শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০১:৫১

বঙ্গবন্ধু হত্যার মাস্টারমাইন্ডদের মুখোশ উন্মোচনে তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি

রাষ্ট্রপতির ভাষণে ওপর আলোচনায় এমপিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাে র নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের মুখোশ জাতির সামনে তুলে ধরতে অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, একাত্তরের পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছে। জয়বাংলার পরিবর্তে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ চালু করেছে। এর মাধ্যমে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থমকে দিয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথেই বাংলাদেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। তবে জনগণের ট্যাক্সের টাকার অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে সরকারকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তারা বলেন, চলমান অভিযান     অব্যাহত রাখলে অসৎ ব্যক্তি ও কালো টাকার মালিকরা রেহাই পাবে না। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশেন গতকাল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী, সরকারি দলের অসীম কুমার উকিল, মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ, জয়া সেনগুপ্তা, মোছলেম উদ্দিন আহমদ, শাহে আলম, কাজিম উদ্দিন ফিরোজ, জুয়েল আড়েং প্রমুখ।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, মুজিববর্ষে নতুন প্রজন্মের সামনে ইতিহাসের নৃশংসতম ও জঘন্য হত্যাকাে র নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করতে হবে। জীবিত অথবা বেঁচে থাকা যেই-ই হোক, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাে র সঙ্গে কারা কারা জড়িত, নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারী কারাÑ তা একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করুন। তখনকার সেনাপ্রধান শফিউল্লার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শেখ সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজে ফোন করে শফিউল্লাহকে আর্মি পাঠাতে বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাে র সময় সহযোগিতা চাওয়া হলে তৎকালীন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ সময় জিয়াউর রহমান যে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল তার বেশ কিছু প্রমাণও দেন শেখ সেলিম। জাসদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতি বিপ্লবীরা সিরাজ শিকদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুকে উৎখাত করার চেষ্টা করে। কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে গণবাহিনী গঠন করা হয়। ৮ জন এমপিকে হত্যা করা হয়, ব্যাংক লুট করা হয়, পাটের গুদামে আগুন দেওয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথেই বাংলাদেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। তবে জনগণের ট্যাক্সের টাকার অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। চলমান অভিযান অব্যাহত রাখলে অসৎ ব্যক্তি ও কালো টাকার মালিকরা রেহাই পাবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী পিয়াজ সংকট বিষয়ে বলেন, ‘নিজ দেশে উৎপাদন ঘাটতি হওয়ায় হঠাৎ করেই ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এতে সংকট সৃষ্টি হয়। আমরা দ্রুত পিয়াজ আমদানি করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। এবার যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এ বছর অন্তত ২০ ভাগ বেশি পিয়াজ উৎপাদন করতে পারব।’

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অসীম কুমার উকিল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ দমনের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। অতীত সরকারপ্রধানরা ক্ষমতায় থেকে নিজেদের ভাগ্য গড়েছেন, তাদের দুর্নীতি সারা বিশ্বে প্রমাণিত।

পুলিশের সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের আলোচিত ও সমালোচিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুলিশ বাহিনী একটি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা। নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়নে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা আনতে হবে। তাহলেই পুলিশ বাহিনী জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে। জনগণের পুলিশ হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর