১২ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৪:১৪

আলু খেতে লেট ব্লাইট রোগ

ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় বগুড়ার কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

আলু খেতে লেট ব্লাইট রোগ

শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলায় ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা আলু আবাদ করেছেন। তবে এর মধ্যে অনেক জমির সান-সাইন জাতের আলু খেত লেট ব্লাইট/নাবী ধ্বসা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার বিহার, ধামাহার, গুজিয়া, মোকামতলা, বুড়িগঞ্জ, আটমুল, নয়াপাড়া গ্রামের কৃষকরা জানান, কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আলু গাছে লেট ব্লাইট রোগ দেখে দিয়েছে। আলু গাছে পচন ধরেছে। এ জাতের আলু ৭০ দিনের ফসল। ইতোমধ্যে আলু গাছের বয়স ৪০-৪৫ দিন হয়ে গেছে। ওষুধ স্প্রে করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছি। আলু বীজ, সারসহ প্রতি বিঘায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। লেট ব্লাইট রোগের কারণে কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে। কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে বগুড়ায় ৫৩ হাজার ২১৫ হেক্টর জমি থেকে ১২ লাখ ২৪ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়। আলু উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা ধরা হয় বগুড়াকে। আলু সারা বছর পর্যায়ক্রমে বিক্রির জন্য এখানে ৩৭টি হিমাগার গড়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আলু চাষের মৌসুমের শুরুতে দাম বৃদ্ধি পায়। এ কারণে অনেক কৃষকই বেশি দাম পাওয়ার আশায় একটু আগেই আলু চাষ শুরু করেন। তবে শীত আর ঘন কুয়াশায় আলুর খেতে রোগ বালাই দেখা দিচ্ছে। মাঠে মাঠে আলুর গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। পাতা ও কাণ্ড হলুদ হয়ে পচন ধরে যাচ্ছে। কৃষকরা জানান, চাষের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর জমিতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। তবে গাছ বড় হওয়ার পর এখন ঘন কুয়াশায় লেট ব্লাইট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে গাছ নষ্ট হচ্ছে। অনেক স্থানেই গাছের পাতা কুকড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষিবিভাগের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করে কিছুটা প্রতিকার পেলেও কুয়াশা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, শীতকালীন ফসলে অতীতেও রোগ বালাই ছিল, এখনো আছে। এ বছর আলু খেতে লেট ব্লাইট রোগ বা পাতা পচন রোগ দেখা দিয়েছে সে বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষিবিভাগ কাজ করছে। বগুড়ার ১২টি উপজেলার গ্রামে গ্রামে আলু খেতে রোগের বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক করা হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

সর্বশেষ খবর