শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০৯

রাজশাহী নগরীর পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছে কিছু বালুমহাল

তিনটি বন্ধ করা হচ্ছে ১৪ এপ্রিল

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

রাজশাহী নগরীর পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছে কিছু বালুমহাল

হাজার কোটি টাকার হাইটেক পার্কসহ তিন মেগা প্রকল্প হুমকিতে পড়ায় রাজশাহীর দুটি বালুঘাট বন্ধে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর রুলনিশি জারি করেছিল হাই কোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত বছরের ৯ এপ্রিল এ আদেশ দিয়েছিল। হাই কোর্ট পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে ভূমি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ও পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছিল। রাজশাহীর নবগঙ্গা এলাকার বাবর আলীর করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্ট এ আদেশ দিয়েছে। হাই কোর্টের এ আদেশের পর বালু ব্যবসায়ীরা এ রুলের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে গত এক বছর ধরে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তবে আগামী ১৪ এপ্রিল ১ বৈশাখ থেকে নগরীর তিনটি বালুঘাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জানান, পদ্মা নদী থেকে যথেচ্ছভাবে বালু উত্তোলন করায় পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। এ কারণে আগামী বাংলা সালে পদ্মার তিনটি বালুমহাল ইজারা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি বাড়তেও পারে। ওই বালুমহালগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে। হাড়ুপুর থেকে তালাইমারী পর্যন্ত বালুমহালগুলো নগরীর পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসনসূত্র জানান, নগরীর মধ্যে পদ্মার তীরবর্তী হাড়ুপুর ও নবগঙ্গা নামের দুটি বালুমহাল জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে বাংলা ১৪২৬ সালের জন্য মেসার্স রজব আলীকে ইজারা প্রদান করা হয়। কিন্তু ওই দুটি বালুমহাল রাজশাহী মহানগরীতে বাস্তবায়নাধীন হাজার কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক এলাকার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড পদ্মাতীরের ভাঙন রোধে সম্প্রতি ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হাড়ুপুর থেকে নবগঙ্গা এলাকা পর্যন্ত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। একই সঙ্গে পদ্মার উজানে নগরীর উপকণ্ঠ সোনাইকান্দি থেকে রাজশাহীর বুলনপুর পর্যন্ত আরও ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মায় ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করেছে পাউবো। আলোচিত নবগঙ্গা ও হাড়ুপুর বালুমহাল দুটি এসব মেগা প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত। পদ্মা থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু তুলে প্রথমে নৌকায় ভরা হচ্ছে এবং পরে মোটা পাইপের মাধ্যমে বাঁধের ওপর দিয়ে বালু বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক এলাকায় জমা করে রাখা হচ্ছে। এতে তীর সংরক্ষণ বাঁধের ওপর দিয়ে পানিমিশ্রিত বালু নদীতে পড়ায় বাঁধের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের মতো অতি গুরুত্বপুর্ণ প্রকল্পটিও বালুস্ত‚পের একেবারেই কাছে হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের কাজের গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে জনস্বার্থে এ দুটি বালুমহালের ইজারা বাতিল করে বালুমহাল দুটি বন্ধে বাদী বাবর আলী রিট করেছিলেন। নগরীর তালাইমারীতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে পদ্মার গতিপথ রোধ করে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রোধ করতে সেখানে বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন আমিন ট্রেডার্সের মালিক আজিজুল আলম বেন্টু। প্রশাসনের চাপে পরে তা অপসারণ করেন তিনি। ওই বালুমহালটি বন্ধে স্থানীয়রা আন্দোলনও করেছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর