাও মানুষ জানতে চায় সমানভাবে। তারকা ফুটবলারদের স্ত্রী ও বান্ধবীরা কেউ কেউ আবার নিজেরাই বড় তারকা। দেশ-জাতি আর ধর্মের পরিচয় বাইরে রেখে কেউ কেউ জড়িয়েছেন দুর্দান্ত যৌথ জীবনে। ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলছেন এমন তারকাদের সেই প্রেমিকাদের নিয়ে রকমারির এ আয়োজন।  

 

নেইমার-ব্রুনা

নেইমারের বার্সেলোনা অভিষেকের দিন ন্যু ক্যাম্পের গ্যালারিতে বার্সার জার্সি গায়ে চড়িয়ে সবার দৃষ্টি কেড়েছিলেন নেইমারের বান্ধবী ব্রুনা মারকুইজি। এবারের বিশ্বকাপে নেইমারের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। এরপরও রাশিয়া বিশ্বকাপের স্পটলাইট ঠিকই তার ওপর। নানা চড়াই-উত্রাইয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে ব্রাজিলিয়ান টিভি তারকা ব্রুনা মারকুইজি এবং নেইমারের সম্পর্ক। একাধিকবার ভাঙনের সুর উঠলেও এখনো পর্যন্ত একসঙ্গেই আছেন দুজন। এই দম্পতির কোনো সন্তান না থাকলেও

১৯ বছর বয়সেই বাবা হন নেইমার। নেইমারের ছেলে ডেভিড লুকার মা নেইমারের আরেক বান্ধবী কারোলিনা দান্তে।

ব্রুনা মারকুইজির জন্ম ও বেড়ে ওঠা ব্রাজিলেই। শৈশব থেকেই অভিনয়ে পারদর্শী ব্রুনার পেশা অভিনয় এবং মডেলিং। নেইমার ও ব্রুনার পরিচয় ২০১২ সালে ব্রাজিলের এক কার্নিভালে। সেই পরিচয়টা আস্তে আস্তে প্রণয়ে রূপান্তরিত হয়। এর মধ্যে অবশ্য একাধিকবার সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দেয়। বর্তমানে সম্পর্কটা উষ্ণ আছে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রুনা বলেছেন, নেইমারের হাতে বিশ্বকাপ উঠলেই বিয়ে করে ফেলবেন। নেইমারের হাতে এবার বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন দেখছেন বান্ধবী ব্রুনাও। তার বিশ্বাস, দেশের মানুষকে হতাশ করবেন না ব্রাজিলীয় এই তারকা। কিন্তু এমন ঘোষণা কি ব্রাজিলীয় তারকার জন্য মানসিক চাপ হয়ে ওঠবে না? ব্রুনা বলেছেন, ‘ওর মানসিক দৃঢ়তা কতটা, সেটা আমার চেয়ে ভালো আর কেউ জানেন না। এবার নেইমার বিশ্বকাপ জেতার জন্য মরিয়া।’

তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আপাতত আমি ডেটিংটা দারুণ উপভোগ করছি। নেইমারের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যে যে রোমান্টিকতা রয়েছে, তার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। ওর মতো সরল, নিষ্পাপ মানুষ দ্বিতীয় কেউ নেই।’ মাঠে এবং মাঠের বাইরে নেইমারকে মানসিক শক্তি জোগাতে তিনি ব্রাজিলের জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘গড সেভ দ্য কিং’-এর অভিনয় থেকেও সরে এসেছেন।

রোনালদো-জর্জিনা

বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকসহ দুই ম্যাচে ৪ গোল দিয়ে এর মধ্যেই সবার নজর কেড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার সুন্দরী বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজ।   বিশ্বকাপের পর সেই জর্জিনাকে বিয়ে করছেন রোনালদো— এমনটাই জানিয়েছেন রোনালদোর মা মারিয়া দোলোরেস।

২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজের প্রেমে মজেছেন সিআর-৭। সেই থেকেই তাদের রসায়ন ছড়িয়ে পড়েছে রোনালদোভক্তদের মাঝে। রোনালদোর এক কন্যা সন্তানের মা জর্জিনা। গেল বছরের নভেম্বরে জর্জিনার ঘর আলোকিত করে আসে রোনালদোর চতুর্থ সন্তান। এর আগে গর্ভ ভাড়া করা মায়ের মাধ্যমে দুই যমজ সন্তানের বাবা হন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ সুপারস্টার। আর রোনালদোর প্রথম সন্তান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। তার মায়ের নামটি কখনোই বলেননি রোনালদো।

মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজের জন্ম স্পেনে। ২০১৬ সাল থেকেই পর্তুগালের ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তার সম্পর্ক।

নাচ নিয়ে পড়াশোনা করেন জর্জিনা, তবে পরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ইংরেজি বিষয়ে লেখাপড়া করে মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। রোনালদোর সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার আগে স্পেনের মাদ্রিদে গুচির একটি দোকানে কাজ করতেন জর্জিনা। ফুটবল ভালোবাসেন জর্জিনা। রিয়াল মাদ্রিদের সানতিয়াগো বার্নাব্যুতে রোনালদোর খেলা দেখতে যান তিনি।

মেসি-রোকুজ্জো

প্রথম ম্যাচে পেনাল্টি মিস আর আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র। পরের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ৩-০ গোলের হার। আর্জেন্টিনা পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশাটাই দুলছে। ভিনগ্রহের ফুটবলারখ্যাত মেসির বিশ্বকাপ স্বপ্নটা বুঝি অধরাই থেকে যাবে! কিন্তু অধরা থাকেনি প্রেমিক মেসির প্রেম। আন্তনেলা রোকুজ্জো মেয়েটার সঙ্গে পাঁচ বছর বয়স থেকেই জানাশোনা মেসির। আর্জেন্টিনার রোজারিওতেই তাদের আলাপ সালাপ। তখন কিশোর মেসি মনের আনন্দে ফুটবল খেলে বেড়াতেন। কিন্তু ১৩ বছর বয়সে মেসি চলে আসেন স্পেনে। কেন তাকে স্পেনে নিয়ে আসা হয়, সে কথা কারও অজানা নেই। ব্যয়বহুল হরমোন-চিকিৎসার জন্য বার্সেলোনায় ঠাঁই হলো বালক মেসির। খেলোয়াড়ি জীবনের টানে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমান মেসি। তবু রোকুজ্জোকে ভুলে থাকতে পারেননি। তলে তলে সে বন্ধুত্ব জমে ক্ষীর! এ প্রেম নয় তো কী? কিশোর বয়সের সেই প্রেম তারুণ্য ছুঁয়ে গেল মেসির। ততদিনে মেসি ফুটবল জগতে বিস্ময়। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত এই আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকরের। কিন্তু এই জাদুকরকেই উল্টো বশে রেখেছেন হাস্যোজ্জ্বল তরুণী রোকুজ্জো। একই ছাদের নিচে বসবাস তাদের। ভিন দেশে আইনসিদ্ধ এই প্রণয়ে তাদের সংসারে এসেছে দুই সন্তান। অবশ্য বিয়েটা হয়েছে তারও অনেক পর।

পুরনো খেলার সাথীর সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগের পর জমে ওঠে দুজনের প্রেম। ২০০৭ সালে জানাজানি হয় এই সম্পর্কের কথা। এরপর তিন বছর চলে প্রেমের লুকোচুরি খেলা। খবরটা মিডিয়ার নজরে এলে মেসিও কোনো লুকোছাপা করেননি। আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও লিওনেল মেসি ছিলেন দুজনে দুজনার।

২০১২ সালে তারা ঘোষণা করলেন তাদের প্রথম সন্তান থিয়েগোর জন্মের সংবাদ। ২০১৫ সালে জন্ম নিল দ্বিতীয় সন্তান মাতেও। তারা বিয়ে করেন দুই সন্তানের জন্মের পর, ২০১৭ সালে। সে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেরার্ড পিকে, শাকিরা, জর্ডি আলবা, কার্লোস পুয়োল। বিয়ের কিছুদিন পরই মেসি-রোকুজ্জোর সংসারে আসে তৃতীয় সন্তান কিরো।

পিকে-শাকিরা

ভালোবেসে পরস্পরকে কাছে টেনেছেন কলম্বিয়ান পপস্টার শাকিরা এবং স্পেন ও বার্সেলোনার রক্ষণভাগের সুপারস্টার জেরার্ড পিকে। তাদের প্রেমকাহিনী ঘিরেও আছে সেই ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গান। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে এই গানের শুটিংয়েই প্রথম সাক্ষাৎ দুজনের। সেখানে মোবাইল নম্বর বিনিময়। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপে গিয়ে আবারও আলাপ। সেখানেই শুরু মন দেওয়া-নেওয়া। এরপর রোমাঞ্চ। রোমাঞ্চ থেকে উষ্ণতা।

পিকের ভাষ্য, ওখানে শাকিরা তখন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমি তার সামনে গিয়ে কী বলব বুঝতে না পেরে বোকার মতো জিজ্ঞাসা করি, ‘আজকের আবহাওয়া কেমন?’ পিকে হাসতে হাসতে বলেন, এটা নিতান্তই একটি স্টুপিড প্রশ্ন ছিল তাতে সন্দেহ নেই। উত্তরে বলা উচিত ছিল একটি জ্যাকেট পরে নিতে। কিন্তু শাকিরা খুব সিরিয়াসলি আমার সঙ্গে আবহাওয়া নিয়ে কথা বলা শুরু করল।

পিকে তাকে বলেছিলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে আবার দেখা হবে। সত্যি সত্যি দুজনের দেখা হয়েছিল। পিকের হাতে তখন বিশ্বকাপ ট্রফি এবং বিজয়ী ফুটবলারের মেডেল! এমন প্রেমিককে কি কেউ ফিরিয়ে দেয়? তাই এখন দুই সন্তান নিয়ে শাকিরা-পিকের সুখের সংসার। মাঝে বিচ্ছেদের সুর ওঠলেও এখনো একসঙ্গেই আছেন দুজন।

রামোস-রুবিও

এই বিশ্বকাপে রামোসের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। রক্ষণভাগের ব্যর্থতার কারণে পর্তুগালের সঙ্গে ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়। এরপর অবশ্য ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচে ১-০ গোলের জয় স্পেনের আশা টিকিয়ে রেখেছে। রিয়াল মাদ্রিদ রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী সার্জিও রামোসের অর্ধাঙ্গিনী পিলার রুবিও। তিনি পেশায় একজন টেলিভিশন রিপোর্টার এবং উপস্থাপিকা। একটানা তিন বছর ট্যালেন্ট শো অপারেশন তুরিনফোর উপস্থাপনা করার পর রুবিও অভিনয় করেছেন অসংখ্য সিনেমা এবং টিভি সিরিজে। একটি ফুটফুটে সন্তানও আছে মিস্টার অ্যান্ড মিসেস সার্জিও রামোসের। হ্যাপি কাপল হিসেবে সুনাম রয়েছে রামোস-রুবিওর।

হ্যারি কেন-ক্যাটি

ইংলিশ মিডফিল্ডার হ্যারি কেন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুই দুটি গোল পেয়ে আলোচনায় ওঠে এসেছেন। এর আগে ইউরোপিয়ান ফুটবলারদের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়ও মেসি, রোনালদোর পরই ছিল তার নাম। সেই হ্যারি কেনের সুন্দরী বান্ধবীর নাম ক্যাটি গুডল্যান্ড। ক্যাটি মূলত হ্যারির স্কুলজীবনের বান্ধবী। ফ্যামিলি হলিডে চলাকালীন সময়ে সমুদ্রতীরে হ্যারিই প্রথম ক্যাটিকে প্রপোজ করেন। হ্যারির সেই আবেদনে সাড়া দেন ক্যাটি। পরবর্তীতে হ্যারি টুইটারে তার প্রেমের বিষয়টি ঘোষণা করেন এভাবে যে, ‘শি সেইড- ইয়েস’। বর্তমানে তারা তাদের দ্বিতীয় বন্ধুর জীবনযাপন করছেন। কয়েক বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০১৭ সালে এই জুটির বাগদান হয়। অবশ্য ২৪ বছর বয়সী এই দম্পতি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরেই একসঙ্গে বসবাস করছেন। ২০১৭ সালে ক্যাটি মেয়ে সন্তানের মা হন। মেয়ের নাম রাখা হয় আইভি। বর্তমানে ক্যাটি দ্বিতীয় সন্তান জন্মদানের অপেক্ষায় আছেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে তারা দ্বিতীয় সন্তানের বিষয়টি ঘোষণা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ক্যাটি একজন ফিটনেস ইন্সট্রাক্টর। সব ছাপিয়ে তিনি এখন হ্যারির গর্বিত সঙ্গিনী।

হার্নান্দেজ-আন্দ্রেয়া

মেক্সিকান মিডফিল্ডার জেভিয়ার হার্নান্দেজ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল না পেলেও অ্যাসিস্ট করেছেন। ভূমিকা রেখেছিলেন দলের জয়ে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে শুরু করেন বিশ্বকাপ। সেই হার্নান্দেজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই চলছিল নানা গুঞ্জন। এ বছরই সামারের দিকে সেই গুঞ্জনের সত্যতা প্রকাশ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যা রটে তা কিছুটা হলেও বটে! সামনে চলে আসে হার্নান্দেজ এবং আন্দ্রেয়া ডরোর প্রেমের কথা। আন্দ্রেয়া মূলত একজন স্প্যানিশ টিভি তারকা। হার্নান্দেজ যখন বেয়ার লেভারকুজেনের হয়ে খেলছিলেন তখন থেকেই আন্দ্রেয়ার প্রতি ঝোঁক ছিল তার। এরপর তাদের প্রেমের ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেলেও প্রকাশ্যে এ নিয়ে মুখ খোলেননি কেউই। উল্টো বিশ্বকাপের আগে খবর বেরোয় তাদের সম্পর্ক নাকি ভেঙে গেছে। কারণ আন্দ্রেয়া নাকি এই সম্পর্ক নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুখরোচক খবর ছাপলেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কিছুই। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে ‘লাভ’ শিরোনামে একটি ছবি শেয়ার দিয়েছিলেন আন্দ্রেয়া। যেখানে হার্নান্দেজের অস্তিত্ব ছিল। এরপর আর কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি।

টমাস মুলার-লিসা

জার্মান ফরোয়ার্ড টমাস মুলার গত বিশ্বকাপ দুর্দান্ত কাটিয়েছিলেন। এবারের বিশ্বকাপেও খেলে ফেলেছেন একটি ম্যাচ। ব্যক্তিগত জীবনে তার সঙ্গী লিসা মুলার। দাম্পত্য জীবন শুরু করার আগে তারা দুজন দীর্ঘদিন চুটিয়ে প্রেম করেছেন। ২০০৮ সালে মুলারের প্রেমের প্রস্তাবে খুশি মনে সাড়া দেন লিসা। তিনি একটি ফার্মে কাজ করেন, সেই সঙ্গে একজন মডেলও বটে। ২০০৯ সালে তারা বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। মজার ব্যাপার হলো তাদের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে মাত্র ১৮ বছর বয়সে। কমন ফ্রেন্ডের মাধ্যমে সেদিনের সেই সাক্ষাতের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের যোগাযোগ অটুট থাকে। দুই বছরের মধ্যে টমাস মুলার আবিষ্কার করেন এই মেয়েটাই হয়তো তার জন্য পারফেক্ট। এরপর প্রেমের প্রস্তাব এবং দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের সঙ্গে সংসার করে যাচ্ছেন।

ওজিল-এমিন

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবারের বিশ্বকাপের শুরুতেই মেক্সিকোর কাছে হোঁচট খেয়েছে। সেই ম্যাচে অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন মেসুত ওজিল। জনপ্রিয় এই তারকার বান্ধবী এমিন গুলসে। তিনি সাবেক মিস তুর্কি। তীব্র গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে দুজন প্রেম করেছেন অনেকদিন। এরপর ২০১৭ সালে টুইটারে ছবি পোস্ট করে নিজেদের প্রেমের কথা জনগণের সামনে প্রকাশ করেন মেসুত ওজিল। ২০১৫ সালের মিস তুর্কি নির্বাচিত হওয়া এমিন একই বছর বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহণ করেন।

গ্রিজম্যান-এরিকা

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই গোল করে আলোচনায় ওঠে এসেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড এন্টনিও গ্রিজম্যান। লা লিগায় অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলা এই ফুটবলারের সুন্দরী স্ত্রীর নাম এরিকা চোপেরিন। রিয়েল সোদিয়াদের হয়ে খেলার সময় এরিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় গ্রিজম্যানের। এরিকা তখন স্যান স্যাবাস্টিয়ানে পড়ছিলেন। এরপর ২০১৬ সালে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। একজন ফ্রেঞ্চ ও আরেকজন স্প্যানিশ হওয়ার কারণে তাদের কন্যাটি বাইল্যাঙ্গুয়াল হিসেবে বেড়ে ওঠে। ২০১৭ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের কন্যার নাম মিয়া। ইউরো ২০১৬ সালের টপ স্কোরার গ্রিজম্যানের স্ত্রী এরিকা মূলত স্প্যানিশ। তিনি একজন চাইল্ড সাইকোলজিস্ট হিসেবে বিখ্যাত। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে চুক্তি করার পর এই দম্পতির একসঙ্গে থাকাটা সহজ হয়ে আসে। গ্রিজম্যান ২০২২ সাল পর্যন্ত অ্যাথলেটিকোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম তরুণ তুর্কি হিসেবে অভিহিত করা হয় এই গ্রিজম্যানকে।


আপনার মন্তব্য