Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : ৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৪:৪১
আপডেট : ৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:৩০

বাংলাদেশ নিয়ে পুরনো ধারণা ভুল: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ নিয়ে পুরনো ধারণা ভুল: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যখন ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল তখন মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জার এই দেশকে একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন।

কেননা, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ তখন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ছিল। সেই পুরনো ধারণা থেকেই এখনও অনেকে মনে করেন- বাংলাদেশের গরীব শ্রেণির মানুষরা সুদিনের খোঁজে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। সত্যি বলতে, সেই দিন আর এখন নেই।

ভারতীয় গণমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী প্রতিবেদনে এ কথা বলেছেন দেবদীপ পুরোহিত।

তিনি বলেছেন, ভারতের সংসদে দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যনন্দ রাই মজার একটি তথ্য তুলে ধরেছেন। বলেছেন-২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ৪৯৭ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭৯ জনকেই গ্রেফতার করা হয় বাংলা সীমান্ত থেকে। তার মতে, পশ্চিম বাংলা, আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা সীমান্তে ২০১৪ সালে গ্রেফতার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল ২,৪৫৫ জন।

তিনি আরও বলেন, যদিও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সঠিক সংখ্যা নিরূপণ অসম্ভব। তারপরও বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এর কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা।

দেবদীপ আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের থেকে অনেক ভাল। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশটির জিডিপি ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আর ২০২০ সাল নাগাদ এই দেশের মাথা পিছু আয় ৬.৬ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুতরাং হেনরি কিসিঞ্জারের সেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ উক্তিটি এখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অসার।

এক্ষেত্রে দু’জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার তুলে ধরেন এই লেখক। তাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি বাংলাদেশের অভিজাত এলাকা গুলশানে রিকশা চালাতেন। 

এক দশক আগে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। সেখানে দমদম এলাকায় তিনি বসবাস করতেন। কিন্তু এক দশকেও তিনি তার ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেননি। নিরাশ হয়ে স্বদেশে ফিরেন। বর্তমানে তার বয়স ৪০ এর কোটায়। তিনি বলেছেন, “যদিও তিনি কলকাতা পছন্দ করেন। কিন্তু জীবিকার জন্য তিনি আর কোনদিনও ভারতে যাবেন না।

ওই রিকশা চালকের ভাষায়, “এখানে কামাই (আয়) বেশি। প্রতিদিন আট ঘণ্টা কাজ করলে এখানে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করা সম্ভব।”

দ্বিতীয় ব্যক্তি ঢাকার একজন উবার চালক। বর্তমানে তার বয়স ৩০। তিনি শোনালেন আরও মজার গল্প।

উবার চালক বলেন, “তিনি বেশ কয়েকবার কলকাতা ভ্রমণ করেছেন। সেখানে তিনি গরীব অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছেন- পশ্চিমবঙ্গে সারাদিন পরিশ্রম করে ১০০ রুপি আয় করাই কষ্ট। অথচ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল দিনাজপুরেও দৈনিক হাজিরায় ৭০০ টাকা দিয়েও একজন শ্রমিক পাওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার।”

দেবদীপ তার নিবন্ধে বলেছেন, এসব তথ্য এটাই প্রমাণ করে গরীব বাংলাদেশিরা এখন আর অবৈধভাবে ভারতে অর্থ আয়ের জন্য যান না। বাংলাদেশিদের নিয়ে এই ধারণাটা ভুল।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে কালাম

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য