Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ মার্চ, ২০১৯ ১৫:১০
আপডেট : ২৫ মার্চ, ২০১৯ ১৫:২৫

সিলেট যাত্রীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস বিমানের

সিলেট ব্যুরো

সিলেট যাত্রীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস বিমানের

সিলেটে এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) এর পূর্ব ঘোষিত ছয় দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার আটাব নেতৃবৃন্দের দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মবিরতি ও নগরীর বাংলাদেশ বিমানের কার্যালয়ের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। একপর্যায়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা আন্দোলনরত আটাব, মেট্রোপলিটন চেম্বার ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের নিয়ে বৈঠকে বসে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় কর্মসূচি মূলতবি ঘোষণা করা হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সোমবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সিলেট নগরীতে বাংলাদেশ বিমানের কার্যালয়ের সামনে গণঅবস্থান নেওয়ার কথা ছিল আটাব সিলেট জোনের নেতৃবৃন্দ। সকাল ১১টা থেকে বিমানের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও অভিযোগ তুলে ধরে এর প্রতিকার দাবি করেন আটাব নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্টস, সংগঠন এবং প্রবাসী নেতৃবৃন্দ। দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তাদের অনুরোধে আন্দোলনরত আটাব, মেট্রোপলিটন চেম্বার ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের নিয়ে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ বিমান সিলেট অফিসের ব্যবস্থাপক হেলাল উদ্দিন। দীর্ঘ ৩০ মিনিটের বৈঠকে তিনি আন্দোলনরতদের অভিযোগ শুনেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি সব দাবি দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

তিনি নেতৃবৃন্দের জানান, আগামী ৮ দিনের মধ্যেই বিমান বাংলাদেশের সেলস এন্ড মার্কেটিং (বিক্রয় ও বিপণণ) পরিচালক সিলেটে এসে আটাব, মেট্রোপলিটন চেম্বার ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দের সাথে বসে সকল দাবি দাওয়া শুনবেন।

বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে কর্মসূচি আগামী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত মূলতবি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৬ মার্চ আটাব, সিলেট জোনের পক্ষ থেকে বিমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ওইদিন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমান সিলেটের যাত্রীদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছে। বিমানের যাত্রীর প্রায় ৮০ ভাগই সিলেটের প্রবাসী হলেও তাদেরকে মানসম্মত সেবা দেয়া দূরে থাক, উল্টো হয়রানি করে আসছে লাল-সবুজের পতাকাবাহী বিমান। বিমানের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে সুযোগ করে দিতেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন আটাব নেতৃবৃন্দ। এর প্রেক্ষিতে তারা ঘোষণা দিয়ে কর্মবিরতি ও গণঅবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আটাব।

এ বিষয়ে আটাব সিলেট জোনের সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল জানান, আমরা সিলেটের যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে বিমান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলাম তা বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে মূলতবি ঘোষণা করা হলো।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আশ্বাসকৃত দাবীগুলো পূরণ করা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে আটাব নেতৃবৃন্দ।

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি হাসিন আহমদ জানান, এ আন্দোলন বা দাবিসমূহ শুধু আটাবের নয়,বরং গোটা সিলেটবাসীর। দাবি আদায় না হলে মেট্রোপলিটন চেম্বারও আন্দোলনে মাঠে নামবে বলে হুশিয়ারি প্রদান করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রানা ফেরদৌস জানান, সিলেটের প্রবাসীরা বিমানে চরম হয়রানির শিকার হন। এমনকি উমরাহ ও হজ যাত্রীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ। প্রবাসিরা দীর্ঘদিন ধরে এসব দাবি দাওয়া আদায়ে সোচ্চার। এসব দাবি দাওয়া মেনে নেওয়া না হলে প্রবাসী নেতৃবৃন্দও নতুন করে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে জানান তিনি।

কর্মসূচিতে আটাবের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দসহ সিলেটের বিভিন্ন ট্রাভেলস ব্যবসায়ী, এজেন্টসসহ সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের নেতৃবৃন্দ এবং সিলেটের প্রবাসী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আটাবের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- কমন ভাড়ায় সিলেটের যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বরাদ্দ রেখে সপ্তাহে একটি সিলেট-জেদ্দা-সিলেট ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা ও সিলেটের যাত্রীদের জন্য ভাড়া বৈষম্য দূর করা, সিলেট-জেদ্দা-সিলেট, সিলেট-দুবাই-সিলেট, সিলেট-লন্ডন-সিলেট ফ্লাইটে সিলেটের প্রবাসীদের অগ্রাধিকার প্রদান, ‘প্রবাসীরা সরাসরি ফ্লাইটে সিলেট আসতে হলে বেশি ভাড়া দিতে হবে’ বিমানের বিক্রয় ও বিপণন পরিচালকের এমন বক্তব্য প্রত্যাহার, সপ্তাহে ধার্যকৃত জেদ্দা-সিলেট দুইটি ফ্লাইটে সিলেটের ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বরাদ্দ রাখা, ঢাকা থেকে গ্রুপ বুকিং সিস্টেম বাতিল করা, সিলেট থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের উন্নতমানের হোটেলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা এবং সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য