শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর, ২০২০ ১৫:৪৭
আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০২০ ১৫:৫৩

রংপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ, আরও দুজন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ, আরও দুজন গ্রেফতার
প্রতীকী ছবি

রংপুরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে লালমনিরহাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-লালমনিরহাট সদরের পূর্ব মাজাপাড়া এলাকার করি মাহমুদের ছেলে বাবুল হোসেন (৩৮) এবং পূর্ব থানা পাড়ার মৃত কাচু মিয়াার ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৪০)।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এদিকে, গণধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সদ্য চাকরি থেকে বরখাস্ত এএসআই রায়হানকে এখনো গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

ধর্ষণের এই মামলাটির তদন্তভার পিআইবি’র কাছে থাকলেও রায়হানকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিআইবি। 

এর আগে, ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে সুমাইয়া আক্তার মেঘলা, সুরভি আক্তার শম্পা নামে দুই নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা এখন পিআইবির হেফাজতে রয়েছে।

রবিবার সকালে আরপিএমপি হারাগাছ থানা এলাকার কেদারের পুলি নামকস্থানে একটি ভাড়া বাসায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ওই মামলায় গ্রেফতার মেঘলা ও শম্পা নামের দুই নারীকে রংপুর চীফ জুডিশিয়াাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে।

পিবিআই ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলাম। পরিচয়ের সময় রায়হানুল তার ডাক নাম রাজু বলে জানান ওই ছাত্রীকে। প্রেমের সূত্র ধরে গত শুক্রবার ওই ছাত্রীকে ক্যাদারের পুল এলাকার ডা. শহিদুলাহ মিয়ার ভাড়াটিয়া সুমাইয়া আক্তার মেঘলা ওরফে আলেয়াার বাড়িতে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন রায়হানুল। 

পরে গত রবিবার ভাড়াটিয়া মেঘলা ওরফে আলেয়া ও তার সহযোগী সুরভি আক্তারের সহায়তায় আরও দুজন তাকে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে  রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় মেঘলা বেগমকে আটক করে পুলিশ। পরে রাতে আরেক সহযোগী সুরভিকেও আটক করা হয়। 

সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত বাবুল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদকে রমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীর মুখোমুখি করা হলে ওই ছাত্রী দুই ধর্ষককে শনাক্ত করেছে। 

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পুলিশ সদস্য রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজুসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে  ওই রাতে  অসুস্থ ওই ছাত্রীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করায় পুলিশ। সোমবার মামলাটি হারাগাছ থানা থেকে রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়।

রংপুর পিবিআই পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন জানান, অধিকতর তদন্তের স্বার্থে রায়হান এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাই তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

তিনি আরো জানান, ধর্ষণের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দিলে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর