শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০

দুদকের ভয়ে লাপাত্তা রাজশাহীর ঘুষখোর সাব-রেজিস্ট্রার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

দুদকের ভয়ে লাপাত্তা রাজশাহীর ঘুষখোর সাব-রেজিস্ট্রার

রাজশাহী সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ কেলেঙ্কারি জানাজানি হলে দুদকের ভয়ে সাব-রেজিস্ট্রার জামিনুল হক প্রায় সাড়ে তিন মাস লাপাত্তা। তিনি পাকা ঘুষখোর- এটা চাউর হওয়ার পর গত ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল জামিনুলের অফিসে হানা দেয়। তখন জামিনুল অফিসে ছিলেন না। সেদিন দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছরের ২৮ নভেম্বর থেকে জামিনুল অফিসে আসেননি। সেদিন অসুস্থতার দরখাস্ত দিয়ে গেছেন তিনি। এদিকে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকেও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে জামিনুলকে পাওয়া যায়নি। সেখানকার কর্মচারীরাও তার অনুপস্থিতির বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। অফিসে জেলা রেজিস্ট্রার ইলিয়াস হোসাইনকেও পাওয়া যায়নি। তার দফতরের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, রবিবার থেকে তিনিও ছুটিতে। পুরো সপ্তাহ ছুটি কাটাবেন। আগামী রবিবার থেকে তাকে অফিসে পাওয়া যাবে। ৫ মার্চ অভিযানের পর দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাজশাহী মহানগরীর আলম ফিলিং স্টেশনের মালিক আজিজুল আলমের চারটি দলিল সম্পাদনে ৪৮ হাজার টাকা ঘুষ নেন সাব-রেজিস্ট্রার জামিনুল হক। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি জানাজানি হলে পরের দিনই তিনি অসুস্থতার দরখাস্ত দিয়ে চলে যান। আর অফিসে আসেননি। তাকে দুদক খুঁজছে।

দুদক আরও জানায়, জামিনুল হক প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে রাজশাহী পর্যটন মোটেলে ভিআইপি লাউঞ্জে অবস্থান করেন। বিমানে ঢাকায় যাতায়াত করেন। তিনি পর্যটন মোটেলেই কমিশনে দলিল সম্পাদন করতেন। আর পকেটে পুরতেন ঘুষের টাকা। এ বিষয়ে কথা বলতে জামিনুলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামিনুল হক এর আগে ঢাকার ধানমন্ডির সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন। তারও আগে ছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়। এসব এলাকায়ও ঘুষবাণিজ্যে ‘পারদর্শী’ হিসেবে তার দুর্নাম আছে। শ্রীপুরে থাকাকালে ঈদের বোনাস হিসেবে তিনি দলিল প্রতি সাত হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এতে দলিল লেখকরা রাজি না হলে তিনি দলিল সম্পাদন বন্ধ করে দেন। এর জের ধরে সেখানকার দলিল লেখকরা তাকে অবরুদ্ধ রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় জামিনুল হক থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন। এরপরই তাকে শ্রীপুর থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শ্রীপুরে থাকাকালে ফারুক হোসেন নামে একজন এক্সট্রা মেহরাবের মাধ্যমে জামিনুল হক মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতেন। রাজশাহীতে টাকা আদায় করতেন ফিরোজ, শামিম রেজা ও রহিদুল নামে তিন ব্যক্তির মাধ্যমে। টাকা ছাড়া তিনি কোনো কাজেই হাত দেন না। দলিল লেখকদেরও জিম্মি করে হয়রানি করতেন তিনি।

অনিয়ম দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার জামিনুল হক। ঢাকার মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটিতে তার আছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। ধানমন্ডিতেও আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আছে দামি গাড়ি। এ ছাড়া লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মধুপুরে গোল্ডেন গেট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্বত্বাধিকারী তিনি। ঢাকার দুদক তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তদন্ত করছে। এরই মধ্যে রাজশাহী দুদকও তার কার্যালয়ে হানা দেয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জামিনুল প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে অফিসেই আসছেন না। এ অবস্থায় তার কাছে থাকা শতাধিক বালাম বই আটকে আছে স্বাক্ষরের জন্য। এ ছাড়া ৩২৮টি দলিলও পড়ে আছে তার দফতরে। সত্যায়িত নকল কপি না পেয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন জমির ক্রেতারা। তবে তার জায়গায় অন্য একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে এখন কাজ করাচ্ছেন জেলা রেজিস্ট্রার ইলিয়াস হোসাইন।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পলাতক জামিনুলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেগুলোর প্রমাণও পাওয়া গেছে। বিষয়টি কমিশনকে জানানো হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর