শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৪৭

ব্যবসায়ী ও আমলায় সংসদ ভরে যাচ্ছে : নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যবসায়ী ও আমলায় সংসদ ভরে যাচ্ছে : নাসিম
মোহাম্মদ নাসিম

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, জাতীয় সংসদে রাজনীতিবিদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও অবসরে যাওয়া সেনা কর্মকতায় সংসদ ভরে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের জন্য এটা শুভ নয়। সংসদ হবে সমস্ত রাজনীতিবিদের জন্য, অন্য কারও জন্য এই সংসদ হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী যখন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলেন, তখন এই ব্যবসায়ী-আমলারা কোথায় ছিলেন? বরং অনেককে তখন দেখেছি আইয়ুব খানের পক্ষাবলম্বন করতে।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয় পার্টি (জেপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি। আলোচনায় অংশ নেন ১৪ দল শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহিম, এজাজ আহমেদ মুক্তা, রুহুল আমিন জাতীয় যুবসংহতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ।

১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, সংসদে এতো কোটিপতি দেখে মাঝেমধ্যে খুব কষ্ট লাগে। আমাদের দলসহ সব দলেই এটা রয়েছে। তারা সারা বছর আমলা কিংবা সরকারি কর্মকর্তা হয়ে থাকবেন, আবার হঠাৎ এসে এমপি হয়ে যাবেন, বড় বড় ধনী ব্যবসায়ীরাও এমপি হয়ে যাচ্ছেন। দিন দিন সংসদে তাদের আধিক্য হয়ে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের ভুলত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু তারাই লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, তারাই এই দেশ স্বাধীন করেছেন। রাজনীতিবিদরা আছেন বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশে জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে। কাজেই রাজনীতিবিদ ছাড়া দেশ চলতে পারে না। 

১৪ দল সমন্বয়ক আরও বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আলোকিত হয়েছে। খালেদা জিয়ার আমলে বাংলাদেশ ছিল অন্ধকার, তখন ছিল বাংলা ভাইয়ের যুগ। আর শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সেই জঙ্গিবাদ দমন করেছে। পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। আর্থসামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু কষ্ট পাই যখন দেখি এই বাংলাদেশে নারী-শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে, ধর্ষিত হচ্ছে। কোন বাংলাদেশ এটা? বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে আমরা ধর্ষকদের ছাড় দিতে পারি না। ঘরে, রাজপথে প্রত্যেক জায়গায় এই ধর্ষক-দানবদের রুখে দাঁড়াতে হবে। মুজিববর্ষে শুধু মুজিব আর আওয়ামী লীগের বন্ধনা করলেই হবে না, নারী-শিশু ধর্ষকদের ধ্বংস করে দিতে হবে। তা নাহলে সবকিছু স্লান হয়ে যাবে।
 
জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, উন্নয়নশীল বিশ্বে রাজনীতি পথ হারিয়ে ফেলছে। তারা ব্যবসায়ী-আমলা সবার সাথেই হাত মেলান, এটা দুঃখের বিষয়। আমাদের রাজনীতির জন্য আমরা এখন পর্যন্ত বিচার-বিশ্লেষণ করে সঠিক রাস্তা ঠিক করতে পারিনি। বিশেষ করে, নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত ও উন্নয়নশীল দেশে এই আঁকাবাঁকা রাস্তা সোজা করা দরকার। কিন্তু সেই সময় আমাদের নেই। 

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকবে। রাজনীতিবিদদের হাতেই আছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি রাজনীতিবিদ নন? 

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, রাজনীতিতে ব্যবসায়ী-আমলারা এসেছেন, একথা আজ প্রায়ই শোনা যায়। সংবিধানে মন্ত্রিসভার ১০ শতাংশ টেকনোক্র্যাটদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এটা কেন, কেউ সেটা চিন্তা করেন না। এখন আমাদের যে গণতন্ত্র-এটা কি? এটা কি ধনতন্ত্রবাদের জন্য গণতন্ত্র, নাকি কমিউনিস্ট কিংবা সমাজতন্ত্র যারা করেন তাদের জন্য গণতন্ত্র। 


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য