শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:১৪

অপরিকল্পিত উন্নয়নে ভোগান্তি সিলেটে

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

অপরিকল্পিত উন্নয়নে ভোগান্তি সিলেটে
সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার সড়কে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলায় দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী -বাংলাদেশ প্রতিদিন

সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার সড়কে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলায় দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী -বাংলাদেশ প্রতিদিন

সিলেট নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার-কোর্টপয়েন্ট। প্রায় এক বছর ধরে সড়কটিতে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। কখনো রাস্তা সম্প্রসারণ আবার কখনো ড্রেনেজ সংস্কার। কখনো হচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ। ফলে রোদে ধুলাবালি আর বৃষ্টিতে কাদামাটিতে প্রায় এক বছর ধরেই নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে এমন দুর্ভোগ। এই অবস্থা কেবল চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার-কোর্টপয়েন্ট সড়কেরই নয়, প্রায় পুরো নগরীতেই বছরজুড়ে এভাবে চলছে। 

অথচ পরিকল্পিতভাবে এসব কাজ করলে নগরবাসীকে এত দীর্ঘ সময় দুর্ভোগে পড়তে হতো না বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সিলেট নগরীতে প্রায় এক বছর ধরে চলছে রাস্তা সংস্কার, সম্প্রসারণ ও রাস্তার পাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ। কোনো পরিকল্পনা ছাড়া কাজ শুরু করায় একই স্থানে বছরে একাধিককার খোঁড়াখুঁড়ি করতে হচ্ছে। কখনো সম্প্রসারণের জন্য আবার কখনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য রাস্তা কাটা হচ্ছে। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য উভয় পাশের স্থাপনা ভেঙে ড্রেন সরালেও বর্ধিত অংশ পিচ না করে ফেলে রাখা হচ্ছে মাসের পর মাস। এ ছাড়া রাস্তা সম্প্রসারণ হলেও রাস্তার মাঝে থেকে যাচ্ছে বিদ্যুতের খুঁটি। এতে রাস্তা সম্প্রসারণের সুবিধাভোগের চেয়ে দুর্ঘটনার আতঙ্ক চেপে বসে নগরবাসীর মাঝে।  

ইলেকট্রিক সাপ্লাই-আম্বরখানা-চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার-কোর্টপয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের বিদ্যুতের লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার জন্য প্রায় দুই বছর ধরে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। রাস্তার এক পাশে বিদ্যুৎ বিভাগের খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হলে শুরু হয় সিটি করপোরেশনের রাস্তা সম্প্রসারণ বা ড্রেনেজের কাজ। এতে ভোগান্তির শেষ নেই এ সড়কে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির কারণে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আর বৃষ্টি হলে তো শেষ নেই দুর্ভোগের। কাদামাটিতে সব একাকার। ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে গেলেও ঘটছে দুর্ঘটনা। 

এ ছাড়া রাস্তার পাশে দিনকে দিন নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় রাস্তা দিয়ে পায়ে হাঁটা দুষ্কর হয়ে পড়ে। ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রীর জন্য যানজটও লেগে থাকে। আর এসব কারণে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন রাস্তার পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা ছাড়াও সংস্কারের অভাবে সিলেট নগরীর পাঠানটুলা-মদিনা মার্কেট-আখালিয়া, বন্দরবাজার-সোবহানীঘাট-উপশহরসহ বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল বলেন, ‘সিলেট নগরীর রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু কোন পরিকল্পনা ছাড়াই চলছে এসব কাজ। কোন কাজ কখন শুরু করে কতদিনের মধ্যে শেষ করলে মানুষের অসুবিধা কম হবে এসব নিয়ে সিটি করপোরেশনের কোন মাথাব্যথা নেই।

সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, নগরীর বিভিন্ন সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ হয়েছে। কয়েকটি সড়কের সম্প্রসারিত অংশে এসপল্টের (পিচের) কাজ বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের খুঁটি না সরানোর কারণে এসপল্টের কাজ করা যাচ্ছে না। জিন্দাবাজার সড়কে বিদ্যুৎ বিভাগের আন্ডারগ্রাউন্ড প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় বৃষ্টির সময় মানুষের কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর