Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:২২
প্রকৃতিকে কঠোরভাবে সংরক্ষণ করছে ভুটান
শিমুল মাহমুদ, পারো (ভুটান) থেকে

এশিয়ার সুইজারল্যান্ড বলে খ্যাত ভুটান এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সারা দেশে উঁচু-নিচু অসংখ্য পাহাড় ও ঘন সবুজে ঢাকা ভুটান শান্ত, নিরিবিলি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সাজানো-গোছানো এই দেশটিতে দৃষ্টিনন্দন অনেক কিছুই রয়েছে উপভোগ করার মতো। তাই ভ্রমণপিপাসুদের প্রথম পছন্দ এই ভুটান। হিমালয় পর্বতমালার পূর্বাংশে অবস্থিত ৪৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের পুরো দেশটাই পাহাড় দিয়ে বেষ্টিত। মোহনীয় প্রকৃতির কারণেই ভুটান এই অঞ্চলের অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ দেশ। প্রকৃতির অকৃত্রিম মমতা এবং সবুজে ছাওয়া বিস্তৃত অঞ্চল পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। আগস্ট থেকে অক্টোবর এই তিন মাস ভুটানে বেড়ানোর উত্কৃষ্ট সময়। ভ্রমণের জন্য দেশটি বেশ নিরাপদ। পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পছন্দের স্থানগুলোতে ঘুরতে পারেন। আনন্দ ও শান্তিময় ভ্রমণের জন্য ভুটান সব পর্যটকের কাছে যেন এক স্বর্গরাজ্য। এত সুন্দর ভূপ্রকৃতির আকর্ষণীয় ভুটানে প্রকৃতিকে কঠোরভাবে লালন করছে ভুটান সরকার। ফলে কঠোর আইনগত বিধি-বিধানের মাধ্যমে পরিবেশ  রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করছে তারা। আমাদের ভ্রমণ গাইড ও ড্রাইভার কাজান বললেন, ভুটানকে প্রকৃতির মতোই সাজানো-গোছানো রাখতে সরকার ও দেশের মানুষ সক্রিয় রয়েছে। তবে গত ১০ বছরে ভুটানে দূষণ অনেক বেড়ে গেছে। ভুটানে এখন পুরোদমে কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে। পুরোপুরি নীরব এলাকাটি আর নীরব থাকছে না। অনেক আগে থেকেই ভুটানে হাজার হাজার বাইরের মানুষ উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ভুটানের পাশের জেলা ভারতের কোচবিহারের হাজার হাজার মানুষ নানারকম উন্নয়নমূলক কাজে ভুটানে অংশ নিচ্ছে। আমাদের হোটেলের পাশে একটি বালিকা বিদ্যালয় নির্মাণ কাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রি কোচবিহারের হীরা বললেন, এখানে আইন-কানুন অনেক কড়া। সারা দেশে এত বনভূমি, অথচ অনুমতি ছাড়া একটি গাছও কাটতে পারবেন না। সড়কের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে ভুটান সরকার শাস্তির বিধানসহ বিভিন্ন সতর্কবাণী লিখে রেখেছে। তার মধ্যে রয়েছে পাবলিক প্লেসে ময়লা ফেলার জরিমানা ১০০ গুলট্রাম। অননুমোদিত স্থানে ময়লা ফেললে জরিমানা ৫০০ গুলট্রাম। পাবলিক প্লেসে মূত্র ত্যাগ করলে জরিমানা ১০০ গুলট্রাম। যানবাহনের যন্ত্রাংশ, আবর্জনা নদীর পানি, লেক, পুকুর, ড্রেন ও খাবার পানির উৎসমুখে ফেললে জরিমানা ১০০০ গুলট্রাম। নির্ধারিত এলাকা ছাড়া অন্যত্র ময়লা আবর্জনা ফেললে জরিমানা ২০,০০০ গুলট্রাম। কনস্ট্রাকশন কাজের মাটিসহ আবর্জনা নির্ধারিত স্থানের বাইরে ফেললে জরিমানা ৯,০০০ গুলট্রাম। ভুটানের মুদ্রা গুলট্রাম ও ভারতীয় রুপির মান এখানে সমান। ভুটানে দুই মুদ্রাই সমানভাবে চলে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের এসব ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এসব জরিমানা শুধু কথার কথা নয়। দূষণকারীকে সংশ্লিষ্ট দফতরে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হয়। প্রকৃতির অসাধারণ সৌন্দর্য সত্ত্বেও পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় পর্যটকদের ঢল নামতে দেওয়া হয়নি ভুটানে। ভুটান ভ্রমণে দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটকদের কোনো ফি লাগে না। তবে ২০১২ সাল থেকে অন্য বিদেশিদের গুনতে হয় প্রতিদিন ২৫০ ডলার করে। এয়ারপোর্টে আসতে হয় ভিসাসহ। হিমালয়ের পাদদেশের অসাধারণ জনপদ ভুটান বহু শতাব্দী ধরে নিজের ভাষা-ধর্ম-সংস্কৃতি ধরে রাখতে পেরেছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য সত্ত্বেও সরকারের ঘোষিত নীতির ফলেই ভুটান ভ্রমণ সাধারণ বিদেশি পর্যটকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। একমাত্র সরকার অনুমোদিত বিশেষ কিছু পর্যটন সংস্থার মাধ্যমেই বিদেশি পর্যটকরা ভুটান ভ্রমণে আসতে পারে। ভুটানের পর্যটন পরিষদ বলছে, সব পর্যটকের জন্য ভুটানের দরজা খুলে দেওয়া হলে রাজস্ব বাবদ বিশাল অর্থ হাতে আসবে ঠিক, কিন্তু তার জন্য হয়তো অনেক মূল্য দিতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow