Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৯ ১২:২৯

ধর্ষণ ও গর্ভপাতের জবানবন্দী দিল কিশোরী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

ধর্ষণ ও গর্ভপাতের জবানবন্দী দিল কিশোরী
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীতে ১৪ বছরের এক কিশোরী তাকে ধর্ষণ এবং গর্ভপাতের জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে ওই কিশোরী জানিয়েছে, যখন গর্ভপাত ঘটানো হয় তখন তার গর্ভের সন্তানের বয়স ছিল সাত মাস।

ভুক্তভোগী ওই কিশোরী রাজশাহী নগরীর গোরহাঙ্গা এলাকার এক ব্যক্তির পালিত মেয়ে। পাওয়ার (২২) নামে প্রতিবেশি এক যুবক তাকে ধর্ষণ করেছিল বলে সে তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে। গত সোমবার থেকে অভিযুক্ত যুবক পাওয়ার পলাতক রয়েছেন। পাওয়ারের বাবার নাম আবুল হোসেন।

ওই কিশোরীকে ধর্ষণ এবং গর্ভপাত ঘটানোর বিষয়ে গত সোমবার রাতে পাওয়ার ও তার বোন রিতা খাতুনের বিরুদ্ধে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা হয়। কিশোরীর পালিত বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর আসামি রিতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে এখনও পলাতক রয়েছেন পাওয়ার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই কিশোরীর সঙ্গে শারীররিক সম্পর্ক স্থাপন করে পাওয়ার। এতে ওই কিশোরী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে বেকার হলেও পাওয়ারের সঙ্গে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু পাওয়ার তখন তার সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে আসছিলেন। পরে অবশ্য তিনি বিয়ে করতে রাজি হন। ততদিনে ওই কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্তা। ওই সময় পাওয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্তঃসত্তা অবস্থায় বিয়ে দেওয়া যায় না। তাই ওই কিশোরীর গর্ভপাত ঘটাতে হবে। বিয়ের কথা চিন্তা করে কিশোরীর পরিবারও এতে রাজি হয়।

এরপর গত সোমবার পাওয়ারের বোন রিতা খাতুন ও দুলাভাই সেলিম রেজা ওই কিশোরীকে নগরীর কলাবাগান এলাকার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপর তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে আসার পর রাতে একটি মেয়ে সন্তান প্রসব করে ওই কিশোরী। তখনই বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেয় কিশোরীর পরিবার।

কিন্তু সন্তান প্রসবের পরই পাওয়ারের বোন ও দুলাভাই বিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবকও বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এদিকে জন্ম নেওয়ার ঘণ্টা খানেক পরই নবজাতক সন্তানটি মারা যায়। উপায় না দেখে তখন ওই কিশোরীর বাবা-মা বাড়ির পাশেই শিরোইল পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে সকল বিষয় জানায়।

পুলিশ তখন পাওয়ারের ভাই রঞ্জু ও বোন রিতাকে ফাঁড়িতে আটক করে আনে। খবর পেয়ে ফাঁড়িতে যান স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম মিলু। তিনি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে রঞ্জু ও রিতাকে ফাঁড়ি থেকে নিয়ে আসেন। কিন্তু তিনিও বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে রাতেই ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। 

মামলায় পাওয়ার এবং তার বোন রিতাকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ওই কিশোরীর মৃত সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। গত মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্তও করা হয়। এছাড়া এদিন রিতাক গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে বুধবার পুলিশ ওই কিশোরীকে আদালতে নিয়ে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার জবানবন্দি রেকর্ড করায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল হাই বলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান তার খাস কামরায় ওই কিশোরীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। প্রধান অভিযুক্ত পাওয়ারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

বিডি-প্রতিদিন/ তাফসীর আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য