শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মে, ২০১৯ ২২:৪৯

বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে চলে গেল সন্তান

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

প্রেস ক্লাব মোবাইল মার্কেটের গেটের সামনে পড়ে আছেন আশি ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা হামিদা। চোখে-মুখে রাজ্যের হতাশা। শরীরের কাপড়টিও অপরিষ্কার। দেহের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে রগগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যেখানে তিনি শুয়ে আছেন এর পাশেই দোকান করতেন বৃদ্ধার স্বামী নাঈমুল্লাহ। রবিবার সেখানেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পড়ে থাকেন ওই বৃদ্ধা। ফেলে যায় তারই বড় মেয়ে পলি।

অভুক্ত হামিদা কথা বলার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছেন। বিরবির করে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষদের বলছেন, ‘বাবা আমার একটা ব্যবস্থা কইরা দেন, আমি কই যামু, রাতে চোখে দেহি না, আমার তো কেউ নাই।’ তখন চোখের জ্বলে গাল ভিজে একাকার। বৃদ্ধা হামিদা খাতুন বলেন, ‘রবিবার সকালে উঠে হাত-মুখ ধোয়ার পর একটা রুটি খাওয়াইছে মেয়ে। এর পর বলে চল, আইজ তরে মমসিং থুইয়া আসব। আগে আমারে অনেক দেখছে, ইদানিং কের লাইগা আমার লগে এমডা লাগাইছে। সে কয় তুই আমার মা না, আমি তোর মাইয়া না। আমারে কয় এইহানে বইয়া বইয়া খাস, তোর বাপ-দাদার কামাই, কিছু দিছস আমারে। এই কয়ে আমারে গাড়িত তুলে এইহানে রাইখা চইলা গেছে।’ তিনি জানান, তার মেয়ের নাম পলি। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে একটি চায়ের দোকান রয়েছে জামাতা আলমগীরের। স্থানীয় পান দোকানি সুজন জানান, ‘মধ্য বয়সী এক মহিলা একটি অটোরিকশা করে এ বৃদ্ধাকে এখানে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও পরিবারের কেউ নিতে আসেনি।’

 তিনি জানান, এ মহিলার স্বামী নাঈমুল্লা এক সময় শহরের সিকে ঘোষ রোড  এলাকায় পান-সিগারেটের দোকান করতেন। তিনিও গত হয়েছেন প্রায় এক যুগ আগে। এর পর থেকে স্বামীর সূত্রে হামিদাও সিকে ঘোষ রোডের একটি মার্কেটের সামনে বসে সিগারেট বিক্রি করতেন। বছর পাঁচেক আগে বার্ধ্যকের ভারে আশ্রয় মেলে বড় মেয়ে পলির কাছে। সেখানে লাঞ্ছনা, অপমান আর মারধর ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। ছোট মেয়ে মলিও খবর নেয় না। রবিবার সকালে পলি সিকে ঘোষ রোডের একটি মার্কেটের সামনে ফেলে রেখে যায় মাকে। তবে সন্ধ্যার পর বৃদ্ধা হামিদার ঠাঁই হয় প্রেস ক্লাব মার্কেটের পরিছন্নকর্মী আঁখির পাটগুদামের বাসায়। আঁখি বলেন, একজন বৃদ্ধা এভাবে রাস্তায় পড়ে থাকবে, এটা আমার কাছে খারাপ লাগছে। বিবেকের তাড়নায় বাসায় নিয়ে যাচ্ছি।


আপনার মন্তব্য