Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মে, ২০১৯ ০১:৪২

রমজানে ৯৮ শতাংশ যাত্রী নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছেন

কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজানে ৯৮ শতাংশ যাত্রী নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছেন

ঢাকায় গণপরিবহনের ৯৫ শতাংশ যাত্রী রমজান মাসে প্রতিদিন যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়জনিত নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছেন ৯৮ শতাংশ যাত্রী। গতকাল বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা- কমলাপুর, মগবাজার, শনিরআখড়া, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর-১০, মহাখালী, আগারগাঁও, ধানমন্ডি, বনানী, বারিধারা ঘুরে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণকালে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ যাত্রী চলন্ত বাসে ওঠানামা করতে বাধ্য হন। সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও ৩৬ শতাংশ যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। হয়রানির শিকার হলেও অভিযোগ কোথায় করতে হয় জানেন না ৯৩ শতাংশ যাত্রী। তবে ৯০ শতাংশ যাত্রী মনে করেন, অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না বলেই তারা অভিযোগ করেন না। এসব ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। সিএনজির ভাড়া প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নগরীতে চলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শতভাগ চুক্তিতে চলছে। এতে মিটারের তিন থেকে চার গুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীদের পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হন না ৯৩ শতাংশ অটোরিকশা চালক।

অনেকটা কাকতালীয়ভাবে অটোরিকশা চালকের পছন্দের গন্তব্যে মিলে গেলে যাত্রীর গন্তব্যে যেতে রাজি হন তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইফতারের আগমুহূর্তে যানজট, গণপরিবহন সংকটের কারণে নগরীর সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অফিস ছুটি শেষে ইফতারকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী যাত্রীকে টার্গেট করে নগরীতে চলা প্রায় সব বাস এখন রাতারাতি সিটিং সার্ভিস বনে যায়। এসব বাস বিশেষত ইফতারের সময় যাত্রীদের ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দ্রুত গন্তব্যে যাত্রা করে। বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নগরীতে চলা বাস-মিনিবাসের প্রায় ৯৭ শতাংশ সিটিং সার্ভিসের নামে দরজা বন্ধ করে যাতায়াত করছে। এতে নগরীর মাঝপথের বিভিন্ন স্টপেজের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাসগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, গণপরিবহন নৈরাজ্যে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে রাইড শেয়ারিংয়ের নামে চলা মোটরবাইকগুলো। নগরীজুড়ে দেখা গেছে, বিকাল ৪টার পর থেকে অ্যাপের পরিবর্তে মৌখিক চুক্ততে তিন থেকে চার গুণ অতিরিক্ত ভাড়ায় মোটরবাইকগুলো যাত্রী বহন করছে।


আপনার মন্তব্য