শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:২০

ফুলেল শ্রদ্ধায় অজয় রায়ের শেষ বিদায়

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

ফুলেল শ্রদ্ধায় অজয় রায়ের শেষ বিদায়
ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশে পদকপ্রাপ্ত পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক অজয় রায়কে শেষ বিদায় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক অজয় রায়কে শেষ বিদায় জানালেন সুহৃদ, স্বজন, শিক্ষার্থী ও সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের বরেণ্যরা। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর হাসপাতালটির হিমাগারেই রাখা হয় তার মরদেহ। এরপর সেখান থেকে গতকাল সকাল সাড়ে        ১০টায় নেওয়া হয় বেইলি রোডের বাসভবনে। আর সেখান থেকে সকাল সাড়ে ১১টায় অজয় রায়ের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলিতে বরেণ্য এই পদার্থবিজ্ঞানী ও অধ্যাপকের মরদেহ ফুলে ফুলে ঢেকে দেয় তার সুহৃদরা। এ পর্বের শুরুতেই ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অজয় রায়ের নাগরিক শ্রদ্ধানুষ্ঠান।

 

এরপর আরও শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ সামাদ, চিত্রশিল্পী আবুল বারক আলভী, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম, জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতি শামসুজ্জামান খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম প্রমুখ।

 

আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান দলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, শামসুন্নাহার চাঁপা, সুজিত রায় নন্দী, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। বাংলা একাডেমির পক্ষে মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির পক্ষে সভাপতি এ এস এম মাকসুদ কামাল, ওয়ার্কার্স পার্টি, যুব মৈত্রী, ঐক্য ন্যাপের পক্ষে পংকজ ভট্টাচার্য, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, বাসদ (খালেকুজ্জামান), হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, আইন ও সালিস কেন্দ্র, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জাতীয় কবিতা পরিষদ, ন্যাপ, গণসংহতি আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পরলোকগত অধ্যাপক অজয় রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

অজয় রায়ের ছোট ছেলে অনুজিৎ রায় বলেন, আমার দাদা অভিজিৎ রায়ের হত্যকারীদের বিচার হলে বাবা স্বস্তিবোধ করতেন। সেই বেদনা নিয়েই বাবা চলে গেলেন। পিতা হারানোর বেদনা আমি মর্মে মর্মে অনুভব করছি। তিনি ছিলেন আমার পিতা। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সর্বোপরি একজন মুক্তচিন্তার মানুষ।

সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, তিনি আপাদমস্তক একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দ্বারা সংঘটিত সব হত্যাকা-ের তিনি প্রতিবাদ করতেন। সেটা তার ছেলে অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর আগেও।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, মানুষ হিসেবে তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে মানবতার পক্ষে নিজের শক্ত অবস্থান রেখেছিলেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানচর্চায় তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।

তার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সবশেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শহীদ মিনারের শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে অজয় রায়ের মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। সেখানে বিভাগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এই পদার্থবিজ্ঞানীর মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে। এরপর তার শেষ ইচ্ছানুযায়ী চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার জন্য মরদেহটি দান করা হয় বারডেম হাসপাতালে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর