Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২৫ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:০৭
অবৈধ সম্পদ অর্জন
সাবেক এমপি মসিউরের ১০ বছর জেল
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
সাবেক এমপি মসিউরের ১০ বছর জেল

দুর্নীতি মামলায় ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মসিউর রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল যশোরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এ আদেশ দেন। দুদকের যশোর শাখার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাবেক এমপি মসিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দিয়েছে। এ ঘটনায় আজ ঝিনাইদহ জেলা শহরে সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত হরতালের ডাক দিয়েছে জেলা বিএনপি। যশোর প্রেস ক্লাবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক এক সংবাদ সম্মেলনে এ হরতাল পালনের ডাক দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার দুটি ধারায় মসিউরকে কারাদণ্ড, জরিমানা ও তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। এর মধ্যে ২৬(২) ধারায় তথ্য গোপনের অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে ২৭(১) ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার তত্কালীন সহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন মৃধা ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর মসিউর রহমানের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন। এতে প্রায় ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন। ২০০৯ সালের শেষের দিকে ঝিনাইদহ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মামলাটি আমলে নেয়। আমলযোগ্য মামলাটির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে প্রোসিডিং কোয়াশমেন্টের জন্য আবেদন করেন মসিউর রহমান। এরপর ২০১০ সালের ৬ জুন উচ্চ আদালত মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত করে। চার বছর পর ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল উচ্চ আদালত আসামির আবেদন খারিজ করে স্থগিতাদেশ বাতিল করে। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়। অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করেন মসিউর রহমান। লিভ টু আপিল খারিজ হয়ে গেলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ আবেদন করেন। এ আবেদন খারিজ হলে বিচারকাজ শুরু হয়। এরপর যশোর স্পেশাল জজ আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গতকাল রায় ঘোষণা করা হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow